ভারতে পালাচ্ছিলেন ইমন, গোঁফ না থাকায় চিনতে বেগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর ও চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৭: ০৩
তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। ছবি: সংগৃহীত

তিন সহযোগীসহ চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় একটি প্রাইভেটকার তল্লাশির সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে চারজনকে হস্তান্তর করা হয়।

যশোরের এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন– এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার তল্লাশি করা হয়। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়। পরে তিন সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। যশোরের পুলিশ জানায়, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুরে অবস্থান নেয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে কালো রঙের একটি প্রাইভেটকার সন্দেহ হলে তল্লাশির সময় ইমনকে শনাক্ত করে পুলিশ। তবে ইমনের আলোচিত গোঁফ কেটে ফেলায় শুরুতে পুলিশের চিনতে বেগ পেতে হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন স্বীকার করেন– তিনি চট্টগ্রাম নগরীর আলোচিত ডেভিড ইমন।

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের পরিচিত নাম ডেভিড ইমন। বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী তিনি। চট্টগ্রামে ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া কুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্র-সংক্রান্ত অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে দুই বছর ধরে বেশ কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

সূত্রের দাবি, চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি চক্র সচল রাখার পেছনে ইমনের মূল ভূমিকা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী তিনি। চট্টগ্রামে ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্র-সংক্রান্ত অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমন ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলার আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন– এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল।

চট্টগ্রাম পুলিশ জানায়, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিতেন দুজন। তাঁদের একজন ইমন; অন্যজন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকায় ইমনের সঙ্গে নেতৃত্বে আছেন মোহাম্মদ রায়হান। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় বলে দাবি পুলিশের।

চট্টগ্রামের এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘আমি নিজেই অভিযানে ছিলাম। যশোর থেকে তাদের নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। বুধবার ইমনের অন্যতম সহযোগী রায়হানকেও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত