leadT1ad

তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদকদের মতবিনিময়, চাইলেন স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, প্রধান নির্বাহী এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতসহ গণমাধ্যমের নানা প্রতিবন্ধকতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানীর এক হোটেলের বলরুমে গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে। কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্য রেখেই আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে, জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি।’

সভায় তারেক রহমান সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি হিসেবে হোক বা সংবাদকর্মী হিসেবে—সবার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গায় কখনোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি যেখানে গণমাধ্যমের আইনগত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছিল না। ফলে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আর মিডিয়ার যে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এই দুইটা হাত ধরাধরি করে চলে। আমরা যদি ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে সমাজ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে।’

কথা বলছেন নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির। স্ট্রিম ছবি
কথা বলছেন নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির। স্ট্রিম ছবি

নুরুল কবির আরও বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিশ্বাস করে, মানুষকে একথা বলেন যে তারা গণতান্ত্রিক রূপান্তর চান। তাবে একই সঙ্গে তার দায় দাঁড়ায় তার সেই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহযোগিতা করবার জন্যই গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা। আপনারা যেন সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন।’

দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র চাই, স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই এবং সুশাসন চাই। একটি দুটি বিষয়ে আমি মনে করি না যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী। আমি মনে করি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্লাইমেট চেঞ্জ। ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে আমরা কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো বা অত আলোচনা করছি না। ক্লাইমেট চেঞ্জের যে কী ইম্প্যাক্ট হবে, এটা আমরা কিন্তু কোস্টাল এরিয়াতে দেখতে পাচ্ছি। আমার অনুরোধ থাকবে ক্লাইমেট চেঞ্জ শুড বি ইওর ভেরি ইম্পর্টেন্ট প্রায়োরিটি।’

অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। স্ট্রিম ছবি
অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। স্ট্রিম ছবি

ইটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, ‘এই যে ফ্রিডম অব স্পিচ এটা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি বিএনপি ক্ষমতায় এলে এদিকে তারা খেয়াল রাখবে।’

মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘মিডিয়া ২০২৪ এর ৫ আগস্ট এর পর অনেকটাই স্বাধীন, অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছি, মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা অনেকটাই সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন কিন্তু আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে আমরা জাহান্নামে আছি না বেহেশতে আছি।’

গণমাধ্যম শত্রু নয়, গণমাধ্যম আসলেই বন্ধু কারণ সে সত্যিকারে ভালো কাজ করে উল্লেখ করে যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘হয়তো তিতা লাগে কখনো কখনো, কিন্তু তবুও তো সঠিক কথাটা বলার চেষ্টা করে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সাংঘর্ষিক নয়, আমরা পরিপূরক আমরা ওয়াচডগ হিসেবে আপনাদেরকে বস্তুনিষ্ঠভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আপনাদের ভুল ত্রুটি আমরা ধরিয়ে দিতে চাই। সেই সহনশীলতা আপনাদের যে ঐতিহ্যের যে পরম্পরা আছে সেটা রক্ষা করে আপনারা আমাদেরকে সেই সুযোগটা দেবেন।’

ঢাকা স্ট্রিম সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ইতিবাচক দিক আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদের আমলে। তাদের প্রতিরোধের জায়গাগুলো দেখেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডিজইনফরমেশন এবং মিসইনফরমেশন প্রসারে তাদের একটা ভূমিকাও কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই ক্ষেত্রে সরকারের যে সমস্ত গণমাধ্যমবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আছে সেই সংস্থাগুলো অবাধ তথ্যের প্রসারে একটা কাউন্টার হিসেবে তৈরি হতে পারে।’

মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যমের ওপরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের হেট ক্যাম্পেইনের যে একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেইটার ব্যাপারেও সুরক্ষা থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেন ইফতেখার মাহমুদ।

ইফতেখার মাহমুদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশেসহ পৃথিবীর যেকোনো দেশে, যেকোনো নতুন সেক্টর যখন শুরু হয় তখন তাদের জন্য একটা ইকোসিস্টেম সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে যেসব নতুন ধারায় গণমাধ্যম—যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছেন, তাদের জন্য এখানে আসলে যথাযথ ইকোসিস্টেম নাই। বিশেষ করে তাদের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি খাত, এই জায়গাগুলোতে আসলে এক ধরনের নন-কোঅপারেশন আছে।’

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ছাড়াও উপস্থিত বিএনপির নেতাদের মধ্যে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত