কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যায় ২০০ জনকে আসামি করে পরিবারের মামলা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া

আবদুর রহমান ওরফে শামীম রেজা জাহাঙ্গীর। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মাজারে হামলা চালিয়ে আবদুর রহমান ওরফে শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা করেছে পরিবার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানায় নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান এই মামলা করেন।

এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ নিলেন তারা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে মামলার বাদী ফজলুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন।

মামলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, মামলায় ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি রাজীব দফাদারকে (৩২) প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় গাজী মিস্ত্রির ছেলে। চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।

এজাহারে নামীয় আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ (৩৫), খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) ও আবেদের ঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি।

এজাহারে চারজনের নাম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, হামলার দিনের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ইতিমধ্যে আরও ২২ থেকে ২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটির তদন্তে কাজ করছে।

এদিকে রাজিব মিস্ত্রি এলাকায় জামায়াতের কর্মী হিসেবে পরিচিত থাকলেও তার কোনো দলীয় পদ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ওই এলাকায় রাজিব মিস্ত্রি, পিতা গাজী মিস্ত্রি—এ নামে কেউ জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’

গত শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত একদল লোক আব্দুর রহমানকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তাঁর তিনজন অনুসারীও আহত হন। একই সঙ্গে আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সম্পর্কিত