গণমাধ্যমের তোষামোদি না চাইলেও দেখতে হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ২০: ১৫
‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে সেই দায়িত্ব পালন না করে গণমাধ্যমের মানুষেরা তোষামোদিতে ব্যস্ত ছিলেন। এই তোষামোদি আর না চাইলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো তা দেখতে হচ্ছে।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারকে সম্মাননা ও এক লাখ টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয় এনইসির পক্ষ থেকে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তোষামোদি, মোসাহেবি– এই জিনিসটা আর দেখতে চাই না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওটাই...দেখতে হয়। রাজনীতিতে একই ঘটনা ঘটে। আপনার আমলাতন্ত্রে একই ঘটনা ঘটে। সামথিং রং। আমরা কেন জানি না জাতিগতভাবে বেরিয়ে আসতে পারছি না। জাতিগতভাবে এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে একটা বড় ধরনের বিপ্লবের প্রয়োজন হতে পারে। যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমূল পরিবর্তন আসবে।’

জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এই বিতর্ক সমাধান করতে হবে। বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসারও আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন যে নতুন রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস আছে। আমরা ন্যায় ও ইনসাফের রাষ্ট্র গঠন করতে পারব। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে সরকার।

মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলন অনেক হয়েছে। এবার সংসদে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন একটা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে আর সহিংসতার পথে যেতে না হয়। সবকিছুতে বিরোধিতার মানসিকতা থেকে বিরোধী দলকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারকে সম্মাননা ও এক লাখ টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যেসব বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মতানৈক্য হয়নি, সে বিষয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি কমিটি করা আছে। সংবিধানের যে বিষয়ে পরিবর্তন দরকার, সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করতে বিরোধী দল যেন সহায়তা করে।

বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের সময়ে দেশজুড়ে যে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, সেটা একদিনেই সবকিছু শুধরে দেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘কিন্তু কাজটা শুরু করতে হবে। আমার বিশ্বাস, এই কাজটা আজ শুরু হয়েছে। হয়তো অনেক অপূর্ণতা রয়েছে, অসংগতি রয়েছে। কিন্তু কাজটা শুরু হয়েছে। একেবারে হয়নি– কথা বলা যাবে না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এনইসির সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, আবার যাতে দেশে কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সেজন্য জাতিকে সার্বক্ষণিকভাবে সজাগ রাখার জন্য ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল গঠিত হয়েছে। সম্পাদকদের নতুন এই সংগঠনে ঢাকা ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের সম্পাদকেরা সমান গুরুত্ব পাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইংরেজি দ্য ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, জুলাই এখনো শেষ হয়নি। বরং যুগ যুগ ধরে তা চলতে থাকবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহনে এনইসির পক্ষ থেকে সব সময় সহযোগিতা করা হবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারকে সম্মাননা ও এক লাখ টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারকে সম্মাননা ও এক লাখ টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদকে দেশছাড়া করতে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে জুলাই শহীদদের। কিন্তু দেশে কোনো জুলাই শহীদ চত্বর নেই। শেখ হাসিনার পতন দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করার মতো জাতীয় কোনো স্থাপনা নেই।

তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান, যাতে একটি জুলাই শহীদ চত্বর গড়ে তোলা হয়। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিকদের হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান কাদের গণি চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিগত দিনে তিনি দেখেছেন, গণমাধ্যম যদি ফ্যাসিস্টের তাঁবেদারি না করত, তাহলে শেখ হাসিনা খুনি হওয়ার সাহস করতেন না। জুলাই শহীদদের হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি জানান, তাঁর স্বামী হত্যার দুই বছর পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তিনি হাসান মেহেদী হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর প্রমুখ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত