ঝিনাইদহে ধর্ষণের পর শিশু হত্যায় মৃত্যুদণ্ড তাহেরের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৬: ৪৮
আসামি আবু তাহের। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পরে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে।

আবু তাহের কালীগঞ্জের ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এবং বাদুরগাছা গ্রামে ওই শিশুর বাড়ির পাশে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার প্রায় চার মাসের মধ্যে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায় হলো।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নেন আবু তাহের। সেখানে নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করলে আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। শ্বাসরোধে মারা যায় তাবাচ্ছুম। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতে শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আকিলুল ইসলাম ও আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তরিকুল আলম শুনানিতে অংশ নেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে শিশুটির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন। আদালতের রায় তাঁরা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম জানান, মাত্র ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। এতে আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ঝিনাইদহে ধর্ষণের পর শিশু হত্যায় মৃত্যুদণ্ড তাহেরের