কওমি মাদ্রাসা নিয়ে অভিযোগ জানাতে হটলাইন চালু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বুধবার ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভা। সংগৃহীত ছবি

কওমি মাদ্রাসাসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করেছে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হটলাইন চালু করা ছাড়াও অভিযোগ যাচাই, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং কওমি মাদ্রাসাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তদারকি জোরদারের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করেছে তারা।

বুধবার রাজধানী ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কওমি মাদ্রাসা বিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আল-হাইআতুল উলয়ার করণীয়’ শীর্ষক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান ও বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান।

আল-হাইআতুল উলয়া বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার সরকার-স্বীকৃত সর্বোচ্চ সম্মিলিত শিক্ষা বোর্ড। কেন্দ্রীয় পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ এবং কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদ প্রদান করে থাকে তারা।

বুধবার সভা শেষে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট কিছু ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ‘একমুখী প্রচারণা’ চালানো হচ্ছে। এতে সংস্থাটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সভায় বক্তারা বলেন, কোনো অপরাধ, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সভায় বলা হয়, দেশের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক চরিত্র গঠন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কওমি মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়কে সমগ্র কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আরোপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

সভায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো সংবাদ, ভিডিও, বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ কিংবা প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় কওমি মাদ্রাসাসংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট গ্রহণের জন্য ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ) একটি বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই নম্বরে মেসেজ, ভয়েস কল, ছবি, ভিডিও এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানো যাবে।

আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয় সভায়। পাশাপাশি প্রতিটি বোর্ড নিজ নিজ অধিভুক্ত মাদ্রাসার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক ‘মাদ্রাসা মনিটরিং সেল’ গঠন করবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাদ্রাসা পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সভায় গঠিত কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’-এর সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ এবং মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।

Ad 300x250

সম্পর্কিত