স্ট্রিম সংবাদদাতা

ঢাকার ধামরাইয়ে গাজিখালী নদীতে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি কালচে হয়ে গেছে। ভেসে উঠছে মরা মাছসহ জলজ প্রাণী। নদীর তীরজুড়ে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
জানতে চাইলে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ইনচার্জ মো. জাহিদ বলেন, ‘এটা তো আর নতুন কিছু না। এ রকম... বলে, সাংবাদিকরা আসে, বিভিন্ন রকম খবর হয়। হ্যাঁ, কথাবার্তা হয়। এটা নিয়ে আমরা অতটা চিন্তিত (ওরিড) না।’
সরেজমিনে ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বাড়বাড়িয়া এলাকায় দেখা যায়, গাজিখালী নদীর বিভিন্ন অংশের পানি কালচে রং ধারণ করেছে। পানিতে ভাসছে অসংখ্য মরা মাছসহ জলজ প্রাণী। কারখানা থেকে নির্গত পানির সঙ্গে মিশে নদীর বড় একটি অংশে বিশাল আকারের সাদা ফেনা ও বুদবুদের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গন্ধের কারণে নদীতীরে টেকা দায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় গাজিখালী নদী দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল। কিন্তু বছর কয়েক আগে এখানে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানা গড়ে ওঠে। এরপর থেকে নদীর পরিবেশ নষ্ট হতে শুরু করে।

অভিযোগ রয়েছে, কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) থাকলেও, সেটি নিয়মিত চালানো হয় না। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টির সময় নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে কৌশলে বিপুল পরিমাণ তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, ‘কারখানার বর্জ্যের কারণে শুধু নদী নয়, আশপাশের পুরো পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্গন্ধ ও দূষিত পানির কারণে শিশু, বৃদ্ধসহ আমরা সবাই নানা রোগে ভুগছি। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কাজ হয়নি।’
নদীতে ভেসে থাকা বিশাল ফেনা ও মরা মাছের ছবি পাঠালে তা বিশ্লেষণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, ‘ছবি দেখে সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক শনাক্ত করা কঠিন। তবে অস্বাভাবিক সাদা ফেনা, মাছের গণমৃত্যু এবং ঘাসের রং পরিবর্তনের যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবেই কোনো শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্য পানিতে প্রবেশের প্রমাণ বহন করে।’
তিনি এই দূষণের পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বলেন, কারখানায় পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত সার্ফ্যাক্ট্যান্ট বা ডিটারজেন্টজাতীয় রাসায়নিক পানিতে গেলে এমন স্থায়ী ফেনা তৈরি করে, যা নদীর পানিতে অক্সিজেনের আদান-প্রদান আটকে দেয়। এছাড়া বর্জ্যে থাকা উচ্চমাত্রার জৈব দূষক এবং অ্যামোনিয়াজাতীয় রাসায়নিক নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন দ্রুত নিঃশেষ করে ফেলে এবং মাছের কানকা বা গিল ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে মাছ দ্রুত মারা যায়।
ফার্মাসিউটিক্যাল বর্জ্যের ভয়াবহতা তুলে ধরে এই অধ্যাপক আরও একটি বড় আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ওষুধ কারখানার বর্জ্যে অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধের অবশিষ্টাংশ থাকলে তা পরিবেশে “অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স” (অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু) তৈরি করতে পারে। এটি হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এছাড়া এই দূষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করলে মাটির গুণগত মান নষ্ট হবে এবং দূষিত মাছ খেলে মানুষের শরীরে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

কারখানার বর্জ্যই যে দূষণের জন্য দায়ী, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণের জন্য তিনি বর্জ্য নির্গমনের ড্রেনের মুখ, নদীর উজান এবং ভাটি– এই তিন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পরীক্ষার পরামর্শ দেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে উচ্চমাত্রার দূষণকারী বা ‘লাল শ্রেণি’ভুক্ত (রেড ক্যাটাগরি) শিল্প বিবেচনা করা হয়। এসব কারখানার জন্য কার্যকর ইটিপি স্থাপন এবং তা সার্বক্ষণিক সচল রাখা বাধ্যতামূলক। অপরিশোধিত তরল বর্জ্য জলাশয়ে ফেললে জরিমানা বা কারখানা বন্ধের বিধান রয়েছে।
এটা তো আর নতুন কিছু না। এ রকম... বলে, সাংবাদিকরা আসে, বিভিন্ন রকম খবর হয়। হ্যাঁ, কথাবার্তা হয়। এটা নিয়ে আমরা অতটা চিন্তিত (ওরিড) না। মো. জাহিদ, ইনচার্জ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সম্প্রতি বিষয়টি জেনেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানেরই ইটিপি ছাড়া বা বন্ধ রেখে চলার সুযোগ নেই। দ্রুত তদন্ত করে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকার ধামরাইয়ে গাজিখালী নদীতে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি কালচে হয়ে গেছে। ভেসে উঠছে মরা মাছসহ জলজ প্রাণী। নদীর তীরজুড়ে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
জানতে চাইলে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ইনচার্জ মো. জাহিদ বলেন, ‘এটা তো আর নতুন কিছু না। এ রকম... বলে, সাংবাদিকরা আসে, বিভিন্ন রকম খবর হয়। হ্যাঁ, কথাবার্তা হয়। এটা নিয়ে আমরা অতটা চিন্তিত (ওরিড) না।’
সরেজমিনে ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বাড়বাড়িয়া এলাকায় দেখা যায়, গাজিখালী নদীর বিভিন্ন অংশের পানি কালচে রং ধারণ করেছে। পানিতে ভাসছে অসংখ্য মরা মাছসহ জলজ প্রাণী। কারখানা থেকে নির্গত পানির সঙ্গে মিশে নদীর বড় একটি অংশে বিশাল আকারের সাদা ফেনা ও বুদবুদের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গন্ধের কারণে নদীতীরে টেকা দায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় গাজিখালী নদী দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর ছিল। কিন্তু বছর কয়েক আগে এখানে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানা গড়ে ওঠে। এরপর থেকে নদীর পরিবেশ নষ্ট হতে শুরু করে।

অভিযোগ রয়েছে, কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) থাকলেও, সেটি নিয়মিত চালানো হয় না। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টির সময় নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে কৌশলে বিপুল পরিমাণ তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, ‘কারখানার বর্জ্যের কারণে শুধু নদী নয়, আশপাশের পুরো পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্গন্ধ ও দূষিত পানির কারণে শিশু, বৃদ্ধসহ আমরা সবাই নানা রোগে ভুগছি। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কাজ হয়নি।’
নদীতে ভেসে থাকা বিশাল ফেনা ও মরা মাছের ছবি পাঠালে তা বিশ্লেষণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, ‘ছবি দেখে সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক শনাক্ত করা কঠিন। তবে অস্বাভাবিক সাদা ফেনা, মাছের গণমৃত্যু এবং ঘাসের রং পরিবর্তনের যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবেই কোনো শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্য পানিতে প্রবেশের প্রমাণ বহন করে।’
তিনি এই দূষণের পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বলেন, কারখানায় পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত সার্ফ্যাক্ট্যান্ট বা ডিটারজেন্টজাতীয় রাসায়নিক পানিতে গেলে এমন স্থায়ী ফেনা তৈরি করে, যা নদীর পানিতে অক্সিজেনের আদান-প্রদান আটকে দেয়। এছাড়া বর্জ্যে থাকা উচ্চমাত্রার জৈব দূষক এবং অ্যামোনিয়াজাতীয় রাসায়নিক নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন দ্রুত নিঃশেষ করে ফেলে এবং মাছের কানকা বা গিল ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে মাছ দ্রুত মারা যায়।
ফার্মাসিউটিক্যাল বর্জ্যের ভয়াবহতা তুলে ধরে এই অধ্যাপক আরও একটি বড় আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ওষুধ কারখানার বর্জ্যে অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধের অবশিষ্টাংশ থাকলে তা পরিবেশে “অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স” (অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু) তৈরি করতে পারে। এটি হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এছাড়া এই দূষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করলে মাটির গুণগত মান নষ্ট হবে এবং দূষিত মাছ খেলে মানুষের শরীরে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

কারখানার বর্জ্যই যে দূষণের জন্য দায়ী, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণের জন্য তিনি বর্জ্য নির্গমনের ড্রেনের মুখ, নদীর উজান এবং ভাটি– এই তিন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পরীক্ষার পরামর্শ দেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে উচ্চমাত্রার দূষণকারী বা ‘লাল শ্রেণি’ভুক্ত (রেড ক্যাটাগরি) শিল্প বিবেচনা করা হয়। এসব কারখানার জন্য কার্যকর ইটিপি স্থাপন এবং তা সার্বক্ষণিক সচল রাখা বাধ্যতামূলক। অপরিশোধিত তরল বর্জ্য জলাশয়ে ফেললে জরিমানা বা কারখানা বন্ধের বিধান রয়েছে।
এটা তো আর নতুন কিছু না। এ রকম... বলে, সাংবাদিকরা আসে, বিভিন্ন রকম খবর হয়। হ্যাঁ, কথাবার্তা হয়। এটা নিয়ে আমরা অতটা চিন্তিত (ওরিড) না। মো. জাহিদ, ইনচার্জ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সম্প্রতি বিষয়টি জেনেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানেরই ইটিপি ছাড়া বা বন্ধ রেখে চলার সুযোগ নেই। দ্রুত তদন্ত করে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
.png)

আপাতত ৩৮ হাজারের যে সংখ্যা দেখানো হচ্ছে, এটি মূলত অস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি। এখানকার একটি অংশ পরে স্থায়ী বাস্তুচ্যুতির শিকার হবেন। বাস্তুচ্যুতরা তাঁদের সহায়-সম্বল হারান। ফলে দারিদ্র্যসীমার নিচের মানুষেরা হন অতিদরিদ্র।
১৪ জুলাই ২০২৬
প্রায় প্রতিবর্ষায় বন্যা আসে। এ বছরও জুলাই মাসে টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। দেশের দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় মারা গেছেন অন্তত ৫১ জন।
১৩ জুলাই ২০২৬
গত ৪০ দিনে রাজধানী ঢাকা এবং ভারতের আসামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে, যার অধিকাংশই বিদেশি। ধরা পড়েছেন পাচার চক্রের একাধিক সদস্য। পাচারের ধরন, আটক ব্যক্তিদের বয়ান এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের একটি নি
০৭ জুলাই ২০২৬
কোনো বন্য প্রাণীকে উদ্ধার করে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। কিন্তু এরপর কী ঘটে? নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, সব ক্ষেত্রে বনে ফিরে পাওয়া স্বাধীনতা নিরাপদ নয়। অনেক সময় সেটিই প্রাণীদের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদ’ হতে পারে।
০৭ জুলাই ২০২৬