রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং হয়নি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৩৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরও ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং হয়নি। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানা গেছে। ফলে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্প থেকে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।

ফুয়েল লোডিং না হওয়ার বিষয় স্বীকার করলেও কথা বলতে রাজি হননি প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন। শুক্রবার মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি সরাসরি কথা বলতে চান। তবে রোববার (১২ এপ্রিল) কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প সূত্র জানা যায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন না পাওয়ায় রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থানান্তর পেছাতে হয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার ফুয়েল লোডিং ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

গত ১৬ মার্চ এক অফিস আদেশে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং উপলক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৭ এপ্রিল ফুয়েল লোডিংয়ের পর জুলাই মাস নাগাদ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণ মাত্রায় কাজ করার কথা। ওই সময় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ফুয়েল লোডিং না হওয়ায় এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।

রূপপুর প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ধাপ হলো রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোড করা। শুধু এই ফুয়েল লোডিং নিয়েই অন্তত চারবার সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে।

প্রথমে জানানো হয়েছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হবে। ফেব্রুয়ারি পেরোলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মার্চ মাসে এই কাজ শুরু হবে। এরপর বলা হয়, মার্চের শেষ দিকে ফুয়েল লোডিং হবে। পরে মন্ত্রী পর্যায়ে জানানো হয়, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

সম্পর্কিত