সাত বছরের শিশুর বয়স ২১ দেখিয়ে মামলা: ফেঁসে যাচ্ছেন বাদি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১০: ৪০
আইনজীবীর হাত ধরে আদালতে শিশু। স্ট্রিম ছবি

নাটোরের গুরুদাসপুরে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বয়স ২১ বছর দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়েরের অভিযোগে সেই মামলার বাদী শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই শিশুকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেনকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন।

শিশুটির আইনজীবী শামীম হোসেন প্রামাণিক জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আলোচিত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন ও বাদী শাহানুর রহমান মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হন।

এ সময় বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মামলার পর আসামিদের খোঁজে এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। তবে আটকের ভয়ে সবাই আত্মগোপনে থাকায় তাদের বয়স যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া পাঁচ আসামির মধ্যে একজন যে শিশু, সে বিষয়টিও আসামিপক্ষের কেউ পুলিশকে জানায়নি।

বাদী আদালতের কাছে এ বিষয়ে ক্ষমা চাইলে আদালত জানান, এ অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। বয়স দুই-এক বছর কমবেশি হতে পারে। তাই বলে সাত বছরের শিশুর বয়স ২১ বছর লেখার কোনো সুযোগ নেই। তাঁকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।

এ সময় বিচারক ভুল তথ্য সরবরাহের অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে ওই শিশুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল কাদের মিয়া বলেন, অসত্য তথ্য সরকারি কর্মচারীকে সরবরাহ করলে দণ্ডবিধির ১৭৭ ও ১৮২ ধারায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। এ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টায় গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে খাঁকড়াদহ গ্রামের শাহানুর রহমানের ছেলে শ্রাবণ সরকার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় একদল যুবক তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় অন্য বন্ধুরা পালাতে সমর্থ হলেও শ্রাবণ আহত হয়।

ঘটনার পরদিন শ্রাবণের বাবা এই শিশুসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাহফুজুর রহমান (১৯), তারেক রহমান (২০), মো. আলী (১৯) ও লালন কবিরাজ (৫০)। মামলার এজাহারে শিশুটির নামের পাশে বয়স লেখা ছিল ২১।

মামলার বিষয়টি পরদিন জানতে পারেন ওই শিশু ও তাঁর পরিবার। দ্রুত মামলার নথিপত্র সংগ্রহ করে জামিনের চেষ্টা শুরু করেন। গত ২৬ এপ্রিল রোববার সকালে বাবা-মায়ের সঙ্গে আদালতে আসে ওই শিশু। এ ঘটনায় আদালতপাড়া ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে তলবের পর ওই শিশুকে অব্যাহতি দিতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত