জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

দাদি-নাতনিকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: ভাগনে গ্রেপ্তার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

ঈশ্বরদীতে গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে খুন ও নাতনিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দাদির আপন ভাগনেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আলোচিত এই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে তারা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. শরিফুল ইসলাম (৩০) নিহত দাদীর আপন ভাগনে ও নাতনির খালাতো চাচা।

রোববার (১ মার্চ) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার জাহিদ। এর আগে সকালে যৌথ অভিযানে অভিযুক্ত শরিফুলকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পাবনা ডিবি ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, দাদি সুফিয়া খাতুনকে (৬৫) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার পর নাতনী জামিলা আক্তার সেতুকে (১৫) তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল এর সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

আসামি শরিফুল ঈশ্বরদীর কালিকাপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। নিহত জামিলা সেতু ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের জয়নাল খানের মেয়ে। সে স্থানীয় কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ির গেটের সামনে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের একটি গম খেতে জামিলা সেতুর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ও ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এই হত্যাকাণ্ডে সুফিয়া খাতুনের আপন ভাগনে শরিফুল জড়িত। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দেয় সে।

এর আগে দাদি-নাতনিকে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর ফুফু মোসাম্মৎ মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অজ্ঞাতনামা আসামি করে শনিবার রাতেই একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামি শফিকুলকে রোববার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম ও জব্দ আলামত। সংগৃহীত ছবি
ঈশ্বরদীতে গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম ও জব্দ আলামত। সংগৃহীত ছবি

বাড়িতে দাদিকে ও তুলে নিয়ে নাতনিকে হত্যা

গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলামের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এসপি আনোয়ার জাহিদ। তিনি জানান, খালার সুফিয়ার বাড়ি যাতায়াতের সুবাদে তাঁর নাতনি সেতুর ওপর কুদৃষ্টি পড়ে শরিফুলের। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সুফিয়া খাতুন ও তাঁর নাতনি সেতু প্রতিদিনের মতো নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১১টার দিকে কৌশলে ওই বাড়িতে ঢোকেন তিনি। দাদি সুফিয়া বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করেন শরিফুল। আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সুফিয়া খাতুন।

পরে ঘরের ভেতর থেকে সেতুকে তুলে নেওয়ার সময় সে চিৎকার করলে তাকে হাতুড়ি ও বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে শফিক। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় সেতুকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পাশের পুকুরে পড়ে যায় দুজন। সেখান থেকে তুলে পাশের একটি খেতে অচেতন সেতুকে ধর্ষণ পরে ফেলে রেখে পালিয়ে যান শফিক।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের কাঠি, একটি কাঠের বাটাম এবং আসামির ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত