জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পিলখানা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়া করেন। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা।

প্রটোকল অনুযায়ী প্রথমে বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগালে ভেসে ওঠে করুণ সুর। পরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে বনানীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর পরিবহন পুলের সামনে অপেক্ষা করেন তিনি। পরে রাষ্ট্রপতি পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। কুশল বিনিময় শেষে একসঙ্গে হেঁটে কবরস্থানের দিকে যান তাঁরা।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–বিজিবি) সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। সব মিলিয়ে তখন পিলখানায় নিহত হন ৭৪ জন।

পিলখানায় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়। বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায় দেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে খালাস পান ২৭৮ জন। রায় ঘোষণার আগে চার আসামি মারা যান।

২০০৯ সালে বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের সেই ঘটনার পর বাংলাদেশ রাইফেলসকে (বিডিআর) পুনর্গঠন করা হয়। ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিল-২০১০’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। আর ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর নাম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।

পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দোয়ায় অংশ নেন। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দোয়ায় অংশ নেন। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে। এর পাশাপাশি পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ অথবা ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও বলেছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবার এক বাণীতে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের দিনটিকে (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল। নাগরিক হিসেবে বিষয়টি উপলব্ধিতে থাকা জরুরি।

তারেক রহমান আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।

Ad 300x250

সম্পর্কিত