ফতুল্লার নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টি মানেই হাঁটু পানিতে বসবাস

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ০৮: ৫৩
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক। ভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন ফতুল্লার বাসিন্দারা। স্ট্রিম ছবি

নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম শিল্প এলাকা ফতুল্লা। তবে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই এখানকার নিম্নাঞ্চলে থমকে যায় জনজীবন। সড়কে হাঁটু থেকে কোমরপানি জমায় উপায় থাকে চলাচলের।

স্থানীয়রা জানান, চলতি সপ্তাহে বৈশাখের বৃষ্টিতেই ফতুল্লার লালপুর, পৌষাপুকুরপাড়সহ ডুবে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। অথচ বর্ষাকাল এখনও আসেইনি।

দুঃখ করে লালপুর এলাকার বাসিন্দা রায়হান কবির বলেন, আমাদের কাছে বৃষ্টি মানেই পানির মধ্যে বসবাস। ঘর থেকে বের হতে হলে কাপড় গুটিয়ে নামতে হয়। এতে অনেকের চর্মরোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে নারীদের পায়ে চর্মরোগ এখানে খুবই সাধারণ। কিন্তু নিম্ন আয়ের কারণে অনেকেই ঠিকমতো চিকিৎসা নিতে পারেন না।

কানন স্কুল এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদার বলেন, বৃষ্টি হলেই আলোচনা হয়, প্রকল্প নেওয়া হয়, কিন্তু পানি ঠিকই আমাদের ঘরে ঢুকে।

ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাজী মুঈনুদ্দিন বলেন, বৃষ্টি নামলেই আতঙ্ক শুরু হয়। রাতের বৃষ্টির পর সকালে দরজা খুললেই হাঁটুসমান পানি দেখা যায়। চলাফেরা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকট। খাল ভরাট, ময়লা-আবর্জনায় নালা বন্ধ হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের রাস্তা নেই বললেই চলে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পকারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনে অনিয়ম এই পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলেছে। মৌসুমি সমস্যা এখন স্থায়ী দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

হাঁটু পানিতে রিকশা ছাড়া চলাচল করা দায়। স্ট্রিম ছবি
হাঁটু পানিতে রিকশা ছাড়া চলাচল করা দায়। স্ট্রিম ছবি

তারা জানান, এখন অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না, কর্মজীবীরা কর্মস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খান, জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়াও হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ।

অথচ এই ফতুল্লাতেই পানি নিষ্কাশনে প্রায় ১৩’শ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় ওই কাজ ২০২৪ সালে শেষ হয়। খাল পুনঃখনন, পাম্প হাউজ নির্মাণ ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এলাকার বড় একটি অংশ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, ফতুল্লার যেই এলাকাগুলোতে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে, সেগুলো ডিএনডি প্রকল্পের আওতায় ছিল না।

এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফতুল্লার জলাবদ্ধতা কেবল অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি ব্যবস্থাপনারও সংকট। নিচু ভূ-প্রকৃতি, খাল দখল, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব– এসব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছে।

তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে ফতুল্লার অনেক এলাকায় নৌকা বা ভ্যানগাড়িই হয়ে ওঠে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবীরা কিছুক্ষেত্রে সহায়তা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ বিষয়ে সরকার থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত