৪৩৪১ হাজিকে ৫ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ হাজিকে উদ্বৃত্ত থাকা চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেবে সরকার। রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ। এ সময় ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ১০ জন হাজির হাতে ফেরতের চেক তুলে দেন ধর্মমন্ত্রী। অন্য হাজিদের টাকা তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। তবে ২৩ জন হাজির চিকিৎসাব্যয় স্বাস্থ্যবিমার অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় তাঁরা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।

কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ বলেন, ‘২০২৬ সালে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত পাবেন। এই টাকা হাজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হবে। ২৩ জন হাজির চিকিৎসাব্যয় তাদের স্বাস্থ্যবিমার অর্থের চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।’

প্রতারণা থেকে হাজিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘হাজিদের রিফান্ডসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সব অনুদান বা সহায়তা কেবল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এ টাকা পাঠাতে মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে ফোন করা কিংবা তার কাছ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর কিংবা বিকাশ, নগদ বা রকেটের কোনো পিন নম্বর চাওয়া হয় না। এমনটি যদি কেউ করে, তাহলে সে প্রতারক। এ ধরনের প্রতারকদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য এই পবিত্র ইবাদতকে সহজসাধ্য করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজে বিমানভাড়া পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থ ধার্য করা হয়েছিল, তার চেয়ে কিছু কম মূল্যে এবার বাড়ি ভাড়া করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে সার্ভিস চার্জও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি প্যাকেজের খরচের খাতভিত্তিক হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

২০২৬ সালের সরকারি হজে তিনটি প্যাকেজ ছিল। ধর্মমন্ত্রী জানান, প্যাকেজ-১-এর হোটেল বুল্লরা আল দুররাতে অবস্থানকারী হাজিদের জনপ্রতি ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। প্যাকেজ-২-এর ২, ৩ ও ৪ নম্বর বাড়িতে থাকা হাজিদের জনপ্রতি ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ৯৪ পয়সা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। প্যাকেজ-৩-এর ৫ নম্বর বাড়ি তথা হোটেল নাম্বার ওয়ানে থাকা হাজিরা জনপ্রতি ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা ফেরত পাবেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত