জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গুলশানে ফ্ল্যাট দুর্নীতি

টিউলিপ সিদ্দিককে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৭: ৩০
টিউলিপ সিদ্দিক। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর গুলশানে ঘুষ হিসেবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ দুই আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। মামলার অপর আসামি হলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পেরে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পলাতক আসামিদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ২৯ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে গুলশান-২ নম্বরে একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিককে ঘুষ হিসেবে দিতে সহায়তা করেন। টিউলিপ সিদ্দিক কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ওই ফ্ল্যাটটি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে সেটির খতিয়ান ও অনুমোদন আদায় করেন।

তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর টিউলিপ সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। আদালত গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ‘রেড নোটিশ’ জারির নির্দেশ দেন আদালত। সর্বশেষ রোববারের আদেশের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

এই মামলায় রাজউকের আরেক সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামানকেও আসামি করা হয়েছিল। তবে গত বছরের জুলাই মাসে মামলার তদন্ত স্থগিত চেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের ক্ষেত্রে তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গেলে আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে ওই আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার সুযোগ নেই বলে দুদক জানিয়েছে।

এর আগে, পূর্বাচল নতুন শহরে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দের আলাদা তিনটি মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এক ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড দামের একটি ফ্ল্যাট উপহার পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। এই সংবাদ নিয়ে যুক্তরাজ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে গত জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকারের সিটি মিনিস্টার পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন টিউলিপ।

সম্পর্কিত