শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড

‘৭ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ২০: ৫০
মঙ্গলবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। স্ট্রিম ছবি

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ। আগামী ৭ জুনের মধ্যে এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে। মামলায় প্রধান আসামি হচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার (৫ মে) প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রামে কিছু কাজ চলছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব বলে আশা করছি। এরপর অভিযোগপত্র দাখিল ও বিচার শুরু হবে।

মামলায় আসামির সংখ্যা ৩০ জনের কম হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব আসামির নাম প্রকাশ করছি না। ইতোমধ্যে তৎকালীন আইজিপিসহ ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন।

প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তিনি প্রধান আসামি হবেন। তিনি তো পরিকল্পনাই করেছেন। তাঁর সংশ্লিষ্টতা আমরা পেয়েছি।’

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলায় বাহিনীর একাধিক প্রধানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে তৎকালীন বাহিনীপ্রধান, পুলিশ কমিশনারসহ অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, সবাইকেই নিয়ে আসব।’

নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

শাপলা চত্বরে নিহতের সংখ্যা নিয়ে তদন্তের তথ্য তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রাজনৈতিক ময়দানে বা সেমিনারে বলা আর আমাদের তদন্তের মধ্যে পার্থক্য আছে। তদন্তের বাইরে আমরা কিছুই বলতে পারব না। আমাদের তদন্তে এই পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা মিলিয়ে ৫৮ জন নিহত শনাক্ত করতে পেরেছি এবং তাদের পরিচয় পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। পরের দিন নারায়ণগঞ্জে আরও ২০ জনের মতো নিহত হন। একই দিন চট্টগ্রামে পাঁচজন ও কুমিল্লাতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাদের কথাবার্তা হয়েছে এবং পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৫ মে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচি ছিল। পরে তারা শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি পায়। কিন্তু তারা যখন গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আসে, তখন হামলা ও নিহতের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সন্ধ্যায় শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন। ২টা ৩০ মিনিটের (মধ্যরাত) আগেই ১৮ থেকে ২০ জন হতাহত হন। এরপর মধ্যরাতে ওই সমাবেশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনাকে ‘সিস্টেমেটিক ও ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক’ এবং ‘টার্গেটেড কিলিং’ উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, এই ইসলামিক সংগঠনটিকে একেবারেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। তাদেরকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে খুন করতে হবে-এটা সবটাই সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং।

সম্পর্কিত