পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার পেলেন যাঁরা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৫২
বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন। ছবি: পিএমও

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সবুজায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করেছে সরকার। ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ এবং ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ এর জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে এ পদক তুলে দেন।

পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন ও সবুজায়নের অনন্য উদ্যোগ ‘সামাজিক বনায়ন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া ১৫ জন শ্রেষ্ঠ উপকারভোগীর (১০ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে লভ্যাংশের চেক।

জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন যাঁরা

পরিবেশ সংরক্ষণ, গবেষণা ও সচেতনতা তৈরিতে তিন ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয়েছে ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সিরাজগঞ্জের মো. হাসমত আলী এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নীলফামারীর ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড পদক পেয়েছে। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিগতভাবে নদী রক্ষায় ভূমিকা রাখায় মো. মনির হোসেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস পুরস্কৃত হয়েছে।

এছাড়া পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এই সম্মানজনক পদক লাভ করেছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্বীকৃতি

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে।

ব্যক্তি পর্যায়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী ও প্রাণিপ্রেমী ফয়সাল বীন আজাদ (আদনান আজাদ)। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই পুরস্কার পেয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম)।

বন্যপ্রাণী বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যক্তি পর্যায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদা বেগম এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়া বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী/ইউনিট পর্যায়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে অসামান্য ভূমিকা রাখায় পুরস্কৃত হয়েছে বন অধিদপ্তরের ‘বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ)’।

বৃক্ষরোপণে দেশসেরা যাঁরা

দেশের প্রতিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতটি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে নাটোরের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা পর্যায়ে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড)। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৃক্ষরোপণে প্রথম হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের মো. শফিকুল ইসলাম।

ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি পর্যায়ে সাভারের ফয়সাল নার্সারি, বাড়ির ছাদে বাগান সৃজনে রাজশাহীর শারমিন আক্তার এবং বন বিভাগ কর্তৃক সৃজিত বাগান ক্যাটাগরিতে পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন বিভাগের আমতলী রেঞ্জ প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে। এছাড়া বৃক্ষ সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্ভাবনে খাগড়াছড়ির পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের স্বত্বাধিকারী মাহফুজ আহম্মেদ রাসেল প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

সামাজিক বনায়নে বদলে যাওয়ার গল্প

সরকারি বনভূমির পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য বদলের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে সামাজিক বনায়ন। চুক্তির ভিত্তিতে বাগান সৃজন ও পরিচর্যা করে এবার লাখপতি হয়েছেন অনেক নারী-পুরুষ।

অনুষ্ঠানে সামাজিক বনায়নের শ্রেষ্ঠ উপকারভোগীদের লভ্যাংশের চেক হস্তান্তর করা হয়। নারী উপকারভোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পেয়েছেন টাঙ্গাইলের সখিপুরের মোসা. আমেনা বেগম। দীর্ঘ ২০ বছর বাগান পরিচর্যার পর তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ টাকার চেক।

পুরুষ উপকারভোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পেয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের মো. ফজলুল হক। তিনি পেয়েছেন ৪ লাখ ৯৭ হাজার ২৫০ টাকার চেক। বন বিভাগের এই উদ্যোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত