লেখা:

বাংলাদেশ সম্প্রতি ‘পদ্মা ব্যারেজ’ বা পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। দেশের খরাপ্রবণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনাই এর প্রধান লক্ষ্য।
তবে এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন বা যৌথ নদীগুলোর ভবিষ্যৎ গভীর সংকটে। উজানে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ বানাচ্ছে চীন। অন্যদিকে ভারতও খুব দ্রুত নিজেদের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদও ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে।
এমন অবস্থায় পদ্মা ব্যারেজ হয়তো আঞ্চলিক পানি সংকট মেটানোর সুযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং, এটি উপমহাদেশে একতরফা আধিপত্য বিস্তার বা অপরিকল্পিত বাঁধ বানানোর অশুভ প্রতিযোগিতাকে আরও উসকে দিতে পারে। সঠিক কোনো চুক্তির অভাব থাকায় দক্ষিণ এশিয়া এখন বাঁধ নির্মাণের এক বিপজ্জনক যুগে ঢুকছে।
বাংলাদেশের পানি সংকট ও ফারাক্কার অভিশাপ
যারা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পক্ষে, তারা মনে করেন এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট মেটানোর একটি বাস্তবসম্মত উপায়। হিমালয় থেকে নেমে আসা গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকার একেবারে শেষ প্রান্তে বাংলাদেশের অবস্থান। এত বিপুল জলরাশির দেশেও গ্রীষ্মকালে প্রধান নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, আর ছোট নদীগুলোর অস্তিত্ব দ্রুত বিলীন হচ্ছে।
এই সংকটের জন্য বাংলাদেশ একা দায়ী নয়। ১৯৭০-এর দশকে ভারত উজানে গঙ্গা নদীর ওপর ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে। কলকাতা বন্দরের পলি সরাতে পানির প্রবাহ সেই দিকে ঘুরিয়ে দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। এর ফল বাংলাদেশের জন্য কতটা ভয়াবহ হয়েছে, তা আজ সবারই জানা। আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে গেছে এবং গভীরতা হারিয়েছে। পানিতে লবণাক্ততা বেড়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে এবং নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে।
মিঠা পানির সংকটের ফলে কৃষিকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং মাছের উৎপাদন কমে গেছে। পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে থাকা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের। পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের গাছে ব্যাপকভাবে 'টপ ডাইং' বা গাছের আগা মরে যাওয়া রোগ দেখা দিয়েছে। এটি জীববৈচিত্র্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি।
পদ্মা ব্যারেজ: সম্ভাবনা ও শঙ্কা
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারেজ হবে দুই কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা একটি বিশাল বাঁধ। বর্ষাকালে পানি ধরে রেখে শুকনো মৌসুমে তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য এর নকশা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ ঠিক থাকবে। শুকনো মৌসুমে সাগরের নোনা পানিকে ঠেলে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের ছোট নদীগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে সেচব্যবস্থা ভালো হবে এবং ধান ও মাছের উৎপাদন বাড়বে।
কথাগুলো শুনতে খুব ভালো লাগলেও, বাস্তবে এটি পরিবেশ এবং ভূ-রাজনীতির দিক থেকে বেশ কিছু ভয়ের জন্ম দেয়। বিষয়গুলো গভীরভাবে ভাবা দরকার।
প্রথম ভয়টি হলো পলিমাটি নিয়ে। গঙ্গা প্রচুর পলি বয়ে আনা একটি নদী। নদীতে বাঁধ দিলে পানির গতি কমে যায়। ফলে পলি ভেসে যাওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং বাঁধের ওপরের অংশে (উজানে) পলি জমতে থাকে। ফারাক্কা বাঁধের উজানে এটি ইতোমধ্যে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ত্রিশ বছরে সেখানে নদীভাঙন ও বন্যার কারণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখন ভাটিতে যদি পদ্মা ব্যারেজের মতো দ্বিতীয় বড় বাঁধ তৈরি হয়, তবে ফারাক্কা ও পদ্মার মাঝখানে প্রচুর পলি জমবে। এতে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
ভাটি বা নিচের দিকের এলাকার জন্য এর ফল আরও ভয়াবহ হতে পারে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পানি যদি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রধান নদীগুলোতে পানি কমে যাবে। এই কমে যাওয়া পানির প্রবাহ যদি সাগরের জোয়ারের নোনা পানিকে ঠেলে দূরে রাখতে না পারে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ কোনো উপকারই পাবে না। উল্টো তারা চরম লবণাক্ততার মুখে পড়বে।
এখানে সবচেয়ে বড় পরিহাসের বিষয় হলো—ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ দিয়ে যে ক্ষতি করেছে, বাংলাদেশ নিজস্ব আরেকটি বড় বাঁধ দিয়ে সেই একই প্রক্রিয়ায় তার মোকাবিলা করতে চাইছে। ভারতের অর্থনৈতিক সমস্যা মেটাতে ফারাক্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা বাংলাদেশের পরিবেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফারাক্কা দিয়ে ভারতের নিজেদের উদ্দেশ্যও পুরোপুরি সফল হয়নি। কলকাতা বন্দর এখনও পলি সমস্যায় ভুগছে এবং নিয়মিত নদী খনন করতে হচ্ছে।
সমালোচকদের ভয়, পদ্মা ব্যারেজও হয়তো একই ভুল পথে হাঁটবে। এটি সমস্যা সমাধানের বদলে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
নদী নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক লড়াই
এই প্রকল্পের সফলতা পুরোপুরি নির্ভর করছে উজানের দেশ থেকে পর্যাপ্ত পানি আসার ওপর। কিন্তু চীন ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিচ্ছে এবং ভারত নদী সংযোজন প্রকল্পসহ নানা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। আর নদীতে পানিই যদি না থাকে, তবে পদ্মা ব্যারেজ কাজ করবে কীভাবে?
সময়ের হিসাবটাও এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন করে চুক্তি হওয়ার আগে এমন একটি বিশাল প্রকল্প হাতে নিলে, দরকষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ভারত ভাবতে পারে, তারা পানি কম দিলেও বাংলাদেশ ব্যারেজ দিয়ে নিজেদের অবস্থা সামলে নিতে পারবে।
কূটনীতির বিকল্প হতে পারে না বাঁধ
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি যে একেবারেই ভুল বা খারাপ উদ্দেশ্যে করা, তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের পানি সংকট অত্যন্ত বাস্তব একটি সমস্যা। এর সমাধান বের করার জন্য রাজনৈতিক চাপ থাকাও খুব স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি ও জোরালো সহযোগিতা নিশ্চিত করা আগে দরকার। সেটা না করে কেবল অবকাঠামো বানালে তা দক্ষিণ এশিয়ার নদী ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।
এই অঞ্চলে কূটনীতি বা আলোচনার পথ বাদ দিয়ে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা সবসময়ই ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই বাঁধ প্রকল্পকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। একে পানি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের হাতিয়ার বানানো যাবে না। বরং, নদী সুরক্ষার জন্য এটিকে একটি শক্তিশালী আইনি ও কূটনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আর অভিন্ন নদী বাঁচাতে হলে প্রয়োজন কংক্রিটের বাঁধের চেয়েও শক্তিশালী সফল কূটনীতি।
(লেখাটি দ্য কনভারসেশন থেকে ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

বাংলাদেশ সম্প্রতি ‘পদ্মা ব্যারেজ’ বা পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। দেশের খরাপ্রবণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনাই এর প্রধান লক্ষ্য।
তবে এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন বা যৌথ নদীগুলোর ভবিষ্যৎ গভীর সংকটে। উজানে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ বানাচ্ছে চীন। অন্যদিকে ভারতও খুব দ্রুত নিজেদের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদও ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে।
এমন অবস্থায় পদ্মা ব্যারেজ হয়তো আঞ্চলিক পানি সংকট মেটানোর সুযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং, এটি উপমহাদেশে একতরফা আধিপত্য বিস্তার বা অপরিকল্পিত বাঁধ বানানোর অশুভ প্রতিযোগিতাকে আরও উসকে দিতে পারে। সঠিক কোনো চুক্তির অভাব থাকায় দক্ষিণ এশিয়া এখন বাঁধ নির্মাণের এক বিপজ্জনক যুগে ঢুকছে।
বাংলাদেশের পানি সংকট ও ফারাক্কার অভিশাপ
যারা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পক্ষে, তারা মনে করেন এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট মেটানোর একটি বাস্তবসম্মত উপায়। হিমালয় থেকে নেমে আসা গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদী অববাহিকার একেবারে শেষ প্রান্তে বাংলাদেশের অবস্থান। এত বিপুল জলরাশির দেশেও গ্রীষ্মকালে প্রধান নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, আর ছোট নদীগুলোর অস্তিত্ব দ্রুত বিলীন হচ্ছে।
এই সংকটের জন্য বাংলাদেশ একা দায়ী নয়। ১৯৭০-এর দশকে ভারত উজানে গঙ্গা নদীর ওপর ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে। কলকাতা বন্দরের পলি সরাতে পানির প্রবাহ সেই দিকে ঘুরিয়ে দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। এর ফল বাংলাদেশের জন্য কতটা ভয়াবহ হয়েছে, তা আজ সবারই জানা। আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে গেছে এবং গভীরতা হারিয়েছে। পানিতে লবণাক্ততা বেড়েছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে এবং নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে।
মিঠা পানির সংকটের ফলে কৃষিকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং মাছের উৎপাদন কমে গেছে। পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে থাকা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের। পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে সুন্দরবনের গাছে ব্যাপকভাবে 'টপ ডাইং' বা গাছের আগা মরে যাওয়া রোগ দেখা দিয়েছে। এটি জীববৈচিত্র্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি।
পদ্মা ব্যারেজ: সম্ভাবনা ও শঙ্কা
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারেজ হবে দুই কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা একটি বিশাল বাঁধ। বর্ষাকালে পানি ধরে রেখে শুকনো মৌসুমে তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য এর নকশা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ ঠিক থাকবে। শুকনো মৌসুমে সাগরের নোনা পানিকে ঠেলে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের ছোট নদীগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে সেচব্যবস্থা ভালো হবে এবং ধান ও মাছের উৎপাদন বাড়বে।
কথাগুলো শুনতে খুব ভালো লাগলেও, বাস্তবে এটি পরিবেশ এবং ভূ-রাজনীতির দিক থেকে বেশ কিছু ভয়ের জন্ম দেয়। বিষয়গুলো গভীরভাবে ভাবা দরকার।
প্রথম ভয়টি হলো পলিমাটি নিয়ে। গঙ্গা প্রচুর পলি বয়ে আনা একটি নদী। নদীতে বাঁধ দিলে পানির গতি কমে যায়। ফলে পলি ভেসে যাওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং বাঁধের ওপরের অংশে (উজানে) পলি জমতে থাকে। ফারাক্কা বাঁধের উজানে এটি ইতোমধ্যে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ত্রিশ বছরে সেখানে নদীভাঙন ও বন্যার কারণে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখন ভাটিতে যদি পদ্মা ব্যারেজের মতো দ্বিতীয় বড় বাঁধ তৈরি হয়, তবে ফারাক্কা ও পদ্মার মাঝখানে প্রচুর পলি জমবে। এতে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
ভাটি বা নিচের দিকের এলাকার জন্য এর ফল আরও ভয়াবহ হতে পারে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পানি যদি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রধান নদীগুলোতে পানি কমে যাবে। এই কমে যাওয়া পানির প্রবাহ যদি সাগরের জোয়ারের নোনা পানিকে ঠেলে দূরে রাখতে না পারে, তবে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ কোনো উপকারই পাবে না। উল্টো তারা চরম লবণাক্ততার মুখে পড়বে।
এখানে সবচেয়ে বড় পরিহাসের বিষয় হলো—ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ দিয়ে যে ক্ষতি করেছে, বাংলাদেশ নিজস্ব আরেকটি বড় বাঁধ দিয়ে সেই একই প্রক্রিয়ায় তার মোকাবিলা করতে চাইছে। ভারতের অর্থনৈতিক সমস্যা মেটাতে ফারাক্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা বাংলাদেশের পরিবেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফারাক্কা দিয়ে ভারতের নিজেদের উদ্দেশ্যও পুরোপুরি সফল হয়নি। কলকাতা বন্দর এখনও পলি সমস্যায় ভুগছে এবং নিয়মিত নদী খনন করতে হচ্ছে।
সমালোচকদের ভয়, পদ্মা ব্যারেজও হয়তো একই ভুল পথে হাঁটবে। এটি সমস্যা সমাধানের বদলে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
নদী নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক লড়াই
এই প্রকল্পের সফলতা পুরোপুরি নির্ভর করছে উজানের দেশ থেকে পর্যাপ্ত পানি আসার ওপর। কিন্তু চীন ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিচ্ছে এবং ভারত নদী সংযোজন প্রকল্পসহ নানা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। আর নদীতে পানিই যদি না থাকে, তবে পদ্মা ব্যারেজ কাজ করবে কীভাবে?
সময়ের হিসাবটাও এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন করে চুক্তি হওয়ার আগে এমন একটি বিশাল প্রকল্প হাতে নিলে, দরকষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ভারত ভাবতে পারে, তারা পানি কম দিলেও বাংলাদেশ ব্যারেজ দিয়ে নিজেদের অবস্থা সামলে নিতে পারবে।
কূটনীতির বিকল্প হতে পারে না বাঁধ
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি যে একেবারেই ভুল বা খারাপ উদ্দেশ্যে করা, তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের পানি সংকট অত্যন্ত বাস্তব একটি সমস্যা। এর সমাধান বের করার জন্য রাজনৈতিক চাপ থাকাও খুব স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি ও জোরালো সহযোগিতা নিশ্চিত করা আগে দরকার। সেটা না করে কেবল অবকাঠামো বানালে তা দক্ষিণ এশিয়ার নদী ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।
এই অঞ্চলে কূটনীতি বা আলোচনার পথ বাদ দিয়ে কেবল অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা সবসময়ই ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই বাঁধ প্রকল্পকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। একে পানি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের হাতিয়ার বানানো যাবে না। বরং, নদী সুরক্ষার জন্য এটিকে একটি শক্তিশালী আইনি ও কূটনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আর অভিন্ন নদী বাঁচাতে হলে প্রয়োজন কংক্রিটের বাঁধের চেয়েও শক্তিশালী সফল কূটনীতি।
(লেখাটি দ্য কনভারসেশন থেকে ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে বিবেচনা করতে হবে। সন্ত্রাসীদের হাতে এমন অনেক আধুনিক অস্ত্র রয়েছে, যা আমাদের পুলিশের কাছে নেই। অপরদিকে সেনাবাহিনীর আছে লিথাল উইপেন। তাছাড়াও অত্যাধুনিক মেশিনগান আছে, যা দিয়ে অতি অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক গুলি করা যায়।
২ ঘণ্টা আগে
কত গরু-ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং কী পরিমাণ কোরবানি হতে পারে, সে বিষয়ে একটা ধারণা দেওয়া হয়েছিল– এবারও। কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে। কোরবানির চাহিদা অত বেশি কিনা, সেটাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। চাহিদা বলতে ‘কার্যকর চাহিদা’ই বুঝতে হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন জেলার খবরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে স্তূপ করা চামড়া, ক্লান্ত মুখের ব্যবসায়ী, আর লোকসানের হিসাব মেলাতে গিয়ে মাথায় হাত দেওয়া মৌসুমি বিক্রেতা। এই দৃশ্য বাংলাদেশে নতুন নয়, প্রতি বছরের। কিন্তু একটি সম্ভাবনাময় খাতের কেন এই বেহাল অবস্থা, এর জন্য দায়ী কারা?
১ দিন আগে
‘পদ্মা ব্যারেজ’ মেগা প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে গঙ্গার পানি বিষয়ক বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি দুর্বল হতে পারে—এমন যুক্তি গ্রহণ করা কঠিন। আন্তর্জাতিক আন্তঃসীমান্ত নদীনীতি এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বৈধ অধিকার সম্পূর্ণভাবে বহাল থাকবে।
১ দিন আগে