বাংলাদেশের কত শতাংশ মানুষ রাজনৈতিক সচেতনা থেকে ভোট দেন—সেটি গবেষণার বিষয়। গবেষণায়ও সঠিক চিত্র উঠে আসবে কি না সন্দেহ আছে। এই বিষয়ে জরিপ চালালে সবাই ঠিক উত্তর নাও দিতে পারেন। বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কয়েকটি বিবেচনা কাজ করে। সেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা অনেক সময়ই গৌন হয়ে যায়।
বাংলাদেশর মানুষ যা দেখে ভোট দেয় বা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিবেচনা করে তার একটি তালিকা করলে সেটি কম বড় হবে না। কয়েকটি উল্লেখ করা যাক।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকে না বা থাকলেও সেখানে দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, যোগ্যতা, দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং অতীত অভিজ্ঞতাকেই ভোটাররা আমলে নেন। সেইসাথে তার পারিবারিক পরিচিতি (বিশেষ করে বাবা বা স্বামীর পরিচয়) ভোটারদের মনোজগতে প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রতীক তথা দলীয় প্রতীকের জোয়ারে অনেক সময় প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও ক্যারিশমা হারিয়ে যায়। অনেক ‘ভালো’ ও ‘যোগ্য’ প্রার্থীও অসৎ, দুর্নীতিবাজ ও মাস্তানপ্রকৃতির প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান। এখানে মানুষের মধ্যে এরকম একটি ধারণা কাজ করে যে, ভালো লোককে ভোট দিয়ে লাভ নেই। কারণ তিনি ‘খেতে পারবেন না, খাওয়াতেও পারবেন না’। অর্থাৎ মানুষ মনে করে, দুর্নীতি করেও কেউ যদি জনগণের উপকার করতে পারে, তাহলে তিনিই যোগ্য।
রাষ্ট্রের সব মানুষ এরকম চিন্তা করেন না। একই চিন্তার লোকই হয়তো বেশি। যে কারণে তুলনামূলক সৎ প্রার্থীরা বরাবরই নির্বাচনের দৌড়ে পিছিয়ে থাকেন। কারণ মানুষ মনে করে, নির্বাচন বা জনপ্রতিনিধিত্ব ভালো মানুষের কাজ নয়।
আওয়ামী লীগের ভোট কারা পাবে
এ বছরের জাতীয় নির্বাচনে ভোটাররা কী দেখে ভোট দেবেন? বিশেষ করে বছরের পর বছর ধরে যে দ্বিদলীয় রাজনীতিতে ভোটাররা অভ্যস্ত, সেখানে এবার অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত। ব্যালটে নৌকা নেই। সুতরাং নৌকা মার্কার ভোটাররা এবার কাকে ভোট দেবেন এবং সেখানে তাদের কোন কোন বিবেচনা কাজ করবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক পরিসরে নানারকমের আলোচনা আছে। অনেকে এমনটিও মনে করেন যে, অনেক আসনের ভোটের ফলাফলে আওয়ামী লীগের ভোটাররাই ফ্যাক্টর হবেন। বিশেষ করে যেসব আসনে বিএনপি ও জামায়াতের ভোট কাছাকাছি। ওইসব আসনে আওয়ামী লীগের ভোটাররা এবার স্যুইং (দোদুল্যমান) ভোটার হিসেবে কাজ করবেন। অর্থাৎ তারা যাকে ভোট দেবেন, তিনিই জয়ী হবেন। এরকম একটি ধারণা থেকে অনেক জায়গায় আওয়ামী ভোট পেতে যে বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই তৎপর এমন খবরও গণমাধ্যমে এসেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগের ভোটাররা কোন বিবেচনায় বিএনপি বা জামায়াতকে ভোট দেবেন? এটা ধারণা করা অমূলক নয় যে, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন বা নানারকম অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে মামলার আসামি—এরকম অধিকাংশ লোকেরা এবার ভোট দিতে যাবেন না। তাদের অধিকাংশই পলাতক। ফেরারি জীবন থেকে তাদের ভোটকেন্দ্রে না আসা স্বাভাবিক। এরকম নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও হয়তো ঝামেলা এড়াতে ভোটকেন্দ্র এড়িয়ে চলবেন। কিন্তু এর বাইরে স্থানীয় পর্যায়ের ছোট নেতা বা কর্মী, তাদের পরিবার এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যারা প্রকাশ্যে ও গোপনে আওয়ামী লীগে সমর্থক—তাদের অনেকেই ভোট দিতে যাবেন। তাদের অনেককে ভোটকেন্দ্রে নেওয়া হবে। এই নেওয়ার কাজটি করবেন বিএনপি-জামায়াত উভয় দলের প্রার্থীরাই। এক্ষেত্রে ওই ভোটারদের কাছে নৌকার বিকল্প হিসেবে ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লার চেয়ে হয়তো প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং নির্বাচনের পরে নিজেদের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় যাকে তারা নিরাপদ মনে করবেন, তাকেই ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যারা রাজনৈতিক সচেতন, যারা ১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে সংবেদনশীল—তারা হয়তো জামায়াতকে ভোট দেবেন না। ভোটারদের একটি বড় অংশই হয়তো এই বিবেচনা করবেন যে, যেহেতু বিএনপি ক্ষমতায় আসবে বলে মনে করা হচ্ছে, অতএব ধানের শীষে ভোট দেওয়াই শ্রেয়। অর্থাৎ ভোটের হাওয়া যদি ধানের শীষের দিকে ভারী হয়, তাহলে এই জোয়ারও জনমনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলবে।
অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছর হয়েছে। এই সময় সারা দেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, আগুন এবং তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দখল ও মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে বিএনপি—এমন অভিযোগ বেশ জোরালো। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে গিয়ে জামায়াত অভয় দিয়েছে। এমনকি আর্থিক সুবিধা দিয়েছে—এমনটিও শোনা যায়। সুতরাং যারা বিএনপির দ্বারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এবং পক্ষান্তরে জামায়াতের কাছ থেকে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা বিএনপিকে ভোট দেবেন না। যদিও এই সংখ্যাটা কত এবং সত্যিই এই লোকগুলো জামায়াতকে ভোট দিলে সেটি বিএনপির ভোটকে ছাপিয়ে যাবে কি না—তা নিশ্চিত নয়।
প্রার্থী না প্রতীক
বাংলাদেশের মানুষের ভোটের মনস্তত্ত্বে মার্কা বা প্রতীক এখনও বিরাট ফ্যাক্টর। আটরশি ও চরমোনাই পীরের মাহফিল কিংবা হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ এবং বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিলে মানুষের উপস্থিতি বা ভিড় দেখে ইসলামিক দলগুলোর ভোট হিসাব করার সুযোগ নেই। কারণ পীরদের মাহফিলে উপস্থিত বিরাট অংশই তাদের দলকে ভোট দেন না। মানুষ পীরের দরগায় যায়, দোয়া নেয়, মাজার জিয়ারত করে, মান্নত করে, আর্থিক অনুদান দেয়। কিন্তু তারপর ভোট দেয়ার সময় সে মার্কা দেখে। পীরের দলের মার্কায় সে ভোট দেয় না। ভোট দেয়ার সময় সে প্রথমেই হিসাব করে, তার আসনের প্রার্থী কে এবং কে জিতবে? যার জেতার সম্ভাবনা নেই, তাকে সে ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হয়। আবার বছরের পর বছর ধরে দুই তিনটি মার্কার ব্যাপারে তার যে মনস্তত্ত্ব গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে সে দ্রুত বের হতে পারে না। যে কারণে প্রার্থীর চেয়ে অনেক সময় মার্কা বা প্রতীক বড় হয়ে ওঠে।
কিন্তু তারপরও এটা ঠিক যে, দেশের একটি বড় অংশের ভোটার ধর্মীয় অনুভূতি বা নির্দিষ্ট আদর্শিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ভোট দেন। রক্ষণশীল বা প্রগতিশীল—এই দুই ধারার রাজনৈতিক মেরুকরণ বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলে।
‘আমি তো অমুককে ভোট দিয়েছি’
মানুষের মনোজগতে আরেকটা বিষয় কাজ করে যে, সে নিজের ভোটটা ‘পঁচাতে’ চায় না। অর্থাৎ সে ভোটটা এমন কাউকে দিতে চায়, যার জেতার সম্ভাবনা বেশি। যদি এ কথাই ধ্রুব হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই এমন প্রার্থীরাও তো ভোট পান। তার কারণ হলো, প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব কিছু ভোট থাকে। যেটাকে বলা হয় ভোট ব্যাংক। সেই ভোট ব্যাংকের বাইরে গিয়ে সাধারণ ভোটাররা যখনে কাউকে ভোট দেন, তখন তার বিবেচনায় থাকে যে, কে জিতবেন এবং কে জিতলে তিনি এটা বলতে পারবেন যে, আমি তো অমুককে ভোট দিয়েছি।
প্রার্থীর ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস
বলা হয়, ক্ষমতা সেখানেই থাকে, মানুষ যেখানে ক্ষমতা আছে বলে মনে করে। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের আগে তারেক রহমানের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের যে ধারণা ছিল, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সেটি পুরোপুরি বিপরীত। ৫ আগস্টের পর থেকেই মানুষ এটা মনে করতে শুরু করেছে যে, তারেক রহমানই দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। অথচ তখনও খালেদা জিয়া জীবিত ছিলেন। অর্থাৎ মানুষ যে এটা মনে করছে যে, তারেক রহমানের হাতেই আসল ক্ষমতা, এটাই তাকে ক্ষমতাবান মনে করেছে। আবার মানুষের মনে এই পারসেপশন বা ধারণা তৈরির পেছনেও রাজনীতির অনেকগুলো সূত্র কাজ করেছে। সব মিলিয়ে মানুষই ব্যক্তিকে ক্ষমতাবান করে এবং মানুষের ওই ধারণা কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিকে ক্ষমতাবান হয়ে উঠতে হয়—যা ভোটারের মনস্তত্ত্বে প্রভাব বিস্তার করে।
এখানে মানুষের মধ্যে এরকম একটি ধারণা কাজ করে যে, ভালো লোককে ভোট দিয়ে লাভ নেই। কারণ তিনি ‘খেতে পারবেন না, খাওয়াতেও পারবেন না’। অর্থাৎ মানুষ মনে করে, দুর্নীতি করেও কেউ যদি জনগণের উপকার করতে পারে, তাহলে তিনিই যোগ্য।
প্রার্থীর আত্মবিশ্বাসও ভোটে বড় ফ্যাক্টর। সাধারণত বড় দলের প্রার্থীদের আত্মবিশ্বাস অপেক্ষাকৃত ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চেয়ে বেশি হয়। মানুষ এটা বোঝে। আবার অনেক সময় বড় দলের প্রার্থীর চেয়েও কখনো স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কেউ কেউ বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন বা তার জনস্পৃক্ততা বেশি থাকে। এবারের নির্বাচনেও এরকম বেশ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী দেখা যাচ্ছে, যারা দলীয় প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। সেটি জনসম্পৃক্ততায় যেমন, তেমনি তাদের আত্মবিশ্বাসে। ফলে এবার অনেক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোটাররা অনেক সময় স্থানীয় প্রার্থীর চেয়ে কেন্দ্রীয় নেতার ভাবমূর্তি দেখে ভোট দেন। খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা, তারেক রহমান বা শফিকুর রহমানের মতো শীর্ষ নেতাদের জনপ্রিয়তা বা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে অনেক সময় ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেন যে তারা কোন মার্কায় ভোট দেবেন।
প্রার্থীর আর্থিক সক্ষমতাও ভোটারদের মনোজগতে প্রভাব ফেলে। মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে বা কথা শুনতে পছন্দ করে। কিন্তু দুর্নীতি করে বড়লোক হওয়া প্রার্থীদেরকেই ভোট দেয় এই বিবেচনায় যে, বিপদে-আপদে তার কাছে গেলে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে। সেটি হোক নিজের চিকিৎসা কিংবা মেয়ের বিয়ে। সৎ ও সজ্জন লোক, যার পয়সা নেই—এমন লোককে ভোট দিলে বিপদে-আপদে তার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, সেটি অনেক সময় মানুষেরা চিন্তা করে।
আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি কার প্রশাসনিক প্রভাব আছে, সেটিও ভোটাররা বিবেচনা করে। যেমন জায়গা-জমি নিয়ে বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যখন দুটি পরিবার বা দুটি পক্ষ মুখোমুখি হয়, আইন-আদালত পর্যন্ত গড়ায় তখন কাকে ফোন দিলে সুবিধা পাওয়া যাবে, বা কার কথায় পুলিশ অ্যাকশন নেবে—এমন বিবেচনাও ভোটারদের মনে থাকে। অর্থাৎ শুধুই ভালো মানুষ—এই পরিচয়টি ভোট পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বাংলাদেশে বিবেচিত হয় না।
কাকে ভোট দিলে উন্নয়ন হবে
গ্রামীণ বা মফস্বল এলাকায় ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় উন্নয়ন। রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি বা বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে কোন প্রার্থী বা দল বেশি কাজ করেছে, সেটি ভোটারদের মনোজগতে প্রভাব ফেলে। যে কারণে কাকে ভোট দিলে স্থানীয় পর্যায়ের এসব উন্নয়ন বেশি হবে, সেটি ভোটারদের বিবেচনায় থাকে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর নির্বাচনের প্রভাব অনেক। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। অর্থনৈতিক সংকটের সময় ক্ষমতাসীন দলের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব বা এন্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর কাজ করে। যে কারণে দেখা গেছে, দেশের ইতিহাসে যতগুলো তুলনামূলক ভালো নির্বাচন হয়েছে, সেখানে সবশেষ ক্ষমতায় থাকা দল হেরে গেছে। মানুষ পাঁচ বছরে মানুষ তাদের ওপর বিরক্ত হয়েছে এবং তাদেরকে ভোট না দিয়ে এক ধরনের প্রতিশোধ নিয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিশোধ নিয়ে যাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, পরবর্তী পাঁচ বছর তারাও একই কাজ করেছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ এই এক চক্রের ভেতরে খাবি খেয়েছে।
প্রভাবিত হওয়া
জাতীয় ও স্থানীয়—যেকোনো নির্বাচনের স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এবং ঘনিষ্ঠজনদের অনুরোধেও অনেক সময় ভোটারদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে এরকম প্রশ্ন অনেকবার শুনেছি যে, কাকে ভোট দেব? অর্থাৎ তারা সন্দিহান যে কাকে ভোট দেয়া উচিত। এই প্রশ্নের পাশাপাশি তারা এটিও মনে করেন যে, ভোটে যেই জিতুক না কেন, মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। দেশের কোনো কল্যাণ হবে না। বরং এটা কেবলই একটি ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে চিহ্নিত হবে। কিন্তু তারপরও তারা ভোট দিতে চান। কিন্তু কাকে ভোট দেয়া মন্দের ভালো—সেটি বুঝতে চান। এরকম অনেক ভোটারই তাদের ঘনিষ্ঠনজন, বিশেষ করে পরিবারে যাদের কথার মূল্য আছে বা সমাজের প্রভাবশালী—তাদের কথায় ভোটারদের মনোজগতে অনেক সময় পরিবর্তন হয়।
সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় কাজ করে না। আবেগ, দলীয় আনুগত্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আদর্শ, প্রতীকের প্রতি ভালোবাসার লিগ্যাসি এবং বাস্তব প্রয়োজনের এক জটিল মিশ্রণ হচ্ছে ভোটের মনস্ততত্ত্ব।
- আমীন আল রশীদ: সাংবাদিক ও লেখক