বরিশালে সাদা-কালো পতাকার ছড়াছড়ি, যা বলছে পুলিশ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০০: ১৩
সংগৃহীত ছবি

বরিশাল জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সেতু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হঠাৎ দেখা মিলছে ‘কালেমা খচিত’ সাদা-কালো পতাকার। কারা কী উদ্দেশ্যে এসব পতাকা টাঙাচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের কাছে।

বরিশাল থেকে সড়কপথে বানারীপাড়ার দিকে যেতে উজিরপুরের গুঠিয়া মসজিদ পার হওয়ার পরই চোখে পড়ে ভিন্ন এক দৃশ্য। গুঠিয়া সেতুর দুই পাশে বাঁশের খুঁটিতে সারি সারি উড়ছে সাদা কাপড়ে কালো হরফে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা। এর ফাঁকে রয়েছে কয়েকটি জাতীয় পতাকাও। একটি-দুটি নয়, সেতুর দুই পাশে অন্তত ৪০টি পতাকা টাঙানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর পর হঠাৎ করেই এসব পতাকা দেখা যায়। তবে কারা এগুলো টাঙিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় আন্দোলনে সক্রিয় থাকা কিছু শিক্ষার্থী এসব পতাকা টাঙিয়েছেন বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে কী উদ্দেশ্যে বা কোন সংগঠনের উদ্যোগে এগুলো লাগানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু উজিরপুর নয়, সারা দেশেই ওই পতাকাটি বিভিন্ন স্থাপনায় লাগানো হয়েছে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত পাইনি। পেলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারব।’

শুধু গুঠিয়া সেতুই নয়, একই ধরনের পতাকা দেখা গেছে বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নেও। মলুহার ওয়াজেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের পেছনে একটি বড় গাছের মাথায় উড়ছে কালেমা খচিত পতাকা। গত রবিবার বিকেলে বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে গাছের মাথায় পতাকাটি টাঙিয়েছেন। তবে তিনি তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।

ইলুহারের জনতা বাজারের পানির ট্যাংকির ওপরেও একই ধরনের পতাকা দেখা গেছে। স্থানীয়দের কেউই বলতে পারেননি, কারা এটি টাঙিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে আগৈলঝাড়া উপজেলা শহরের বাইপাস মোড়েও। সড়কের পাশে উড়ছে সাদা কাপড়ে আরবি হরফে লেখা পতাকা।

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, ‘সাদা বা কালো কাপড়ে আরবি হরফে লেখা পতাকা বিভিন্ন স্থানে টাঙানো রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলাজুড়ে বিভিন্ন সড়ক, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ ও জনসমাগমস্থলে একই ধরনের পতাকা দেখা গেলেও সেগুলো কারা টাঙাচ্ছেন বা এর পেছনে কোনো সংগঠিত উদ্যোগ আছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছেও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে যেমন কৌতূহল রয়েছে, তেমনি প্রশ্নও বাড়ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত