অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে সই আদায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাই গ্রেপ্তার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

বরিশালে হাউজিং কোম্পানির এমডিকে নির্যাতন। ভিডিও থেকেও ছবি

বরিশালে আবাসন ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের মামলায় তারা মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তার করেছেন।

লিটুর বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে লিটুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, বরিশাল মহানগর যুবদলের কোনো পদেই লিটু কখনো ছিলেন না।

অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজকে নির্যাতনের ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে বরিশাল মহানগর যুবদলকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার করছে। বরিশাল নগর পুলিশ প্রশাসনকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার অনুরোধও জানান মুন্না।

গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং অফিসে আব্দুল আজিজকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ শনিবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা হয়। অবশ্য গত ২ জুলাই আব্দুল আজিজ আদালতে নালিশি মামলা করেছেন।

ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে মারধরের পর মোস্তাফিজুর রহমান লিটু চেক ও স্ট্যাম্পে জোর করে সই নেন। ইনসেটে লিটু। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে মারধরের পর মোস্তাফিজুর রহমান লিটু চেক ও স্ট্যাম্পে জোর করে সই নেন। ইনসেটে লিটু। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, চার যুবক আব্দুল আজিজের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে একজন (মোস্তাফিজুর রহমান লিটু) তাঁকে মারধর করেন। একাধিকবার লিটু বয়স্ক আব্দুল আজিজের অণ্ডকোষ চেপে ধরে রাখেন। এক পর্যায়ে আব্দুল আজিজকে ‘বাচ্চু বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। এ সময় একজন কক্ষে ঢুকলে তাঁকে আটকে রাখেন লিটুর সহযোগীরা। পরে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বের করে আব্দুল আজিজকে নির্যাতন করা হয়। তাঁর মুখে কিল-ঘুসি দেন লিটু। পরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেন লিটু এবং সেগুলো হস্তান্তরের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।

জানা যায়, লিটুর বাড়ি অগ্রণী হাউজিংয়ের অদূরে কাটপট্টি সড়কে। তাঁর বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। নগরীতে লিটু যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলা হলেও, রোববার দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ নাকচ করেন। জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা জানান, লিটু যুবদলের কোনো ওয়ার্ড কমিটির সদস্যও নন। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেও তাঁকে কখনো দেখা যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, লিটু এক সময় অগ্রণী হাউজিংয়ের অংশীদ্বার ছিলেন। তাঁর বিনিয়োগের বিপরীতে জমি বুঝিয়ে দিলে, সেটি বিক্রিও করেছেন। প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো পাওনাদি নেই– মর্মে লিটু লিখিত অঙ্গীকারনামাও দিয়েছেন। হঠাৎ লিটু তাঁর কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করেন।

তাঁর অভিযোগ, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু আমার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করেন। পরে জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেন। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি জানিয়ে চেকগুলোর বিষয়ে অভিযোগ করায় কোনো টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

আব্দুল আজিজ বলেন, ২ জুলাই আদালত আমার নালিশি মামলা এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। সিসিটিভির ফুটেজ নিজেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলে জানান আব্দুল আজিজ।

গ্রেপ্তারের আগে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে লিটু সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা ওইদিন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আব্দুল আজিজ পরিচালকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরিচালকেরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি বলেন, আব্দুল আজিজ শনিবার রাতে থানায় এসে আদালতে মামলা করার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান। আদালতের আদেশের কপি আসার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত