তেল সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম স্থগিত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

তেল সংকটে কার্যক্রম বন্ধ করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল) প্রায় ছয় দশকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ করেছে। ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের সংকটে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর আগে ধাপে ধাপে উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছিল। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড পরিশোধন করলেও সংকটের কারণে তা কমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টনে নেমে আসে।

প্রায় ৬০ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের সংকটে ইআরএল এবারই প্রথম অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড আমদানি করে এবং বিপিসিকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অ্যারাবিয়ান লাইট ও মুরবান ক্রুডের ওপর নির্ভরশীল। সর্বশেষ চালান আসে ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নির্ধারিত একাধিক চালান বাতিল হয়ে যায় ইরান যুদ্ধের কারণে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে ৩ মার্চ আসার কথা ছিল ১ লাখ টন ক্রুডসহ আরও কয়েকটি চালান। কিন্তু যুদ্ধের ফলে টানা ৫৪ দিন ধরে নতুন কোনো ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছায়নি।

সংকট মোকাবিলায় ইআরএল ট্যাংকের তলায় জমে থাকা ‘ডেড স্টক’ এবং মহেশখালীর পাইপলাইনে আটকে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল ব্যবহার করে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়লা থাকায় এই ধরনের তেল ব্যবহারে যন্ত্রপাতির ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

ইআরএলের মহাব্যবস্থাপক (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোল) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রুড অয়েলের ঘাটতির কারণে আপাতত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নতুন চালান না আসা পর্যন্ত পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব নয়।’ যদিও কারিগরি জটিলতা এড়াতে সীমিত পর্যায়ে কিছু কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

নতুন করে সৌদি আরামকোর ১ লাখ টন ক্রুড অয়েলের একটি চালান ২১ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। এটি নিরাপদ বিকল্প রুটে মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে চালান পৌঁছানো পর্যন্ত কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

তবে উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কাজী আনোয়ারুল হক জানান, প্রযুক্তিগতভাবে কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ নয়। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিলে পরে চালু করতে নানা জটিলতা তৈরি হয়, তাই ন্যূনতম কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ইআরএল বন্ধ থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করা হয়েছে এবং মজুদও সন্তোষজনক।

গত মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৭টি জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ে, যার মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে ২ লাখ ৩১ হাজার টনের বেশি ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আমদানি করা হয়েছে। এপ্রিল মাসেও আমদানি অব্যাহত থাকায় মজুদ আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিপিসি জানিয়েছে এপ্রিল মাসের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে বাংলাদেশকে তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত