তৌফিক হাসান

রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর ও কাজিপাড়া এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই মাস ধরে চলা এই দুর্ভোগের জন্য ঢাকা ওয়াসা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াকে দায়ী করলেও এলাকাবাসী দুষছেন ত্রুটিপূর্ণ পাম্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে। পাম্প নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও লুকোচুরি ও তথ্যগত গড়মিল দেখা যায়।
ওই এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিদিনই রান্নাবান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া ও শৌচাগার ব্যবহারের মতো জরুরি কাজে হয় পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে, না হয় ওয়াসার পানির গাড়ির পেছনে লাইন দিতে হচ্ছে। সেই ওয়াসার পানির গাড়ি নিয়েও রয়েছে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। এলাকাবাসীরা বলছেন, ‘ওয়াসার গাড়ির দেখা পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। কখনো দুপুরে, কখনো আবার রাতে গাড়ির দেখা পাওয়া যায়। অনেক সময় রাত তিনটার দিকেও গাড়ির দেখা পাওয়া গেছে। আবার সকাল ১০টায়ও গাড়ি আসছে। তবে এমনও দিন গেছে যখন গাড়ির দেখা মেলেনি। দুই-তিন দিন না আসারও অভিযোগ রয়েছে।’
গত তিন বছর ধরে পূর্ব মনিপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন এসএম তারিকুল ইসলাম। পানি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ট্যাংকিতে কখনো ২ ফুট কখনো ১ ফুট পানি পাওয়া যায়। আর বেশিরভাগ সময় তো এক ফোঁটাও পানি আসে না। ৫০ টাকা করে গ্যালন ভরে পানি কিনে এনে গোসল করি। প্রতিদিন ১০-১২ গ্যালন কিনে আনতে হয়। ওইটা দিয়ে রান্না-বান্না হয়। আর খাওয়ার জন্য বোতলজাত পানি কিনে নিয়ে আসি। খুবই বাজে অবস্থার মধ্যে রয়েছি আমরা।’

আরেক বাসিন্দা সাগর মল্লিক বলেন, ‘দুই মাস ধরে পানি পাচ্ছি না। সকালে উঠে মনিপুর-১ নম্বর পাম্পে যাই। সেখানে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। গাড়ি আসলে পানি নিয়ে এরপর গোসল ও খাওয়া-দাওয়া সারি। কোনো সময় পানি না পাওয়া গেলে মিরপুর-১ নম্বরে আত্মীয়ের বাসায় যেতে হয়। এভাবে আর কত দিন বলেন? এই ভোগান্তির তো শেষ হওয়া প্রয়োজন।’
শুধু বাসাবাড়ি নয়, পানি সংকটের প্রভাব স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পড়েছে। তাঁদেরও বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি জোগাড় করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালাতে হয়। পূর্ব মনিপুর এলাকার শেষ দিকে ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি সেলুন চালান সৈকত হোসেন। তিনি বলেন, ‘অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাইতে সেলুনে বেশি পানির প্রয়োজন হয়। এখন আমাদের পানি কিনে কিংবা কোনো বাসায় পাওয়া গেলে সেখান থেকে নিয়ে আসতে হয়। এর জন্য এখন বেশিরভাগ সময় সেলুন বন্ধ রাখি।’
এ সংকটের জন্য সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নে অবস্থিত ঢাকা ওয়াসার দুটি প্ল্যান্টের পাম্প নষ্ট হওয়াকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তবে ওয়াসা বলছে, মনিপুর-কাজিপাড়ার বাসিন্দাদের পানি না পাওয়ার পেছনে বড় সমস্যা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া। কারণ, প্ল্যান্টের পাম্প ইতিমধ্যেই ঠিক হয়ে গেছে।
ঢাকা ওয়াসার মড্স জোন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভাকুর্তায় প্ল্যান্টের পাম্প ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কারণে কিছু দিন বন্ধ ছিল। তবে এখন পাম্প ঠিক হয়ে গেছে। প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে পানি ছাড়া হচ্ছে। এর ফলে মনিপুরে না ঢুকলেও কাজিপাড়ার বেশ কিছু বাড়িতে পানি পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মনিপুরে পানি না পাওয়ার পেছনে প্ল্যান্টের পাম্প নষ্ট হওয়া বড় কারণ নয়। এখানে বড় কারণ হলো যে নলকূপগুলো রয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। এ জন্য নতুন করে দুটি নলকূপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই দুটির কাজ শেষ হলে আশা করি ওই এলাকায় পানির সরবরাহ বাড়বে।’

মিরপুরের মনিপুর-কাজিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মনিপুর এলাকার প্রবেশমুখে মিরপুর-২ নম্বর বড়বাগ বাজারের বিপরীত পাশে একটি নলকূপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে আগে থেকে একটি নলকূপ ছিল, যেটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সেখানে অবস্থানরত ওয়াসার নিযুক্ত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার রাত থেকেই তাঁরা এখানে নলকূপ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এখনো মাটি খননের কাজ শুরু হয়নি। কাজ শুরু হলে বোঝা যাবে কত ফুট মাটি খনন করা যাবে। তবে তাঁদের ধারণা, পানির স্তর খোঁজার জন্য এক হাজার ফুট পর্যন্ত খনন করা লাগতে পারে। যদি সেখানেও পানির দেখা না পাওয়া যায়, তবে আরও নিচে খনন করা হবে।
শুধু বড়বাগ বাজারের বিপরীত পাশেই নয়, পূর্ব মনিপুর এলাকা শেষে কাজিপাড়া এলাকার শুরুর দিকে বাইশবাড়ি পানির পাম্পেও আরেকটি নলকূপ তৈরির কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। গত দুই দিন ধরে এই নলকূপটি বসানোর কাজ চলছে। তবে এখনো পানির দেখা পাননি বলে জানান সেখানকার ওয়াসার নিযুক্ত শ্রমিক তালেব মিয়া। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৭০০ ফুট খনন করেছি। তবুও পানির দেখা মিলছে না। মনে হচ্ছে আরও আড়াই শ ফুট খনন করলে পানির দেখা পাওয়া যেতে পারে।’
তবে নতুন নতুন নলকূপ বসানোই টেকসই সমাধান নয় বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের (ইউআরপি) অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে আমরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আমরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় গভীর নলকূপ তৈরি করে সেখান থেকে পানি উত্তোলন করি। কিন্তু যে পরিমাণ উত্তোলন করা হয়, সে পরিমাণ পানি আবার ফিরে আসে না। এর ফলে ঘাটতি থেকে যায়। যে কারণে প্রতি বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে নলকূপগুলো আর পানি পায় না। এই কারণেই মনিপুর-কাজিপাড়া এলাকায় পানির সংকট তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি তোলা টেকসই ব্যবস্থাপনা নয়। ভূপৃষ্ঠের অর্থাৎ “সারফেস ওয়াটারের” ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে না পারলে ঢাকা শহরের অস্তিত্বের সংকট তৈরি হবে।’

সাভার ভাকুর্তার পাম্প নিয়ে নানা মত
রাজধানীর বাইরে সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের সোলাই মার্কেট এলাকা ও চায়রা মুসরি খোলা এলাকায় দুটি ‘সাভার-কেরানীগঞ্জ ওয়েলফিল্ড প্ল্যান্ট আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট’ স্থাপন করেছে ঢাকা ওয়াসা। যেখানে ৪২টির মতো পানির পাম্প রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা হয়। এর অধিকাংশ পানি মিরপুর অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। সপ্তাহখানেক আগে প্ল্যান্ট দুটির পাম্প নষ্টের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এই বিষয়ে সে সময় স্পষ্ট কোনো উত্তর ওয়াসা থেকে পাওয়া যায়নি।
আসলেই কি প্ল্যান্টের পাম্প নষ্ট হয়েছে নাকি অন্য কোনো ঘটনা— তা খুঁজতে এই প্রতিবেদক সাভারের ভাকুর্তায় যান। সেখানে গিয়ে প্রথমে চায়রা মুসরি খোলার প্ল্যান্ট-২ এ প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী হুমায়ুন জানান, সেখানে কোনো কর্মকর্তাই থাকেন না। তাঁরাই দেখভাল করেন। কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে এসে পরিদর্শন করেন। পাম্প নষ্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসী ১০-১২ দিন হলো পাম্প ঠিক করতে দিচ্ছে না। এর আগে ওই সময় ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ হয়। তারপর ৩ থেকে ৪ দিন পাম্প বন্ধ ছিল।’
এরপর সেখান থেকে সোলাই মার্কেট এলাকার প্ল্যান্ট-১ এ গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রবেশপথে আটকে দেন। প্রজেক্ট ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করার কথা জানালে তাঁরা জানান, দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সবাই মিটিংয়ে আছেন। আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর তাঁরা পাম্পের ইনচার্জ মো. খোকনের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। খোকনের কাছে প্রজেক্ট ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘এখানে কারো সঙ্গে কথা বলা যাবে না। এটা আমাদের কোনো নিয়ম নেই।’ এরপরেই তিনি ফোন কেটে দেন।
এরপর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের একটি নম্বরে ফোন দিলে একজন বলেন, ‘আমাদের এখানে কথা বলার নিয়ম নেই। আপনি সব তথ্য আমাদের মূল শাখা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাবেন।’ এ সময় পাম্প নষ্টের বিষয় জানতে চাইলে তিনি একটু চুপ থেকে বলেন, ‘এখানে এখন পাম্প চালু আছে।’ নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পুনরায় ফোন কেটে দেন।
আরেক নিরাপত্তাকর্মীর কাছে পাম্প নষ্ট ও এলাকাবাসীর বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, ‘পাম্প? না, এখানে তো কোনো পাম্প নষ্ট নেই। হ্যাঁ, ১০-১৫ দিন আগে পাম্পের একটু সমস্যা হয়েছিল, সেটা মেরামত করা হয়েছে। এখন তো ঠিক আছে।’
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভাকুর্তায় ৪০টার উপরে পানির পাম্প আছে। ওখান থেকে পানি এনে মিরপুরের কিছু এলাকায় দেওয়া হয়। এখন ওখানে এতগুলো পাম্প বসানোর কারণে স্থানীয় মানুষ তাঁদের চাপকলে পানি পান না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াসা তাঁদের আশেপাশে যারা আছে তাঁদের পানির লাইন দিয়ে দিছে। যাতে চাপকল ব্যবহার করা না লাগে। এখন সবাইকে তো আর দিতে পারে নাই। যারা দূরে আছে তারা পানি পায় না দেইখা ১৫-২০ দিন আগে পাম্প বন্ধ করে দিছে। লাঠিসোটা নিয়ে আইসা পাম্প বন্ধ করে দিছে। পাম্প বন্ধ থাকায় মিরপুর এলাকায় পানির ক্রাইসিস দেখা দিছে।’
তবে এই ঘটনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ঢাকা ওয়াসার মড্স জোন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্ল্যান্টের পাম্প ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কারণেই নষ্ট হয়েছিল। ৩-৪ দিন পরে আবার ঠিক হয়ে গেছে। আর এলাকাবাসীর বাধার ঘটনা শুরুর দিকে ছিল। এরপরে আর এমন ঘটনা ঘটেনি।’

রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর ও কাজিপাড়া এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই মাস ধরে চলা এই দুর্ভোগের জন্য ঢাকা ওয়াসা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াকে দায়ী করলেও এলাকাবাসী দুষছেন ত্রুটিপূর্ণ পাম্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে। পাম্প নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও লুকোচুরি ও তথ্যগত গড়মিল দেখা যায়।
ওই এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিদিনই রান্নাবান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া ও শৌচাগার ব্যবহারের মতো জরুরি কাজে হয় পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে, না হয় ওয়াসার পানির গাড়ির পেছনে লাইন দিতে হচ্ছে। সেই ওয়াসার পানির গাড়ি নিয়েও রয়েছে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। এলাকাবাসীরা বলছেন, ‘ওয়াসার গাড়ির দেখা পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। কখনো দুপুরে, কখনো আবার রাতে গাড়ির দেখা পাওয়া যায়। অনেক সময় রাত তিনটার দিকেও গাড়ির দেখা পাওয়া গেছে। আবার সকাল ১০টায়ও গাড়ি আসছে। তবে এমনও দিন গেছে যখন গাড়ির দেখা মেলেনি। দুই-তিন দিন না আসারও অভিযোগ রয়েছে।’
গত তিন বছর ধরে পূর্ব মনিপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন এসএম তারিকুল ইসলাম। পানি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ট্যাংকিতে কখনো ২ ফুট কখনো ১ ফুট পানি পাওয়া যায়। আর বেশিরভাগ সময় তো এক ফোঁটাও পানি আসে না। ৫০ টাকা করে গ্যালন ভরে পানি কিনে এনে গোসল করি। প্রতিদিন ১০-১২ গ্যালন কিনে আনতে হয়। ওইটা দিয়ে রান্না-বান্না হয়। আর খাওয়ার জন্য বোতলজাত পানি কিনে নিয়ে আসি। খুবই বাজে অবস্থার মধ্যে রয়েছি আমরা।’

আরেক বাসিন্দা সাগর মল্লিক বলেন, ‘দুই মাস ধরে পানি পাচ্ছি না। সকালে উঠে মনিপুর-১ নম্বর পাম্পে যাই। সেখানে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। গাড়ি আসলে পানি নিয়ে এরপর গোসল ও খাওয়া-দাওয়া সারি। কোনো সময় পানি না পাওয়া গেলে মিরপুর-১ নম্বরে আত্মীয়ের বাসায় যেতে হয়। এভাবে আর কত দিন বলেন? এই ভোগান্তির তো শেষ হওয়া প্রয়োজন।’
শুধু বাসাবাড়ি নয়, পানি সংকটের প্রভাব স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পড়েছে। তাঁদেরও বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি জোগাড় করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালাতে হয়। পূর্ব মনিপুর এলাকার শেষ দিকে ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি সেলুন চালান সৈকত হোসেন। তিনি বলেন, ‘অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাইতে সেলুনে বেশি পানির প্রয়োজন হয়। এখন আমাদের পানি কিনে কিংবা কোনো বাসায় পাওয়া গেলে সেখান থেকে নিয়ে আসতে হয়। এর জন্য এখন বেশিরভাগ সময় সেলুন বন্ধ রাখি।’
এ সংকটের জন্য সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নে অবস্থিত ঢাকা ওয়াসার দুটি প্ল্যান্টের পাম্প নষ্ট হওয়াকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তবে ওয়াসা বলছে, মনিপুর-কাজিপাড়ার বাসিন্দাদের পানি না পাওয়ার পেছনে বড় সমস্যা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া। কারণ, প্ল্যান্টের পাম্প ইতিমধ্যেই ঠিক হয়ে গেছে।
ঢাকা ওয়াসার মড্স জোন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভাকুর্তায় প্ল্যান্টের পাম্প ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কারণে কিছু দিন বন্ধ ছিল। তবে এখন পাম্প ঠিক হয়ে গেছে। প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে পানি ছাড়া হচ্ছে। এর ফলে মনিপুরে না ঢুকলেও কাজিপাড়ার বেশ কিছু বাড়িতে পানি পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মনিপুরে পানি না পাওয়ার পেছনে প্ল্যান্টের পাম্প নষ্ট হওয়া বড় কারণ নয়। এখানে বড় কারণ হলো যে নলকূপগুলো রয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। এ জন্য নতুন করে দুটি নলকূপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই দুটির কাজ শেষ হলে আশা করি ওই এলাকায় পানির সরবরাহ বাড়বে।’

মিরপুরের মনিপুর-কাজিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মনিপুর এলাকার প্রবেশমুখে মিরপুর-২ নম্বর বড়বাগ বাজারের বিপরীত পাশে একটি নলকূপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে আগে থেকে একটি নলকূপ ছিল, যেটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সেখানে অবস্থানরত ওয়াসার নিযুক্ত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার রাত থেকেই তাঁরা এখানে নলকূপ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এখনো মাটি খননের কাজ শুরু হয়নি। কাজ শুরু হলে বোঝা যাবে কত ফুট মাটি খনন করা যাবে। তবে তাঁদের ধারণা, পানির স্তর খোঁজার জন্য এক হাজার ফুট পর্যন্ত খনন করা লাগতে পারে। যদি সেখানেও পানির দেখা না পাওয়া যায়, তবে আরও নিচে খনন করা হবে।
শুধু বড়বাগ বাজারের বিপরীত পাশেই নয়, পূর্ব মনিপুর এলাকা শেষে কাজিপাড়া এলাকার শুরুর দিকে বাইশবাড়ি পানির পাম্পেও আরেকটি নলকূপ তৈরির কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। গত দুই দিন ধরে এই নলকূপটি বসানোর কাজ চলছে। তবে এখনো পানির দেখা পাননি বলে জানান সেখানকার ওয়াসার নিযুক্ত শ্রমিক তালেব মিয়া। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৭০০ ফুট খনন করেছি। তবুও পানির দেখা মিলছে না। মনে হচ্ছে আরও আড়াই শ ফুট খনন করলে পানির দেখা পাওয়া যেতে পারে।’
তবে নতুন নতুন নলকূপ বসানোই টেকসই সমাধান নয় বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের (ইউআরপি) অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে আমরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আমরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় গভীর নলকূপ তৈরি করে সেখান থেকে পানি উত্তোলন করি। কিন্তু যে পরিমাণ উত্তোলন করা হয়, সে পরিমাণ পানি আবার ফিরে আসে না। এর ফলে ঘাটতি থেকে যায়। যে কারণে প্রতি বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে নলকূপগুলো আর পানি পায় না। এই কারণেই মনিপুর-কাজিপাড়া এলাকায় পানির সংকট তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি তোলা টেকসই ব্যবস্থাপনা নয়। ভূপৃষ্ঠের অর্থাৎ “সারফেস ওয়াটারের” ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে না পারলে ঢাকা শহরের অস্তিত্বের সংকট তৈরি হবে।’

সাভার ভাকুর্তার পাম্প নিয়ে নানা মত
রাজধানীর বাইরে সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের সোলাই মার্কেট এলাকা ও চায়রা মুসরি খোলা এলাকায় দুটি ‘সাভার-কেরানীগঞ্জ ওয়েলফিল্ড প্ল্যান্ট আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট’ স্থাপন করেছে ঢাকা ওয়াসা। যেখানে ৪২টির মতো পানির পাম্প রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা হয়। এর অধিকাংশ পানি মিরপুর অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। সপ্তাহখানেক আগে প্ল্যান্ট দুটির পাম্প নষ্টের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এই বিষয়ে সে সময় স্পষ্ট কোনো উত্তর ওয়াসা থেকে পাওয়া যায়নি।
আসলেই কি প্ল্যান্টের পাম্প নষ্ট হয়েছে নাকি অন্য কোনো ঘটনা— তা খুঁজতে এই প্রতিবেদক সাভারের ভাকুর্তায় যান। সেখানে গিয়ে প্রথমে চায়রা মুসরি খোলার প্ল্যান্ট-২ এ প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী হুমায়ুন জানান, সেখানে কোনো কর্মকর্তাই থাকেন না। তাঁরাই দেখভাল করেন। কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে এসে পরিদর্শন করেন। পাম্প নষ্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসী ১০-১২ দিন হলো পাম্প ঠিক করতে দিচ্ছে না। এর আগে ওই সময় ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ হয়। তারপর ৩ থেকে ৪ দিন পাম্প বন্ধ ছিল।’
এরপর সেখান থেকে সোলাই মার্কেট এলাকার প্ল্যান্ট-১ এ গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রবেশপথে আটকে দেন। প্রজেক্ট ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করার কথা জানালে তাঁরা জানান, দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সবাই মিটিংয়ে আছেন। আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর তাঁরা পাম্পের ইনচার্জ মো. খোকনের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। খোকনের কাছে প্রজেক্ট ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘এখানে কারো সঙ্গে কথা বলা যাবে না। এটা আমাদের কোনো নিয়ম নেই।’ এরপরেই তিনি ফোন কেটে দেন।
এরপর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের একটি নম্বরে ফোন দিলে একজন বলেন, ‘আমাদের এখানে কথা বলার নিয়ম নেই। আপনি সব তথ্য আমাদের মূল শাখা বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাবেন।’ এ সময় পাম্প নষ্টের বিষয় জানতে চাইলে তিনি একটু চুপ থেকে বলেন, ‘এখানে এখন পাম্প চালু আছে।’ নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি পুনরায় ফোন কেটে দেন।
আরেক নিরাপত্তাকর্মীর কাছে পাম্প নষ্ট ও এলাকাবাসীর বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, ‘পাম্প? না, এখানে তো কোনো পাম্প নষ্ট নেই। হ্যাঁ, ১০-১৫ দিন আগে পাম্পের একটু সমস্যা হয়েছিল, সেটা মেরামত করা হয়েছে। এখন তো ঠিক আছে।’
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভাকুর্তায় ৪০টার উপরে পানির পাম্প আছে। ওখান থেকে পানি এনে মিরপুরের কিছু এলাকায় দেওয়া হয়। এখন ওখানে এতগুলো পাম্প বসানোর কারণে স্থানীয় মানুষ তাঁদের চাপকলে পানি পান না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াসা তাঁদের আশেপাশে যারা আছে তাঁদের পানির লাইন দিয়ে দিছে। যাতে চাপকল ব্যবহার করা না লাগে। এখন সবাইকে তো আর দিতে পারে নাই। যারা দূরে আছে তারা পানি পায় না দেইখা ১৫-২০ দিন আগে পাম্প বন্ধ করে দিছে। লাঠিসোটা নিয়ে আইসা পাম্প বন্ধ করে দিছে। পাম্প বন্ধ থাকায় মিরপুর এলাকায় পানির ক্রাইসিস দেখা দিছে।’
তবে এই ঘটনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ঢাকা ওয়াসার মড্স জোন-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্ল্যান্টের পাম্প ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কারণেই নষ্ট হয়েছিল। ৩-৪ দিন পরে আবার ঠিক হয়ে গেছে। আর এলাকাবাসীর বাধার ঘটনা শুরুর দিকে ছিল। এরপরে আর এমন ঘটনা ঘটেনি।’
.png)

হামের উপসর্গে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের কারও হাম শনাক্ত হয়নি। শুক্রবার (০৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে ৯৬৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
৩২ মিনিট আগে
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিষয়টিকে ‘ইসলাম ধর্মের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ’ বলে দাবি করলেও প্রশ্ন উঠেছে পতাকার ডিজাইন ও রঙ নিয়ে। কারণ, বিশ্বব্যাপী পরিচিত জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদি সংগঠনগুলোর ব্যবহার করা পতাকার সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ‘ঢাকা স্ট্রিমের’ সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম)। উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর ব্যবহৃত পতাকার সদৃশ পতাকা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
বিশেষ ক্যালিগ্রাফিতে কালেমা খচিত সাদা-কালো পতাকা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পাবনায় একই ধরনের পতাকা নিয়ে মিছিল করেছে একটি দল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ সড়ক থেকে ‘পাবনার তরুণ আলেম ও ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে মিছিলটিতে ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো অংশ নেন।
৪ ঘণ্টা আগে