ওমরাহ পালনে বাধার অভিযোগে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে বৃদ্ধার রিট

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ১১
হাইকোর্ট ভবন। ছবি: সংগৃহীত

বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমরাহ পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ফাতেমা বেগম নামের এক নারী।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই রিট আবেদনটি করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৬ ও ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ধর্মচর্চার অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এছাড়া ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের আচরণে ওই বৃদ্ধার পবিত্র আকাঙ্ক্ষা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

বাদীর আইনজীবী জানান, ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আদালতের বিদেশ গমনের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে বাধা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এই বেআইনি পদক্ষেপ একটি ‘কনস্টিটিউশনাল টর্ট’ বা সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।

রিটে মানসিক ক্ষতি ও ভোগান্তির জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের স্বার্থে রুল নিষ্পত্তির আগে জরুরি ভিত্তিতে ১০ লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ (প্রভিশনাল কমপেনসেশন) দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

পিটিশনে উল্লেখ করা হয়, জীবনের শেষ সময়ে এসে মক্কা ও মদিনা জিয়ারতের স্বপ্ন নিয়ে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম। কিন্তু কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই তাঁকে আটকে দেওয়ায় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন। আইনজীবী মামুন জানান, শিগগিরই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পর্কিত