পাথরের আঘাতে মৃত্যু হয় হস্তীশাবকের, শরীরে একাধিক চিহ্ন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৫৯
পাথরের আঘাতে মৃত্যু হয় হাতি শাবকের। ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সংরক্ষিত বনে অবৈধ মাছের ঘের থেকে উদ্ধার হস্তীশাবকটির মৃত্যু পাথরের আঘাতেই হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিন মাস বয়সী শাবকটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শাবকটি বৃহস্পতিবার বিকেলে উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছে।

৫ এপ্রিল (রবিবার) ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন স্ট্রিম প্রতিবেদকের হাতে আসে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শাবকের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এসব আঘাতের মধ্যে মাথায় গুরুতর চোটের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়।

কক্সবাজারের দুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘পাথরের আঘাতই মৃত্যুর প্রধান কারণ। এ ছাড়া আঘাতজনিত ক্ষত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে সেপটিসিমিয়া তৈরি হতে পারে, যা মৃত্যু ত্বরান্বিত করতে পারে।’

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের রেঞ্জার আবিউজ জামান স্ট্রিমকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয়েছে, আঘাতের কারণে তিন মাস বয়সী শাবকের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত শেষে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আবিউজ জামান আরও জানান, ‘রাজারকুল বন বিভাগের রিজার্ভ ফরেস্টের এরিয়াতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ধান চাষ করেন। শাবকটির মা-সহ পালটি ধানখেতে ঢুকলে স্থানীয়রা ফসল রক্ষায় হাতির দিকে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। সম্ভবত সেই সময় শাবকটি আহত হয়ে মারা যায়। পরে মা-হাতিটি শাবকটিকে টেনে জলাধারে নিয়ে যায় এবং সেখানে টানা তিন দিন অবস্থান করে।’

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একটি অবৈধ মাছের ঘের পরিচালিত হয়ে আসছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩–২৪ ও ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ওই এলাকায় প্রায় ৬০ হেক্টর ভূমিতে বনায়ন কার্যক্রম চালানো হলেও ঘেরটি এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও ও বন বিভাগের লোকজনকে ঘটনা স্থলে পাঠাই। পরে নিশ্চিত হই, ঘটনাটি মূলত রামু এলাকায়। এরপর রামু ইউএনও ও বন বিভাগ হাতির শাবকটির দেহ উদ্ধার ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করেছে।’

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাঙামাটির বরকলের বরুনাছড়ি এলাকায় কাপ্তাই হ্রদে পাহাড় থেকে পড়ে একটি বিরল গোলাপি রঙের হস্তীশাবক মারা যায়। তখনও শাবকটির মা ও দলের অন্যান্য হাতি ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মৃতদেহের পাশে অবস্থান করেছিল।

সম্পর্কিত