জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পকেটে টান: ভোট দিতে যাচ্ছেন না শিল্প এলাকার লাখো ভোটার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ০৯
সাভারের শিল্প এলাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো মানুষ বসবাস করেন

নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। সারা দেশে যখন সাজ সাজ রব, তখন সাভার ও আশুলিয়ার শ্রমিক কলোনিগুলোতে চোখে পড়ছে এক ধরনের নিস্তব্ধতা। দেশের অর্থনীতির ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী কয়েক লাখ ভোটার এখনো গ্রামে যাননি। উৎসবের আমেজের চেয়ে এখানে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে পকেটের টান এবং আসন্ন রমজান ও ঈদের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা। এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের অনুপস্থিতি অনেক আসনের নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাভার ও আশুলিয়া এখন আর শুধু একটি উপজেলা বা থানা নয়, এটি কার্যত একটি ‘মিনি বাংলাদেশ’। এখানে বসবাস করেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। এর বড় অংশই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পোশাকশ্রমিক। উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম থেকে শুরু করে দক্ষিণের ভোলা—প্রায় সব জেলার মানুষের উপস্থিতি রয়েছে এই এলাকায়। সাভারের প্রায় ২ হাজারের বেশি কারখানায় দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তাঁরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।

টানা ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন অনেক মানুষ। তবে পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকেই
টানা ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন অনেক মানুষ। তবে পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকেই

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিকদের বড় একটি অংশ ভোট দিতে গ্রামে না যাওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচনের সময় বাসভাড়া ও যাতায়াত খরচ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যাওয়া। একজন সাধারণ শ্রমিকের পক্ষে সপরিবারে বাড়ি গিয়ে ভোট দেওয়া বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নির্বাচনের মাত্র কদিন পরই রমজান মাস শুরু হওয়া এবং ঈদুল ফিতর সামনে থাকায় পরিবারের জন্য জমানো সামান্য টাকাও খরচ করতে না চাওয়ার বাস্তবতা। দীর্ঘ পথের যাতায়াত ভোগান্তিও ভোটে অনীহার আরেকটি বড় কারণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের এই লাখ লাখ ভোটার ভোট না দিতে পারলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার পোশাকশ্রমিক সায়মা বেগম বলেন, ‘ভোট দিতে বাড়ি গেলে অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ। কদিন পরেই রোজা আর ঈদ। এখন এই টাকা খরচ করলে ঈদে ছেলেমেয়েদের নতুন জামাকাপড় দেওয়া যাবে না। সেই চিন্তা থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার বাড়ি যাব না।’

ঘরমুখো মানুষের ভিড়
ঘরমুখো মানুষের ভিড়

একই কথা জানালেন জামগড়া এলাকার শ্রমিক অনিক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় গাড়ি পাওয়া যায় না, যা পাওয়া যায় তার ভাড়াও কয়েকগুণ বেশি নিচ্ছেন। পরিবার নিয়া বাড়ি যাওয়া এখন আমাদের মতো গরিবের জন্য না। যারা প্রার্থী বা সরকার যদি প্রতি জেলায় আলাদা করে যাওয়া-আসার জন্য বাস সার্ভিস চালু করতো, তাহলেও কিন্তু অনেকে যেতো। এই বিষয়ে কেউ চিন্তা করেনি। তাই আমাদের ভোট না দিলেও চলবে।’

শ্রমিকদের এই অনীহাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, ‘শ্রমিকরা ভোট দিতে চায়, কিন্তু পকেটের অবস্থা তাদের সায় দিচ্ছে না। নির্বাচনের সময় যাতায়াত সংকটকে পুঁজি করে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এই অবস্থায় শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল। সেটি না হওয়ায় আমরা একটি বিশাল ভোটার অংশকে হারাতে বসেছি।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত