বন্ধ পাটকল চালু, বকেয়া মজুরিসহ ৭ দাবি শ্রমিকদের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বাংলাদেশের পাটকল ও শিল্পাঞ্চল পুনরুদ্ধার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল পুনরায় চালু এবং লিজ ও ইজারা প্রথা বাতিলের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠন ‘বাংলাদেশের পাটকল ও শিল্পাঞ্চল পুনরুদ্ধার পরিষদ’। পাটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের কাছে এসব দাবি তুলে ধরেন পরিষদের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, বিগত সরকার করোনা মহামারির অজুহাতে বেআইনিভাবে ২৫টি সরকারি পাটকল বন্ধ করে দিয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে ২৮৪ জন শ্রমিকের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন সরকার গঠিত হলেও পাটকলগুলো চালুর বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আগের সরকারের করা অবৈধ প্রজ্ঞাপন বহাল রেখে কারখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলেও কারখানাগুলোর মূল্যবান যন্ত্রপাতি কেটে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। খালিশপুর, দৌলতপুর, জাতীয়, কেএফডি এবং আরআর জুট মিলসহ ২৬টি পাটকলের শ্রমিকেরা দীর্ঘ পাঁচ বছর কর্মহীন থাকলেও তাঁদের বকেয়া পাওনা ও ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি পাটকলগুলোতে জাতীয় মজুরি কমিশন নির্ধারিত হারের পরিবর্তে মাত্র ২৬০ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি থেকে ‘পাটকল’ শব্দটি মুছে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করা হয়। এ ছাড়া বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির উদ্দিন এবং সাবেক পাট সচিব আবদুর রউফকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

পরিষদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাটকল রক্ষা আন্দোলনের শহীদ পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি হওয়া শ্রমিক নেতাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ প্রদান। পাশাপাশি বেসরকারি পাটকল শ্রমিকদের জন্য জাতীয় মজুরি কমিশন নির্ধারিত ন্যূনতম হাজিরা ও বেতন নিশ্চিত করা এবং পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ অবিলম্বে বাস্তবায়ন।

পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল খালেক বলেন, ‘এই সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়া না হলে শ্রমিকেরা দেশব্যাপী গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্যসচিব নূর মোহাম্মদ শেখ, সদস্য আলমগীর হোসেন এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মাকিন সরকার প্রমুখ।

সম্পর্কিত