মতামত
নাজিয়া আফরিন

বাংলাদেশের ঘরে, আঙিনায়, রাস্তায় এখন আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের পতাকা উড়ছে। গলিতে গলিতে বড় পর্দায় রাত জেগে খেলা দেখার আয়োজন। চায়ের দোকানে মেসি, নেইমার, ভিনিসিউসকে নিয়ে আলোচনার ঝড়। আর এ সবকিছুর মধ্যে আমার মাথায় একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরে আসে—এই ভিড়ে নারীরা কতটা আছেন? আর যদি না-ই থাকেন, তাহলে কেন নেই?
২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের সময় ইউগভ-এর একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, পুরুষরা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মনোযোগ দিয়ে আয়োজনটি অনুসরণ করছিলেন। ফ্রান্সে পুরুষ দর্শকের হার ছিল ২৯%, নারী মাত্র ১০%। যুক্তরাজ্যে পুরুষেরা নারীদের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বেশি খেলা অনুসরণ করছিলেন। পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে এই ব্যবধান আরো প্রকট।
ইউগভ-এর ১৮টি দেশে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, পুরুষেরা নারীদের তুলনায় পেশাদার পুরুষ ক্রীড়া দেখার ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ এগিয়ে—৫৮% পুরুষ বনাম ৩৩% নারী। এমনকি পেশাদার নারী ক্রীড়া দেখার ক্ষেত্রেও পুরুষরাই এগিয়ে। নারীর খেলাও পুরুষ বেশি দেখছেন! কারণটা কি শুধু ‘আগ্রহ’, নাকি এর পেছনে আরো গভীর কোন কারণ রয়েছে।
আমার শৈশবে শহরেও খেলার মাঠ ছিল। সে মাঠে ছেলেরা টুর্নামেন্ট করে ফুটবল খেলতো। আমরা কেবল টিলো-এক্সপ্রেস, বরফ-পানি বা বড়জোর দাঁড়িচা খেলার ডাক পেতাম। কেউ বলেনি যে আমি ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে পারব না। কিন্তু কেউ এটাও বলেনি যে পারবো।
এই ‘না বলা’, কোন মেয়েকে খেলতে ‘না দেখা’—মেয়েদের শেখায় এটাই স্বাভাবিক! মেয়েদের ফুটবল খেলতে হয় না!
গবেষণা বলছে, জেন্ডার সোশ্যালাইজেশন, অর্থাৎ সমাজ থেকে লিঙ্গ-ভূমিকা আত্মীকরণ শুরু হয় জন্মের পর থেকেই, এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সে এটি সবচেয়ে তীব্র রূপ নেয়। বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া বিশেষভাবে গভীর। পরিবার এবং সমাজ মিলে শিশুদের মধ্যে লিঙ্গ-বিভাজনমূলক আচরণ ও মনোভাব তৈরি করে, যা পরে স্কুল, কর্মক্ষেত্র, ধর্ম এবং মিডিয়া মাধ্যমে আরো পোক্ত হয়।
বাংলাদেশের রাজশাহীতে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, স্থান ও শ্রম বিভাজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের ভবিষ্যতে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকার জন্য সামাজিকভাবে প্রস্তুত করা হয়, যেখানে ছেলেদের জন্য বরাদ্দ থাকে সর্বজনীন জগৎ এবং মেয়েদের জন্য ঘরোয়া পরিসর। মাঠ, মাটি, দৌড়, বল—এগুলো ক্রমশ হয়ে ওঠে ‘ছেলেদের জিনিস’। ফলে মেয়েরা যেমন খেলতে শেখে না, খেলা দেখতেও অভ্যস্ত হয় না।
খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং খেলাধুলায় দর্শকসত্তা পরস্পর সংশ্লিষ্ট। যারা মাঠে নেমেছেন, যারা শারীরিকভাবে খেলার উত্তেজনা অনুভব করেছেন, তারাই পর্দায় সেই উত্তেজনা বেশি খোঁজেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল রিসার্চ এর ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যেসব নারী প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশ নেননি, তারাও শৈশবে নানা রকম খেলাধুলায় যুক্ত ছিলেন এবং স্বীকার করেছেন যে শারীরিক সুস্থতার জন্য সেটা জরুরি। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই যোগাযোগটা ছিন্ন হয়ে যায়। কেন? কারণ সমাজ সিদ্ধান্ত নেয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য সেটা কম ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ।
গবেষণাটি আরো বলছে, বাংলাদেশে নারীর খেলায় অংশগ্রহণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক প্রথা এবং সামাজিক প্রত্যাশা, পারিবারিক নেতিবাচক মনোভাব ও সমর্থনের অভাব। এই বাধাগুলো শুধু খেলোয়াড় তৈরিতেই বিঘ্ন ঘটায় না, দর্শক তৈরিতেও বিঘ্ন ঘটায়।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ২০২২ এবং ২০২৪ সালে পর পর দুইবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। দলটি ঢাকায় ফেরার পর হাজার হাজার সমর্থক তাদের খোলা বাসে সংবর্ধনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এই ধরনের উদযাপন এটাই প্রথম। সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্দা—এই নামগুলো এখন কেবল স্পোর্টস পেজে নয়, সাধারণ মানুষের কথায়ও উঠে আসছে।
গবেষকরা বলছেন, নারী বিশ্বকাপের মিডিয়া কভারেজ বাড়লে তা নারীর ক্ষমতা সম্পর্কে সামাজিক ধারণাকে বদলায়, নারী রোল মডেল তৈরি করে এবং দীর্ঘদিনের লিঙ্গ-স্টেরিওটাইপ ভাঙতে সাহায্য করে। অর্থাৎ দৃশ্যমানতা কেবল সংখ্যা বাড়ায় না, মানসিকতাও বদলায়।
কিন্তু ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা যখন কাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, সবসময় তা জয় পায় না।
২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের পুরস্কারের পরিমাণ ছিল পুরুষ বিশ্বকাপের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ, যদিও তার আগের বছরের তুলনায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফোর্বস-এর ২০২৫ সালের শীর্ষ ৫০ ক্রীড়াবিদের তালিকায় একজনও নারী নেই। অর্থের এই বৈষম্য কেবল খেলোয়াড়দের সুযোগ নির্ধারণ করে না, এটা সমাজকেও বার্তা দেয় যে, নারীর খেলা কম মূল্যবান।
বাংলাদেশে গবেষকরা বলছেন, মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করা জরুরি, এবং মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মেয়েদের সাফল্য তুলে ধরলে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।
কিন্তু সেই মিডিয়াই যখন বিশ্বকাপের উত্তেজনায় কেবল পুরুষদের খেলাকে ইভেন্ট, উৎসব, জাতীয় অনুভূতি হিসেবে উপস্থাপন করে তখন নারী দর্শক কোথায় নিজেকে খুঁজবেন?
ফুটবল বিশ্বকাপ কি পুরুষের উৎসব? না, কিন্তু এটাকে সেভাবেই নির্মাণ করা হয়েছে। পুরস্কারের অর্থে, মিডিয়া কভারেজে, শৈশব থেকে শেখানো ‘উপযুক্ততা’র ধারণায়।
একজন নারী যখন রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে খেলা দেখেন না, তখন সেটা তাঁর 'অনাগ্রহ' নয়, সেটা বছরের পর বছর ধরে তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া একটি অধিকারের অনুপস্থিতি। মাঠে না খেলতে পারলে রোমাঞ্চ তৈরি হয় না, দেখার ক্ষেত্রেও সেই একাত্মতা বোধ করা যায় না।
এবারও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পতাকা উড়ছে—আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি। সেই পতাকার ভিড়ে বাঘিনীদের রঙও থাকুক এবং সেই পতাকা তুলুক এমন মেয়েরাও, যাদের ছোটবেলায় কেউ বলেনি—‘তুমিও তো খেলতে পারো।’
লেখক: সাংবাদিক; শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস

বাংলাদেশের ঘরে, আঙিনায়, রাস্তায় এখন আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের পতাকা উড়ছে। গলিতে গলিতে বড় পর্দায় রাত জেগে খেলা দেখার আয়োজন। চায়ের দোকানে মেসি, নেইমার, ভিনিসিউসকে নিয়ে আলোচনার ঝড়। আর এ সবকিছুর মধ্যে আমার মাথায় একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরে আসে—এই ভিড়ে নারীরা কতটা আছেন? আর যদি না-ই থাকেন, তাহলে কেন নেই?
২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের সময় ইউগভ-এর একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, পুরুষরা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মনোযোগ দিয়ে আয়োজনটি অনুসরণ করছিলেন। ফ্রান্সে পুরুষ দর্শকের হার ছিল ২৯%, নারী মাত্র ১০%। যুক্তরাজ্যে পুরুষেরা নারীদের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বেশি খেলা অনুসরণ করছিলেন। পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে এই ব্যবধান আরো প্রকট।
ইউগভ-এর ১৮টি দেশে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, পুরুষেরা নারীদের তুলনায় পেশাদার পুরুষ ক্রীড়া দেখার ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ এগিয়ে—৫৮% পুরুষ বনাম ৩৩% নারী। এমনকি পেশাদার নারী ক্রীড়া দেখার ক্ষেত্রেও পুরুষরাই এগিয়ে। নারীর খেলাও পুরুষ বেশি দেখছেন! কারণটা কি শুধু ‘আগ্রহ’, নাকি এর পেছনে আরো গভীর কোন কারণ রয়েছে।
আমার শৈশবে শহরেও খেলার মাঠ ছিল। সে মাঠে ছেলেরা টুর্নামেন্ট করে ফুটবল খেলতো। আমরা কেবল টিলো-এক্সপ্রেস, বরফ-পানি বা বড়জোর দাঁড়িচা খেলার ডাক পেতাম। কেউ বলেনি যে আমি ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে পারব না। কিন্তু কেউ এটাও বলেনি যে পারবো।
এই ‘না বলা’, কোন মেয়েকে খেলতে ‘না দেখা’—মেয়েদের শেখায় এটাই স্বাভাবিক! মেয়েদের ফুটবল খেলতে হয় না!
গবেষণা বলছে, জেন্ডার সোশ্যালাইজেশন, অর্থাৎ সমাজ থেকে লিঙ্গ-ভূমিকা আত্মীকরণ শুরু হয় জন্মের পর থেকেই, এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সে এটি সবচেয়ে তীব্র রূপ নেয়। বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া বিশেষভাবে গভীর। পরিবার এবং সমাজ মিলে শিশুদের মধ্যে লিঙ্গ-বিভাজনমূলক আচরণ ও মনোভাব তৈরি করে, যা পরে স্কুল, কর্মক্ষেত্র, ধর্ম এবং মিডিয়া মাধ্যমে আরো পোক্ত হয়।
বাংলাদেশের রাজশাহীতে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, স্থান ও শ্রম বিভাজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের ভবিষ্যতে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকার জন্য সামাজিকভাবে প্রস্তুত করা হয়, যেখানে ছেলেদের জন্য বরাদ্দ থাকে সর্বজনীন জগৎ এবং মেয়েদের জন্য ঘরোয়া পরিসর। মাঠ, মাটি, দৌড়, বল—এগুলো ক্রমশ হয়ে ওঠে ‘ছেলেদের জিনিস’। ফলে মেয়েরা যেমন খেলতে শেখে না, খেলা দেখতেও অভ্যস্ত হয় না।
খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং খেলাধুলায় দর্শকসত্তা পরস্পর সংশ্লিষ্ট। যারা মাঠে নেমেছেন, যারা শারীরিকভাবে খেলার উত্তেজনা অনুভব করেছেন, তারাই পর্দায় সেই উত্তেজনা বেশি খোঁজেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল রিসার্চ এর ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে যেসব নারী প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশ নেননি, তারাও শৈশবে নানা রকম খেলাধুলায় যুক্ত ছিলেন এবং স্বীকার করেছেন যে শারীরিক সুস্থতার জন্য সেটা জরুরি। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই যোগাযোগটা ছিন্ন হয়ে যায়। কেন? কারণ সমাজ সিদ্ধান্ত নেয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য সেটা কম ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ।
গবেষণাটি আরো বলছে, বাংলাদেশে নারীর খেলায় অংশগ্রহণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক প্রথা এবং সামাজিক প্রত্যাশা, পারিবারিক নেতিবাচক মনোভাব ও সমর্থনের অভাব। এই বাধাগুলো শুধু খেলোয়াড় তৈরিতেই বিঘ্ন ঘটায় না, দর্শক তৈরিতেও বিঘ্ন ঘটায়।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ২০২২ এবং ২০২৪ সালে পর পর দুইবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। দলটি ঢাকায় ফেরার পর হাজার হাজার সমর্থক তাদের খোলা বাসে সংবর্ধনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এই ধরনের উদযাপন এটাই প্রথম। সাবিনা খাতুন, মারিয়া মান্দা—এই নামগুলো এখন কেবল স্পোর্টস পেজে নয়, সাধারণ মানুষের কথায়ও উঠে আসছে।
গবেষকরা বলছেন, নারী বিশ্বকাপের মিডিয়া কভারেজ বাড়লে তা নারীর ক্ষমতা সম্পর্কে সামাজিক ধারণাকে বদলায়, নারী রোল মডেল তৈরি করে এবং দীর্ঘদিনের লিঙ্গ-স্টেরিওটাইপ ভাঙতে সাহায্য করে। অর্থাৎ দৃশ্যমানতা কেবল সংখ্যা বাড়ায় না, মানসিকতাও বদলায়।
কিন্তু ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা যখন কাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, সবসময় তা জয় পায় না।
২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের পুরস্কারের পরিমাণ ছিল পুরুষ বিশ্বকাপের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ, যদিও তার আগের বছরের তুলনায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফোর্বস-এর ২০২৫ সালের শীর্ষ ৫০ ক্রীড়াবিদের তালিকায় একজনও নারী নেই। অর্থের এই বৈষম্য কেবল খেলোয়াড়দের সুযোগ নির্ধারণ করে না, এটা সমাজকেও বার্তা দেয় যে, নারীর খেলা কম মূল্যবান।
বাংলাদেশে গবেষকরা বলছেন, মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করা জরুরি, এবং মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মেয়েদের সাফল্য তুলে ধরলে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।
কিন্তু সেই মিডিয়াই যখন বিশ্বকাপের উত্তেজনায় কেবল পুরুষদের খেলাকে ইভেন্ট, উৎসব, জাতীয় অনুভূতি হিসেবে উপস্থাপন করে তখন নারী দর্শক কোথায় নিজেকে খুঁজবেন?
ফুটবল বিশ্বকাপ কি পুরুষের উৎসব? না, কিন্তু এটাকে সেভাবেই নির্মাণ করা হয়েছে। পুরস্কারের অর্থে, মিডিয়া কভারেজে, শৈশব থেকে শেখানো ‘উপযুক্ততা’র ধারণায়।
একজন নারী যখন রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে খেলা দেখেন না, তখন সেটা তাঁর 'অনাগ্রহ' নয়, সেটা বছরের পর বছর ধরে তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া একটি অধিকারের অনুপস্থিতি। মাঠে না খেলতে পারলে রোমাঞ্চ তৈরি হয় না, দেখার ক্ষেত্রেও সেই একাত্মতা বোধ করা যায় না।
এবারও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পতাকা উড়ছে—আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি। সেই পতাকার ভিড়ে বাঘিনীদের রঙও থাকুক এবং সেই পতাকা তুলুক এমন মেয়েরাও, যাদের ছোটবেলায় কেউ বলেনি—‘তুমিও তো খেলতে পারো।’
লেখক: সাংবাদিক; শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস

বাংলাদেশের মিয়ানমারনীতি নিয়ে কথা উঠলে সাধারণত রোহিঙ্গা সংকটের কথাই সামনে আসে। তবে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বাস্তবতা দ্রুত বদলাচ্ছে। এখন শুধু রোহিঙ্গা নয়, সীমান্তসংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখেও পড়ছেন বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা।
২ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে রক্তক্ষয়ী ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তা দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর নাটকীয় মোড় নিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—তিন দেশে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য আয়োজন শুরু হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪।
৫ ঘণ্টা আগে
আজ প্রযুক্তির এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ওষুধ আবিষ্কারের মতো জটিল বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় মানুষের একক আধিপত্য বা একচ্ছত্র ভূমিকা দিনে দিনে ফুরিয়ে আসছে। এখন যদি প্রশ্ন করা হয়- ‘বিজ্ঞানের কি মানুষের প্রয়োজন আছে?’, তবে তার উত্তর খোঁজা মোটেও সহজ হবে না।
৭ ঘণ্টা আগে