সাতক্ষীরা সদরে বৃষ্টির পানি নামার সুযোগ নেই, জলাবদ্ধতায় জীবন পর্যুদস্ত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা

জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে পথঘাট, এমনকি বাড়ির আঙিনাও। কিন্তু তাই বলে পড়ালেখা তো থেমে থাকার নয়। ভেলায় চড়ে ব্যাগ কাঁধে পড়তে যাচ্ছে এক শিশু। ছবি : স্ট্রিম
জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে পথঘাট, এমনকি বাড়ির আঙিনাও। কিন্তু তাই বলে পড়ালেখা তো থেমে থাকার নয়। ভেলায় চড়ে ব্যাগ কাঁধে পড়তে যাচ্ছে এক শিশু। ছবি : স্ট্রিম

দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘরবাড়িতে পানি জমে আছে। স্বাভাবিক চলাচল ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ভরাট এবং অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে পানি নামতে না পারায় এই দুর্ভোগ।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জুলাই এক দিনেই ২২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

এতে কামালনগর, ইটাগাছা, মধুমল্লারডাঙ্গী, বদ্দীপুর কলোনি, মধ্যকাটিয়া, রইচপুর, রাজারবাগান, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ পৌরসভা ও সদরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কোথাও হাঁটুসমান আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। রান্নাঘরে পানি উঠায় অনেক পরিবার দৈনন্দিন খাবার তৈরি করতে পারছে না।

বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। জমে থাকা পানিতে বেড়েছে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব। ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানা রোগ।

বদ্দীপুর কলোনির বাসিন্দা ছালমা খাতুন বলেন, ‘আমরা এক যুগ ধরে এই দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টি হলেই এলাকায় পানি জমে যায়। রান্নাবান্না করা যায় না, ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। পৌরসভায় থেকেও আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাই না।’

রইচপুর এলাকার আবু জাফর বলেন, ‘বৃষ্টির পানি এতটুকুও সরছে না। ঢালুর দিকে মাছের ঘের থাকায় পানি আটকে আছে। দীর্ঘদিন জমে থাকায় পানি দূষিত হয়ে পড়ছে তাই ঘরে ঘরে চর্মরোগ বেড়েছে।’

ইটাগাছার বাসিন্দা মোকাররম বিল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সবার পায়ে ঘা-পাচড়া হয়েছে। প্রচণ্ড চুলকানির সঙ্গে জ্বালা-যন্ত্রণায় ভুগতে হচ্ছে।’

মধ্যকাটিয়ার বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন, ‘পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। এখন আবার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। বাচ্চাদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য শহরে এসেও জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না।’

নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহসভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, ‘সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে খালগুলো গভীর করতে হবে। যত্রতত্র মাছের ঘের এবং পানি আটকে রাখা নেট-পাটা অপসারণ করতে হবে। না হলে এর সমাধান হবে না।’

অতিবৃষ্টির কারণে জেলার শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘জেলার ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। চেয়ার-টেবিল পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক স্কুলে পাঠদান কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষ পানিতে ডুবে যাওয়ায় সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আপাতত পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন স্থানে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ের মতো এবারও কয়েকটি পয়েন্টে খাল কাটা, ড্রেন নির্মাণ ও খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।’

বদ্দীপুর কলোনির জলাবদ্ধতা নিরসনে কলু মোল্লার খালের ভরাট অংশ খনন করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি কামালনগর খালসহ পলিমাটি জমে ভরাট হওয়া স্লুইস গেটগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত