১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ৪১ নাগরিকের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ঢাকা

বিবৃতির প্রতীকী ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৪১ বিশিষ্ট নাগরিক। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অনীহার পরিচয় দিচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় গণভোটে বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই গণরায় রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার সুস্পষ্ট বহির্প্রকাশ। রাষ্ট্রের মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের এই সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি।

বিবৃতিতে নাগরিকরা বলেন, গণভোটের রায় জুলাই সনদে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন ও কার্যকর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। কিন্তু সরকার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান কাম্য নয়। উভয়পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি আমরা মনোযোগসহকারে পর্যালোচনা করেছি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বোপরি জনগণের রায়ই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। তাই সরকারকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।

যৌথ বিবৃতিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—জুলাই সনদে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন; গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে যে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছেন, তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা; এবং সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়াকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, কবি ও দার্শনিক মুসা আল হাফিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফারুকী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, জুলাই সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবু প্রান্তর, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুস্তফা শাকেরুল্লাহ প্রমুখ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত