আদর্শ নয়, ক্ষমতার রাজনীতি: তৃণমূলে ভাঙনের পাঠ

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ১৫: ০৪
এআই জেনারেটেড ছবি

রাজনীতিতে ইতিহাস কখনো কখনো নির্মম রসিকতা করে। যে শক্তিকে ব্যবহার করে কেউ ক্ষমতায় ওঠে, একদিন সেই শক্তিই তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সংকট সেই বাস্তবতারই আরেক উদাহরণ।

মাত্র ২৮ বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে তুলে ধরেছিলেন বামবিরোধী সংগ্রামের মুখ হিসেবে। ছিলেন রাস্তায় আন্দোলনের নেতা। প্রতিবাদের প্রতীক। সিপিএমের দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিয়েছিলেন তিনি। আজ সেই দলই ভাঙনের মুখে। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্য বিদ্রোহ হয়েছে। সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিতে বাধ্য হয়েছেন দলনেত্রী। প্রশ্ন উঠছে, কোথায় ভুল হলো?

তৃণমূলের ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। দলটির আদর্শিক ভিত্তি কখনো শক্তিশালী ছিল না। আন্দোলন ছিল। নেতৃত্ব ছিল। জনসমর্থন ছিল। কিন্তু সংহত রাজনৈতিক দর্শন ছিল না। ফলে জোটের রাজনীতিতে দলটি বারবার অবস্থান বদলেছে। কখনো কংগ্রেসের সঙ্গে। কখনো বিজেপির সঙ্গে। কখনো তাদের বিরুদ্ধেও।

১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রথম বড় সাফল্য এসেছিল বিজেপির সঙ্গে জোট করে। অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারে মন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তৃণমূলের কোনো আপত্তি ছিল না। পরে প্রয়োজন বদলেছে। অবস্থানও বদলেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের উত্থানের পেছনে বিজেপির সঙ্গে সেই রাজনৈতিক সমীকরণেরও ভূমিকা ছিল। আজ সেই বিজেপিই তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, কার্যত তার অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় হুমকি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় কোনো সাধারণ পরাজয় নয়। এটি একটি রাজনৈতিক ভূমিকম্প। দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্ষমতা হারিয়েছে দলটি। মুখ্যমন্ত্রী পদ হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী আসনে বসতে হয়েছে তৃণমূলকে। তারও এক মাস না যেতেই বিধানসভার ভেতরে শুরু হয়েছে বিদ্রোহ। এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পরাজয়ের পর কেন এত দ্রুত দল ভাঙনের মুখে পড়ল?

উত্তর খুঁজতে গেলে ক্ষমতার রাজনীতির দিকে তাকাতে হবে। ভারতের রাজনীতিতে গত এক দশকে একটি প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। আদর্শ নয়, ক্ষমতাই হয়ে উঠেছে প্রধান আকর্ষণ। রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক সুবিধা। ক্ষমতা যেখানে, স্রোতও সেদিকে। ফলে দলত্যাগ আর ব্যতিক্রম নয়, বরং স্বাভাবিক ঘটনা। এক সময় কংগ্রেস এই সমস্যার শিকার হয়েছিল। পরে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলও হয়েছে। এখন সেই রোগে আক্রান্ত তৃণমূল।

তৃণমূলের সংকটকে কেবল একটি দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা যাবে না। সাম্প্রতিক ভারতীয় রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির উত্থানের সঙ্গে একটি কৌশলও সমান্তরালে দেখা গেছে– বিরোধী দলে ভাঙন, প্রভাবশালী নেতাদের টেনে নেওয়া এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। অনেক রাজ্যে দেখা গেছে, যেসব নেতার বিরুদ্ধে এক সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, পরে তাদেরই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা গেছে। বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বলে সমালোচনা করে। পশ্চিমবঙ্গেও একই অভিযোগ বারবার উঠেছে। বিজেপি বিরোধী শিবিরের অসন্তুষ্ট অংশকে আকর্ষণের চেষ্টা করেছে। ফলে পরাজিত বা দুর্বল হয়ে পড়া দলগুলোর ভেতর ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে।

আরেক বিতর্কিত ইস্যু হলো ভোটার তালিকা। বিশেষত মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ পড়া বা যাচাইয়ের নামে হয়রানির অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ কথিত ভোটার তালিকা সংশোধনের (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) নামে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এখন এটা স্পষ্ট, বিজেপি কোনো নিয়ম-কানুনের ধার ধারে না। বর্তমানে ভারতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিজেপি একাকার হয়ে গেছে। সব কিছু বিজেপিময়। তৃণমূলের বর্তমান ভাঙন বুঝতে হলে তাই কেবল অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নয়, বৃহত্তর জাতীয় রাজনৈতিক কৌশলের প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম বড় নাম। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের ইতিহাস অস্বীকারের উপায় নেই। কিন্তু অতীতের অর্জন দিয়ে বর্তমান সংকট সামাল দেওয়া যায় না। নতুন বাস্তবতায় নতুন উত্তর দিতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনি একজন বহিষ্কৃত বিধায়ক থেকে কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় বিদ্রোহের মুখ হয়ে উঠেছেন। ঘটনা প্রবাহ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্বই এখন প্রশ্নের মুখে।

দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিদ্রোহ দমন। ফল হয়েছে উল্টো। বহিষ্কারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেখা গেল, বিধানসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত শিবির স্পিকারের কাছে দাবি জানায়, তারাই প্রকৃত পরিষদীয় দল। স্পিকারও সেই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে ঋতব্রতের বক্তব্য।

বিজেপি ঋতব্রতকে নিয়ে খেলছে। তিনি বিজেপির পেটে ঢুকে পড়েছেন। বিজেপির নির্দেশ অনুযায়ী সব কিছু করছেন। অনেকে বলাবলি শুরু করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় এখন আর বিরোধী দল থাকবে না। ঋতব্রতের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে হবে গৃহপালিত বিরোধী দল।

এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, তৃণমূলের সাম্প্রতিক পরাজয় শুধু নির্বাচনী পরাজয় ছিল না। সেটি ছিল দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিস্ফোরণের সূচনা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বিস্ফোরণের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। লোভী ও অতীতে নিজ দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিকরা সুবিধাভোগী হবেন, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বাসঘাতকরা সব সময় বিশ্বাসঘাতক থেকে যায়। ঋতব্রত এর ব্যতিক্রম নন। এখানেই মার খেয়েছেন মমতা। আর তৃণমূল দাঁড়িয়ে আছে তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক সংকটের মুখে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এক সময় ছিলেন সিপিএমের তরুণ মুখ। পরে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এখন আবার তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রধান মুখ। এই যাত্রাপথ শুধু একজন নেতার গল্প নয়। এটি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও প্রতিচ্ছবি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি দিয়ে। এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘ সময়। সিপিএম তাকে অল্প বয়সেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। দল তার ওপর আস্থা রেখেছিল। কিন্তু সেটা টেকেনি। দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। যে দলের বিরুদ্ধে এক সময় লড়াই করেছেন, সেই দলই তাকে নতুন পরিচয় দেয়। রাজ্যসভায় পাঠায়। গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়। পরে বিধানসভার টিকিটও দেয়। আজ সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধেই তিনি বিদ্রোহের মুখ। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, আদর্শ কোথায়? রাজনৈতিক বিশ্বাস কোথায়? একজন নেতা কি কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র বদলালেই নিজ অবস্থান বদলে ফেলবেন? ভারতের রাজনীতিতে এখন দলবদল অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেক নেতাই আদর্শের চেয়ে সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দেন। ক্ষমতার সম্ভাবনা দেখলেই নতুন শিবিরে ভেড়েন। ঋতব্রতের রাজনৈতিক জীবন সেই প্রবণতারই উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

দায় অবশ্য শুধু ব্যক্তির নয়। রাজনৈতিক দলগুলোরও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। যখন দলগুলো আদর্শের বদলে তাৎক্ষণিক লাভকে গুরুত্ব দেয়, তখন এমন নেতাদের উত্থান ঘটে। আবার সংকটের সময় তারাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূলের বর্তমান সংকট তাই শুধু সাংগঠনিক ভাঙনের গল্প নয়। এটি আদর্শহীন রাজনীতিরও সতর্কবার্তা। যেখানে আনুগত্যের চেয়ে ক্ষমতা বড় হয়ে ওঠে, সেখানে বিদ্রোহ কেবল সময়ের অপেক্ষা।

তৃণমূলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, দলটি ক্রমে একটি পরিবারকেন্দ্রিক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত। মাঠের কর্মী, পুরোনো নেতা কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতামতের মূল্য কমেছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পর সেই অসন্তোষই বিস্ফোরিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

রাজনীতিতে জয় অনেক দুর্বলতা আড়াল করে রাখে। পরাজয় সেগুলোকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। ক্ষমতায় থাকাকালে তৃণমূলের ভেতরের দ্বন্দ্ব চাপা ছিল। কারণ ক্ষমতা ছিল। প্রশাসন ছিল। পদ ছিল। সুযোগ ছিল। ক্ষমতা হারানোর পর সেই আঠা আর কাজ করছে না। ফলে দলীয় ঐক্যের মুখোশ খুলে যাচ্ছে। তৃণমূলের বর্তমান সংকটের মূল কারণ তৃণমূল নিজেই। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে প্রায় সব দলই আত্মতুষ্টিতে ভোগে। তারা মনে করে, জনসমর্থন চিরস্থায়ী। বিরোধী শক্তিকে দুর্বল ভাবতে শুরু করে। সংগঠনের পরিবর্তে ব্যক্তিনির্ভরতা বাড়ে। সমালোচনা গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়। তৃণমূলও সেই ফাঁদে পড়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক বিতর্ক ও নেতৃত্বের প্রশ্নে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরোধীরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। বিজেপি ধারাবাহিকভাবে মাঠে থেকেছে। সংগঠন বিস্তার করেছে। বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে তার ফল পেয়েছে।

আজকের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আদর্শের অনুপস্থিতি। যে দলে আদর্শ শক্তিশালী থাকে, সেখানে পরাজয়ের পরও সংগঠন টিকে থাকে। কর্মীরা লড়াই চালিয়ে যায়। নেতৃত্ব বদলায়, কিন্তু দল ভাঙে না। কিন্তু যখন দল মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়, তখন ব্যক্তির জনপ্রিয়তা কমলেই কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যায়। তৃণমূল এখন সেই পরীক্ষার মুখোমুখি। ঋতব্রতদের বিদ্রোহ সাময়িক ঘটনা হতে পারে। এটি বৃহত্তর ভাঙনের সূচনাও হতে পারে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত– তৃণমূল আর আগের জায়গায় নেই। দলটি এখন অস্তিত্বের সংকটে দাঁড়িয়ে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম বড় নাম। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের ইতিহাস অস্বীকারের উপায় নেই। কিন্তু অতীতের অর্জন দিয়ে বর্তমান সংকট সামাল দেওয়া যায় না। নতুন বাস্তবতায় নতুন উত্তর দিতে হয়। রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন সত্য হলো, ক্ষমতা কখনো স্থায়ী নয়। জনগণ যেমন ক্ষমতায় বসায়, তেমনি নামিয়েও দেয়। আর যখন কোনো দল নিজের ভেতর গণতন্ত্রকে দুর্বল করে, নেতৃত্বকে প্রশ্নাতীত করে এবং আদর্শের জায়গায় ব্যক্তিপূজা প্রতিষ্ঠা করে, তখন পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূল কংগ্রেস আজ সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

যে বিজেপির হাত ধরে একদিন জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান শক্ত করেছিল তৃণমূল, আজ সেই বিজেপির উত্থানই তার সবচেয়ে বড় সংকটের কারণ। তবে শেষ পর্যন্ত পতনের দায় বাইরের কারও নয়। রাজনৈতিক দলের পতনের বীজ সাধারণত তার নিজের ভেতরেই জন্ম নেয়। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি সেই সত্যই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।

লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

বিষয়:

সম্পর্কিত