কারাবন্দি থেকে গৃহবন্দি অং সান সু চি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১০: ০৭
মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সাং সু চি। সংগৃহীত ছবি

মিয়ানমারের সাবেক স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দিত্বে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বৃহস্পতিবার একটি ছবিও প্রচার করা হয়েছে, যেখানে সু চি দুজন ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তির সঙ্গে বসে আছেন। খবর বিবিসির।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বন্দি রয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী। ধারণা করা হয়, তাঁকে রাজধানী নেইপিদোর একটি সামরিক কারাগারে রাখা হয়েছিল।

ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দেশটির সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সু চি তার অবশিষ্ট সাজা নির্ধারিত বাসভবনে কাটাবেন।

তবে তার ছেলে কিম আরিস এই ঘোষণা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, মা বেঁচে আছেন এমন কোনো প্রমাণও তাঁর কাছে নেই। প্রচারিত ছবিটি ‘অর্থহীন’ জানিয়ে তিনি বলেন, এটি ২০২২ সালে তোলা।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমি আশা করি এটি সত্য। কিন্তু তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ আমি এখনও দেখিনি। তাই যতক্ষণ না আমাকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে অথবা কেউ স্বাধীনভাবে তাঁর অবস্থা যাচাই করতে পারছেন, ততক্ষণ আমি কিছুই বিশ্বাস করব না।’

এই ঘোষণার আগে সু চির বিষয়ে অনেক দিন ধরে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ডিসেম্বরে কিম আরিস জানিয়েছিলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি মায়ের কোনো খবর পাননি।

আইনি দলও রয়টার্সকে জানিয়েছে, গৃহবন্দিত্বের বিষয়ে তাদের সরাসরি কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পর অং সান সু চি ২০১৫ সালে ক্ষমতায় আসেন। পাঁচ বছর আগে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের দিনই তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তাঁকে খুব কমই দেখা গেছে এবং কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি।

সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অভিযোগে সু চিকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে একাধিকবার সেই সাজা কমানো হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার হঠাৎ এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামরিক কর্তৃপক্ষ হয়তো অবস্থান পরিবর্তন করছে। তিনি আংশিক বা পুরোপুরি মুক্তিও পেতে পারেন।

বর্তমানে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং তার শাসনের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে মরিয়া। সশস্ত্র বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কিছু যুদ্ধ জয়ের পর তাঁকে আগের চেয়ে আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। এ ছাড়া বছরের শুরুতে জান্তা সরকার একটি নির্বাচনও দেয়। এর মাধ্যমে নামমাত্র গণতান্ত্রিক সরকার ফিরিয়ে আনলেও মূল ক্ষমতায় আগের সামরিক নেতারাই রয়ে গেছেন।

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী কর্মী হিসেবে দীর্ঘ কয়েক দশকের লড়াইয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান সু চি। ১৫ বছরের বেশি সময় ছিলেন গৃহবন্দি। ১৯৯১ সালে পান নোবেল শান্তি পুরস্কারও। তবে ২০১৭ সালে তিনি ক্ষমতায় থাকার সময় মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর চূড়ান্ত নৃশংসতা চালায়। এরপর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) সেই নৃশংসতার পক্ষে সাফাই দেওয়ায় তাঁর সেই ‘সন্ততুল্য’ আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত