জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ফেসবুক ছবির উত্তাপ রাজনীতিতে, মুস্তাইন জহির কোথায়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ২১: ৩০
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে বিমানবন্দরে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে আছেন মুস্তাইন জহির। স্ট্রিম গ্রাফিক

ফেসবুকের এক ছবি ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। একপক্ষের দাবি, ছবির ব্যক্তি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য মুসতাইন বিল্লাহ (মুস্তাইন জহির) দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। রাজনীতিক থেকে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারিতে থাকায় তাঁকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। যদিও সামাজিক মাধ্যমেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুস্তাইন জহির।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর গণভবনে ঢুকে পড়ে অসংখ্য ছাত্র-জনতা। পরে এইটকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করতে সরকার যে পরামর্শক কমিটি করে, তারও সদস্য ছিলেন মুস্তাইন জহির।

গতকাল বৃহস্পতিবার আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে বিমানবন্দরে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে আছেন মুস্তাইন জহির। ওই ছবির ক্যাপশনে জুলকারনাইন লেখেন, ‘মাস্কের আড়ালে মুখ লুকিয়ে কোথায় যাচ্ছ হে মোস্তাইন জহির?’

তাঁর এই পোস্টের পরই মুস্তাইন জহিরের বিদেশযাত্রা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। মুস্তাইন জহিরের পক্ষ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, সায়ের একজন বেসরকারি ব্যক্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় নথির মালিক কেমনে হয়ে উঠেছেন সেই বিষয়ের তদন্ত প্রয়োজন সবার প্রথমে! রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো কেমনে ব্যক্তির অনুগামী হয় নাকি এমন ব্যক্তিদের নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে সেই প্রশ্নের সুরাহা প্রয়োজন। সায়ের এয়ারপোর্টের ভেতরকার মুস্তাইন জহিরের যে ছবি অনলাইনে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, সেটাও এই ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা। রাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্যই তাঁর এই কানেকশনের সুরাহা করতে হবে।

এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু ফেসবুকে লিখেছেন, সোশ্যাল‍ মিডিয়া মারফত জানতে পারলাম সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস‍্য মুস্তাইন জহির গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বিমানে ঢাকা থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে একটি স্কলারশিপের অধীনে ফেলোশিপের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যার কারণে তাঁর দুই মাসের এই বিদেশ সফর।

চীনের উদ্দেশে হজরত শাাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষায় মুস্তাইন জহির। ছবি: সংগৃহীত
চীনের উদ্দেশে হজরত শাাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষায় মুস্তাইন জহির। ছবি: সংগৃহীত

তিনি লেখেন, একটিভিজম সূত্রে তাঁরই এক সময়ের বন্ধু, প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের নিজের ফেসবুক ওয়ালে ঢাকা এয়ারপোর্টের সিসিটিভির একটি ফুটেজ শেয়ার করে তাতে ‘মুস্তাইন জহির মুখে মাস্ক লাগিয়ে দেশ ছাড়ছেন’– এ রকম একটি ছবি পোস্ট করেছেন। যাতে মনে হতে পারে মুস্তাইন জহির এমন কোনো অপকর্ম করেছেন যাতে তিনি সন্তর্পণে গোপনে দেশ ছাড়ছেন! বিষয়টি বস্তুত: অপপ্রচারমূলক ও মানহানিকর।

মঞ্জু আরও লেখেন, সবশেষে সংগ্রামী বন্ধু জুলকারনাইন সায়েরসহ সবাইকে বলব– নিজেদের বিরোধ কমিয়ে ফেলুন। আপনাদের আমরা আগের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে শামিল দেখতে চাই। ক্ষুদ্র স্বার্থে নিজেদের সম্মান নষ্ট করবেন না প্লিজ; এবার ক্ষ্যান্ত দেন।

তাঁর এই পোস্টের নিচে সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ রোমিও মন্তব্য করেছেন, ভাই, আপনারা সবাই মিলে যে রাজনৈতিক তিক্ততা সৃষ্টি করেছেন তা, সহজে যাবার নয়। এটা ঠিক করেননি। আমি বারবার বলেছি– রহমান গং হেরে গেলে কি হবে সেটা বোঝার দরকার ছিল। নিজেদের সামনে নিতে গিয়ে সবাইকে শত্রু বানিয়ে ফেলেছেন। রাজনীতিতে সম্পর্ক বুনতে হয়। আপনারা তার উল্টো করলেন।

অ্যাক্টিভিস্ট পারভেজ আলম ফেসবুকে লিখেছেন, আমার জীবনে দেখা সবচাইতে মিচকা শয়তান ও ভয়ংকর ফ্যাসিস্টদের একজন হলো মুস্তাইন জহির। পিনাকীর মতো বলদ না সে। খুন খারাবি থেকে শুরু করে জামায়াত ও পুরো ফার-রাইট বলয়ের এজেন্ডা বাস্তবায়ন, ইত্যাদি কাজগুলা সে করে পর্দার আড়াল থেকে।

এদিকে, আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে শুক্রবার সকালে ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন মুস্তাইন জহির। এটিকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সফর উল্লেখ করেন তিনি লেখেন, পিকিং ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে ‘ডংফাং স্কলারশিপের’ আওতায় একটি ফেলোশিপে অংশ নিতে চীনে এসেছি। আগামী কয়েক মাস তিনি সেখানেই থাকবেন।

ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আনার অভ্যাস নেই জানিয়ে মুস্তাইন জহির আরও লেখেন, এ বিষয়ে আলাদা করে কিছু জানানো আমার পরিকল্পনায় ছিল না। আর এ ধরনের কৌতূহল মেটানোতেও আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না।

সম্পর্কিত