জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঢাকার ৫টি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ২৩: ০৫
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে বড় ধরনের একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা ৫টি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়া। এসব স্থানে বর্তমানে থাকা টার্মিনালগুলো কেবল ‘সিটি সার্ভিস’ বা নগর পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যালগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর ১২০টি সিগন্যালে এই অটোমেশন ব্যবস্থা চালু হবে। এ ছাড়া শহরজুড়ে যত্রতত্র থাকা বাস কাউন্টারগুলো অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার ওপর থাকা সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সড়কের মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে ফেলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শহরের ভেতরে রেলক্রসিংগুলোতে বর্তমানে বিদ্যমান ম্যানুয়াল ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম’ চালু করা হবে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি সিটি বাসকে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং শহরের ভেতরে যানজটপ্রবণ এলাকায় ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পথচারীদের যাতায়াত সহজ করতে ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ফুটওভারব্রিজগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে প্রস্তাবিত এসব পরিকল্পনার বড় অংশই আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব; শ্রমিক নেতা সামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম; ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন; রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু; বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সম্পর্কিত