বাংলাদেশিদের জন্য খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ০২
বিভিন্ন অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

খাতভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার ফের খুলতে মত দিয়েছে মালয়েশিয়া। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় দেশটি। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিভিন্ন অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার (৮ এপ্রিল) দেশটিতে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমবাজার বিষয়ে আলোচনায় এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।

বৈঠক শেষে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় খাতভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতে দুই দেশই একমত হয়েছে। এ ছাড়া কর্মী পাঠাতে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহার এবং মালয়েশিয়া যেতে না পারা বাংলাদেশি শ্রমিকদের দ্রুত পাঠানোর বিষয়েও সম্মত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে শ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে সব দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি প্রযুক্তি নির্ভর এআইভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটি জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য হলো মধ্যস্থতাকারী কমানো, অভিবাসন খরচ কমানো এবং নিয়োগকর্তারা যেন সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন তা নিশ্চিত করা। এটি চালু হলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাই সব খরচ বহন করবেন এবং শ্রমিকদের খরচ শূন্যে নামানো যাবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উভয়পক্ষই শ্রমিক নিয়োগের আড়ালে মানবপাচার সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। এ সময় মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড মোকাবিলার ওপর জোর দেয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ ছাড়া অনিয়মিত কর্মীদের প্রতিবন্ধকতা কমানো, বাজারের চাহিদার সঙ্গে শ্রম সরবরাহ সমন্বয়, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করেছে দু’পক্ষ।

সম্পর্কিত