১০০ ফুটের পটচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও লোকজ ইতিহাস

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৩৮
চারুকলায় পটচিত্র আঁকায় ব্যস্ত শিল্পী। ছবি: সংগৃহীত

এবারের পয়লা বৈশাখের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি পটচিত্র। যেখানে লোকজ সংস্কৃতির পাশাপাশি ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের রক্তিম ইতিহাস। পহেলা বৈশাখের আগের দিনেও চারুকলার প্রাঙ্গণে পটুয়া নাজির হোসেনের নেতৃত্বে এই পটচিত্র তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন শিল্পীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাদা ক্যানভাসে তুলির আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের প্রতিকৃতি।

চারুকলা প্রাঙ্গণজুড়ে সাজসজ্জায়ও লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। শুধু ১০০ ফুটের পটচিত্রে নয়, আরও বিভিন্ন পটচিত্রে স্থান পেয়েছে বাংলার সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি ও মিথ। সুন্দরবনের শ্রমজীবী মানুষের রক্ষাকর্ত্রী দেবী বনবিবির আখ্যান, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক মুঘল সম্রাট আকবরের ইতিহাস এবং মঙ্গলকাব্যের জনপ্রিয় চরিত্র বেহুলা ও লখিন্দরের কাহিনি চিত্রিত হয়েছে সেখানে।

বিভিন্ন পটচিত্রে স্থান পেয়েছে বাংলার সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি ও মিথ। ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্ন পটচিত্রে স্থান পেয়েছে বাংলার সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি ও মিথ। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়া নাজির হোসেন বলেন, ‘তরুণদের চোখে বাংলাদেশ নিয়েই এই পটচিত্রের অবতারণা। নদীমাতৃক বাংলার বাঁকে বাঁকে যে উৎসব হতো, পটুয়াদের পটের গান, পুতুল নাচ কিংবা বায়োস্কোপের যে চিরায়ত সংস্কৃতি—তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতেই আমরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কাজ করে যাচ্ছি।’

দেয়ালজুড়ে আঁকা হচ্ছে গ্রামীণ জীবন, লোকজ ঐতিহ্য এবং বাংলার সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। শোভাযাত্রার মূল মোটিফগুলোর মধ্যে রয়েছে হাতি, মোরগ, পায়রা, দোতারা এবং কবুতরের প্রতিকৃতি। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে সরাচিত্র, মাটির টেপা পুতুল এবং জলরঙের নান্দনিক পেইন্টিং।

সম্পর্কিত