জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সংকট নেই জ্বালানির, তবুও হুলুস্থুল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাঙামাটি

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৪৬
রাঙামাটি শহরের একটি পাম্পে জ্বালানি নিতে বাইকচালকদের ভিড়। স্ট্রিম ছবি

রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও শহরের পাম্পগুলোতে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বাড়তি যানবাহনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন তেলের পাম্প ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। গ্রাহকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে তেলের সংকট দেখা দেবে। এতে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বাড়বে।

গ্রাহকদের অনেকে অভিযোগ করেন, যার প্রয়োজন ২০০ টাকার তেল, তিনিও বেশি করে নিতে চাইছেন। যার আপাতত তেলের প্রয়োজন নেই, তিনিও রিজার্ভ করতে চাইছেন। যে কারণে পাম্পগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

সরেজমিনে আজ সকাল থেকে শহরের কল্যাণপুর, রাজবাড়ি, বনরূপা, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড পাম্পে জ্বালানি তেলের মধ্যে অকটেনের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের লাইন দেখা গেছে। এদিন দীর্ঘ লাইন না থাকলেও অন্যান্য সময়ে অন্য পাম্পগুলোতে এত উপস্থিতি থাকে না।

এর আগে শুক্রবার বিকাল থেকে হঠাৎ করে জেলা শহরের জ্বালানি তেলের পাম্প ও দোকানগুলো বন্ধ করে দেয় মালিকরা। এতে সৃষ্টি হয় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট।

এদিকে সমস্যা নিরসনে শনিবার সকালে জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও পাম্প মালিকরা।

এর পরেই দুপুর থেকেই রাঙামাটি জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য মাইকিং করেছে জেলা তথ্য অফিস। এ ছাড়া জেলা শহরের রিজার্ভ বাজার এবং লঞ্চঘাট এলাকায় জ্বালানি তেলের খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ও বিভিন্ন গোডাউন মনিটরিং করা হয়। এ সময় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উভয়পক্ষকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের প্রেস রিলিজ সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

সকালে জেলা প্রশাসনের সভায় পাম্প মালিকরা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূলে তাঁরা তেল বিক্রি করছেন। কিন্তু শুক্রবার বিকাল থেকে চালকরা অস্বাভাবিকভাবে তেল নিতে থাকেন। চাপ সামাল দিতে না পেরে তাঁরা দোকান পাম্প বন্ধ করে দেন। তবে শনিবার সকাল থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘রাঙামাটি শহরে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তবে কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নেবেন না। কোনো প্রকার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা যাবে না। পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।’

সম্পর্কিত