বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ

টাকার সংস্থান করতে না পেরে জনগণের পকেট কাটছে সরকার: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বক্তৃতা করছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। সংগৃহীত ছবি

টাকার সংস্থান করতে না পেরে সরকার জনগণের পকেট কাটছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় এনসিপি নেতারা বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে সরকার উল্টো দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে।

বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 'দুই বছরের মধ্যে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলার এক মাসের মাথায় সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিল। এই সরকার আসলে পল্টিবাজের সরকার; সকালে এক কথা বলে, দুপুরে এক কথা বলে আর রাতে আরেক কথা বলে। জনগণ যাবে কোথায়?'

তিনি আরও বলেন, 'আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক একটি ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারকে পুশ করছে মূল্যবৃদ্ধির জন্য।' সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনি টাকার সংস্থান করতে পারছেন না বলে আমার গলার ওপর যদি পাড়া দেন, তাহলে আপনার সঙ্গে বাধবে লড়াই।'

সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

সভাপতির বক্তব্যে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, 'তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, নির্বাচনের পরেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এই সরকার "তারেক রহমানের সরকার, লুটপাটের পাহারাদার"। সরকার ক্ষমতায় আসার পর বলেছিল বিদ্যুতের দাম দুই বছরের মধ্যে বৃদ্ধি পাবে না, কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পূর্বে অন্য জ্বালানির দামও বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে বসিয়েছেন যে পূর্বে ঋণখেলাপি ছিলেন, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানে বসিয়েছেন এমন একজনকে, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দুর্নীতির দায়ে পদচ্যুত হয়েছিলেন। তার মানে সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে ফ্যাসিবাদের সময়ের লুটেরাদের নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে, জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করছে।'

জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, 'সরকার দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা নিয়ে নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসে সেই জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছেন, এই প্রতারণার হিসাব জনগণ নেবে কড়ায়-গণ্ডায়। জনগণকে বোকা ভাবলে সরকার ভুলের মধ্যে আছে।'

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, 'এই সরকার নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে চলেছে। সরকার ভাবছে সে একাই যা খুশি তা করে শাসন করে যাবে। অথচ গণঅভ্যুত্থানের শক্তি এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট যদি এই সরকারের পেছন থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে এই সরকার ধপাস করে পড়ে যাবে।'

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি, মহানগর উত্তর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর সেক্রেটারি মুহতাসীম ফুয়াদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত