জমির জন্য স্বামীকে হত্যার পর মাটিচাপা, ৫২ দিন পর লাশ উদ্ধার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মুন্সিগঞ্জ

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৫৩
মুন্সিগঞ্জে নিহত আলু ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন। সংগৃহীত ছবি

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে নিখোঁজের ৫২ দিন পর বাড়ির পাশের একটি ফার্মের রান্নাঘরে মাটিচাপা অবস্থায় আলু ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেনের (৬০) মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। জমি লিখে না দেওয়ায় তাঁর স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে তাঁকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এক সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মেনহাজুল আলম।

এর আগে ভোর ৫টার দিকে সিরাজদিখানের চাইনপাড়া গ্রামের বোরহান বেপারীর গরুর ফার্মের রান্নাঘর থেকে ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরের ৮ থেকে ১০ ফুট মাটির গভীরে পুঁতে রাখা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। গত ৯ মে থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

ব্যবসায়ী হত্যায় জড়িত হিসেবে গ্রেপ্তারেরা হলেন নিহতের স্ত্রীর ভগ্নিপতি মানিক বেপারী (৩০), খুনের সহযোগী সাইফুল ইসলাম (৪২), মো. রিপন (৩৪) ও মো. বিন আমিন শেখ (৩৫)। তবে খুনের মূল-পরিকল্পনাকারী স্ত্রী রানী বেগম (৩৭) ও গরুর ফার্মের মালিক বোরহান বেপারী পলাতক আছেন।

মুন্সিগঞ্জে ব্যবসায়ী আওলাদ হত্যাকাণ্ডে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার। সংগৃহীত ছবি
মুন্সিগঞ্জে ব্যবসায়ী আওলাদ হত্যাকাণ্ডে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার। সংগৃহীত ছবি

নিহত আওলাদ হোসেন ওই উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামের প্রয়াত ফরিদ শেখের ছেলে। রানী বেগম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। গ্রেপ্তার মানিক, রিপন ও বিন আমিনের বাড়ি একই গ্রামে। সাইফুলের বাড়ি রংপুরে কোতয়ালী থানায়।

এর আগে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন নিখোঁজের পরের দিন ১০ মে তাঁর ছোটভাই বেলায়েত হোসেন প্রথমে সিরাজদিখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ২৩ মে নিহতের ভাই বাদি হয়ে একই থানায় রানী বেগম ও তাঁর ভগ্নিপতি মানিকসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করেন।

ওই মামলায় ৩১ মে প্রথমে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে ঢাকার সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে সাইফুলকে এবং রাতে রিপন ও বিন আমিনকে গ্রেপ্তার হন। তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার ভোরে চাইনপাড়া গ্রামের বোরহানের গরুর ফার্মের রান্নাঘরে মাটিতে পুঁতে রাখা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জে ব্যবসায়ী আওলাদ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তিনজন। সংগৃহীত ছবি
মুন্সিগঞ্জে ব্যবসায়ী আওলাদ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তিনজন। সংগৃহীত ছবি

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ব্যবসায়ী আওলাদের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর রানী বেগমকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে কোনো সন্তান ছিল না। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়শ ঝগড়া হতো। তবে রানী বেগম তাকে জমিজমা লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। এ ছাড়া স্ত্রীর ভগ্নিপতি মানিক বেপারী ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায়ই টাকা-পয়সা নিতেন।

এসপি মেনহাজুল আলম জানান, স্ত্রী ও তাঁর ভগ্নিপতি ব্যবসায়ী আওলাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক ৯ মে সন্ধ্যার দিকে একই গ্রামের বোরহানের গরুর ফার্মে ডেকে নিয়ে যান তাকে। সেখানে ব্যবসায়ীকে বিছানায় ফেলে মাথা চেপে ধরেন ফার্মের কাজের লোক সাইফুল। স্ত্রীর ভগ্নিপতি মানিক তাঁর গলায় কোদালের আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় ফার্মের বাইরে পাহারায় ছিল বিন আমিন ও রিপন। হত্যার পর সাইফুল, বিন আমিন ও রিপন ফার্মের রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত করে লাশ পুঁতে রাখে। তদন্তে একপর্যায়ে তথ্যের ভিত্তিতে আওলাদ হোসেনের পাশের বাড়ির ফার্মের রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত