সাগরে মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ভোলা

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ০১
তীরে ফিরেছে অধিকাংশ মাছ ধরার নৌকা। সংগৃহীত ছবি

মাছের প্রজনন ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা এবং বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় ৫৮ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে।

মঙ্গলবার ভোলার জেলার বিভিন্ন উপজেলার ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে নোঙর করা হয়েছে। দৌলতখানের পাতারখাল, চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাট ও নুরাবাদ, মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাট ও হাজিরহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ট্রলার সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক জেলে জাল-সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখছেন, কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, আবার কেউ নতুন জাল বুনছেন। তবে অনেককেই অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল এলাকার জেলে সাজু মাঝি, মীরার মিস্ত্রী ও জামাল মাঝি বলেন, ‘গত দেড় মাস ধরে নদীতে অভিযান চলছে, এখন আবার সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। একের পর এক এমন সিদ্ধান্তে জেলেরা চরম কষ্টে আছে। নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময় যে সরকারি চাল পাওয়ার কথা, তা অনেকেই এখনো পাননি। নতুন করে সমুদ্রের চাল কবে পাব, তাও জানি না। এনজিওর কিস্তি দিতে না পারলে গালমন্দ শুনতে হয়। বিকল্প কাজও নেই।’

উপজেলার স্লুইসগেট এলাকার জেলে জামাল হোসেন, সেলিম ও আনোয়ার অভিযোগ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম হয়।অনেকে জেলে না হয়েও চাল পান, আবার প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হন। তাঁরা প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে স্বচ্ছভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণের দাবি জানান। পাশাপাশি কেউ কেউ জেলেদের মোবাইল নম্বরে সরাসরি নগদ অর্থ পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে মৎস্য আড়তদারদের ওপরও। পাতারখাল মাছঘাটের আড়ৎদার জিয়া উদ্দিন ও খালেক মেম্বার বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এতদিন সমুদ্রের মাছ বিক্রি করে চলছিলাম। এখন সমুদ্রেও নিষেধাজ্ঞা, ফলে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছি। ব্যবসার ক্ষতি সামলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় সমুদ্রগামী নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন। নিষেধাজ্ঞাকালীন এসব জেলেকে দুই ধাপে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ঘাটে মাইকিং, সভা ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের সময়মতো খাদ্য সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তবে আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এমন নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয় হলেও এ সময় জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি জরুরি। তা না হলে তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত