বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ ২ কোটি, পুনর্বাসনের উদ্যোগ: মাহদী আমিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ২১: ৩৬
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি : সংগৃহীত

সরকার বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনর্বাসনে সমন্বিত কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সারা দেশে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার (১১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, ‘আগামীকাল রোববার যে পরীক্ষা আছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের পাঁচ জেলাতেই সেটি স্থগিত করা হয়েছে। আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জেলা প্রশাসকের বৈঠকে বসার কথা। আমি যতটুকু জানি, ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পরীক্ষা হবে বলে আমি জেনেছি।’

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, চলমান বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে জনগণের পাশে থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

মাহদী আমিন জানান, আগামীকাল (১২ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থান করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পরিস্থিতি তদারকি করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।’

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতোমধ্যে দুই কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য, ত্রাণসামগ্রী ও চাল বিতরণ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশু খাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুনর্বাসন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য পানিবাহিত রোগ ও সাপের কামড় মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনও মজুত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত সড়ক ও রেলপথ মেরামতের জন্য এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।’

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত