প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও সংবাদদাতার বক্তব্য

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

স্ট্রিমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন দুই নেতা। স্ট্রিম গ্রাফিক

গত ১৭ আগস্ট বাংলা স্ট্রিমে ‘বেসামাল’ দুই নেতা নিয়ে বিপাকে জাবি ছাত্রদল- শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে পৃথক লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশীদ জিতু এবং শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফয়সাল হোসেন।

প্রতিবাদলিপিতে তাঁরা দাবি করেছেন, প্রতিবেদনের সামগ্রিক উপস্থাপন, ভাষা ও অভিযোগ সাজানোর ধরন একপেশে, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকেও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন।

প্রতিবেদনের কোনো বক্তব্য সংবাদদাতার নিজস্ব নয়, বরং যথাযথ সূত্রে পাওয়া তথ্য ও একাধিক পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কোনো অভিযোগকেই ‘চূড়ান্ত রায়’ বা ‘প্রমাণিত সত্য’ হিসেবে দাবি করা হয়নি। প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে অভিযুক্তদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

নিচে পয়েন্ট আকারে প্রতিবাদলিপি ও সংবাদদাতার বক্তব্য দেওয়া হলো—

আবাসিক হলে অবস্থান প্রসঙ্গে

প্রতিবাদ: জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ছাত্রত্ব শেষ হলে কার্যক্রম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই।

সংবাদদাতার বক্তব্য: গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জাকসু ও হল সংসদ নেতাদের হলে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। জাকসুর অধিকাংশ নেতা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং এটি বাতিলের জন্য আলটিমেটাম দিলেও, জাকসু ভিপি এর পক্ষে অবস্থান নেন। একজনকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন- এই বিষ‌য়ে জাকসুর অন্য নেতারা নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট, এমন‌কি গণমাধ্যমেও কথা বলেছেন।

রিকশা নিবন্ধন নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে

প্রতিবাদ: প্রতিবেদনে যে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেটি একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, যেখানে শুধু আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ নেই।

সংবাদদাতার বক্তব্য: ভাইরাল হওয়া ওই অডিও কথোপকথনে যে জাকসু ভিপির নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। ক্যাম্পাসের চাঁদাবাজির মতো বিষয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নাম আসায় তা জনস্বার্থেই প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। স্ট্রিমেও ‘অটোরিকশা নিবন্ধনে দিবা ১০ হাজার, বলবা ভিপির নাম’শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অডিওর সত্যতা বা সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রতিবেদনে কেবল ক্যাম্পাসের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবং ভিপির বক্তব্য অবিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

শিবিরের সঙ্গে সখ্য ও ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘ছাড়িয়ে নেওয়া’ প্রসঙ্গে

প্রতিবাদ: শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে মুচলেকা নিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাউকে বেআইনিভাবে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

সংবাদদাতার বক্তব্য: জুলাই আন্দোলনের পর নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগকর্মী আবীরকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনার প্রক্রিয়ায় জিতুর সম্পৃক্ততার বিষয়টি ক্যাম্পাসে সর্বজনবিদিত। আবীর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা এনামুল হক এনামের অনুসারী ছিলেন এবং একসময় জিতু নিজেও একই বলয়ে রাজনীতি করতেন—এটি ছাত্রনেতারা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই রাতেই আল-বেরুনী হলে জুলাইপন্থী নেতাদের সঙ্গে জিতুর বিতণ্ডা হয়, যার তথ্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’-এর কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংবাদদাতার কাছে সংরক্ষিত আছে।

গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ রাফি। সংগৃহীত ছবি
গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ রাফি। সংগৃহীত ছবি

সাংবাদিক ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে

প্রতিবাদ: আমার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হলেও নির্দিষ্ট ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বা কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

সংবাদদাতার বক্তব্য: মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-বেরুনী হলের ফিস্টে শিক্ষকদের সামনেই জাকসু ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে গালিগালাজ করেন জিতু এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেরাব সিফাতের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বিতণ্ডা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বণর্নার ভি‌ত্তি‌তে অংশটি লেখা হয়েছে।

ফয়সাল হোসেনের প্রতিবাদ ও সংবাদদাতার বক্তব্য

ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ও শোকজ প্রসঙ্গে

প্রতিবাদ: পানিসম্পদমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় নেতাকর্মীদের সারিবদ্ধ অবস্থানকে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল শোকজ করেছে এবং আমি জবাব দিয়েছি। এটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। শোকজ হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।

সংবাদদাতার বক্তব্য: মূল প্রতিবেদনে এটিকে ‘প্রমাণিত অপরাধ’ বলা হয়নি, বরং সাংগঠনিক ‘অভিযোগ’ হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে এবং সেখানে ফয়সাল হোসেনের বক্তব্যও রয়েছে।

‘শোডাউন’ ও ‘আঁতাতের’ অভিযোগ

প্রতিবাদ: রাজনৈতিক সহকর্মীর সঙ্গে চলাফেরা করা বা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে ‘আঁতাত’ হিসেবে চিহ্নিত করার ভিত্তি নেই। এটি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মতামত মাত্র।

সংবাদদাতার বক্তব্য: এই তথ্য সংবাদদাতার নিজস্ব কোনো মতামত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই বিষয়ে তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন।

জাকসু নির্বাচনে ‘মাই ম্যান’ নীতি প্রসঙ্গে

প্রতিবাদ: জাকসু নির্বাচনে মনোনয়ন দলীয় সিদ্ধান্তে হয়েছে, ব্যক্তিগত পছন্দে নয়। নির্বাচনের ফলাফলকে আমার ‘মাই ম্যান’ নীতির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা নিছক অনুমান।

সংবাদদাতার বক্তব্য: ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারাই এই অভিযোগ তুলেছেন। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি হওয়ায় তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

ভ্যাকসিন কর্মসূচিতে আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ

প্রতিবাদ: আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আত্মসাৎ বা ভাগ-বাটোয়ারার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই এমন গুরুতর অভিযোগ আপত্তিকর।

সংবাদদাতার বক্তব্য: ভ্যাকসিন কর্মসূচির আর্থিক বিষয়াবলী নিয়ে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতাকর্মীদের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তথ্যটি প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে। ইতোপূর্বে এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত