জরুরি বিল দিতে অ্যাপে ১০,০০০ টাকা ঋণ, যেভাবে পাবেন

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৪৯
ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল ঋণসুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্ট্রিম গ্রাফিক
ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল ঋণসুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্ট্রিম গ্রাফিক

জরুরি সেবার বিল ও নির্ধারিত ফি পরিশোধে ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার তাৎক্ষণিক ঋণসুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ঋণের অর্থ নগদে তোলা যাবে না; নির্ধারিত বিল বা ফি পরিশোধে ব্যবহার করতে হবে। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে এই সুবিধা রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে চালু হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নগদ টাকার সাময়িক সংকট মেটানোর পাশাপাশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ, ভ্রমণ ব্যয়, কর ও সরকারি সেবার ফি, ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে।

প্রাথমিকভাবে অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলক এ সুবিধা পরিচালনা করবে ব্যাংকগুলো। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এ সুবিধা চালু করা হবে।

ঋণ পরিশোধে গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত মেয়াদ পাবেন। এ সময়ে ঋণ পরিশোধ করলে সুদের পরিবর্তে মেয়াদ অনুসারে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেবে।

কোন ঋণে কত ফি

ঋণের মেয়াদ হবে ৭ দিন, ১৫ দিন কিংবা ৩০ দিন। ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ফি যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৬ টাকা। ২৫১ থেকে ৫০০ টাকার ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৫, ৮ ও ১৫ টাকা। ৫০১ থেকে এক হাজার টাকার ক্ষেত্রে ৭, ১২ ও ২০ টাকা। ১ হাজার ১ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ১০, ২০ ও ৩০ টাকা। ২ হাজার ১ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ১৫, ৩০ ও ৫০ টাকা।

মেয়াদ অনুসারে ৩ হাজার ১ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ২০, ৪০ ও ৭০ টাকা। ৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫, ৫০ ও ৯০ টাকা। ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা। ঋণের মূল টাকা ও ফি যথাক্রমে ৮ম, ১৬তম বা ৩১তম দিনে পুরোপুরি পরিশোধ করতে হবে। গ্রাহক চাইলে মেয়াদের আগেই ফিসহ ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।

ঋণ পাবেন যেভাবে

কোনো গ্রাহক নিজের ব্যাংকের অ্যাপ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত জরুরি সেবার বিল বা বিভিন্ন ফি পরিশোধের সময় হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণের প্রস্তাব পাবেন। গ্রাহক এতে সম্মতি দিলে অ্যাপের মাধ্যমেই ঋণের আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের আগে ঋণের ধরন, পরিমাণ, মেয়াদ, মাশুল ও পরিশোধ পদ্ধতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব শর্ত গ্রাহককে জানানো হবে। এরপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহকের সম্মতি নেওয়া হবে। নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে গ্রাহকের পরিচয়ও যাচাই করা হবে।

গ্রাহক নিবন্ধন থেকে শুরু করে ঋণের অনুমোদন, বিল বা ফি পরিশোধ এবং ঋণের অর্থ ফেরত নেওয়া— পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করবে ব্যাংকগুলো। লেনদেনের নিরাপত্তায় এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি), দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই বা একাধিক স্তরের যাচাইয়ের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

এ সুবিধা চালাতে ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী ও আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে। তবে পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থপাচার প্রতিরোধ ও তথ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিয়মের আওতায় থাকবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত