জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়, রয়টার্সকে তারেক রহমান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২৯
তারেক রহমান। ছবি: রয়টার্স থেকে নেওয়া

প্রায় দুই দশক স্বেচ্ছায় লন্ডনে নির্বাসনে ছিলেন। দেশে ফেরার দুই মাসের মধ্যেই তিনি এখন নির্বাচনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনমত জরিপ ঠিক থাকলে, আসন্ন বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন; যে দায়িত্ব একসময় পালন করেছিলেন তাঁর বাবা ও মা।

তারেক রহমান ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার কথা বলে দেশ ছাড়েন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বাধীন এক গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নাটকীয়ভাবে বদলে যায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বর্তমানে দিল্লিতে নির্বাসনে আছেন। এর কয়েক মাস পর, গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আধিপত্য ছিল শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার। তারেক রহমানের বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী অন্যতম নেতা। তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন এবং পরে নিহত হন।

দেশে ফিরে তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য আনতে চান—যাতে বিনিয়োগ বাড়ে। এটি শেখ হাসিনার নীতির বিপরীত।

অর্থনীতির ক্ষেত্রে তিনি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াশিল্পের মতো নতুন খাত গড়ে তোলার কথা বলেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীদের জন্য দুই মেয়াদের, সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ করা যায়।

ঢাকায় ফেরার পর সময় এত দ্রুত কেটেছে যে নিজেই অবাক তারেক রহমান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, দলীয় কার্যালয়ে কন্যা জাইমাকে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে ফেরার পর প্রতিটি মিনিট কীভাবে পার হয়েছে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না।’

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম তারেক রহমানের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা শুরু করলেও শেষ করেননি। পরবর্তীতে তিনি বস্ত্র ও কৃষিপণ্য খাতে ব্যবসা শুরু করেন।

দেশে ফিরে তিনি নিজেকে একজন সংযত ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে খালেদা জিয়ার সরকারের সময় যাঁকে অনেকেই ‘ক্ষমতার কেন্দ্র’ হিসেবে দেখতেন। সেই ভাবমূর্তি থেকে সরে আসতে চাইছেন তিনি। যদিও তিনি কখনোই সরকারি পদে ছিলেন না, তবে তখন তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছিল। তিনি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

প্রতিশোধের রাজনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিশোধ থেকে কী পাওয়া যায়? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। এতে কোনো ভালো কিছু আসে না। এখন আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’

শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি মামলা হয় এবং তাঁর অনুপস্থিতিতেই তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এসব মামলায় তিনি খালাস পান।

লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি দেখেছেন—কীভাবে বিএনপি একের পর এক নির্বাচনে কোণঠাসা হয়েছে, দলের শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি হয়েছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন, বন্ধ হয়ে গেছে দলীয় কার্যালয়।

দেশে ফিরে তারেক রহমান এখন অনেক বেশি সংযত। উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে তিনি শান্তি, সমঝোতা ও জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া’ এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—যা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

বিএনপির ভেতরে তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ এখন দৃঢ়। দলীয় সূত্র জানায়, প্রার্থী নির্বাচন, নির্বাচনী কৌশল ও জোট আলোচনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন—যা আগে বিদেশে বসেই করতেন।

রাজনৈতিক বংশের উত্তরসূরি হলেও তারেক রহমান বলছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র চর্চা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র থাকলেই জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা যায়। আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই, দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত