লেখা:

বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছিল জটিল, বহুমাত্রিক ও ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়ায়। ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দী এই আধুনিকতার বিস্তার ও বিকাশের মূল ধাপ হিসেবে পরিচিত। আধুনিক বাঙালির মনন ও সামাজিক চেতনার ভিত্তি স্থাপন করে বাংলার নবজাগরণ বা রেনেসাঁস। এই নবজাগরণের মূলমন্ত্র ছিল ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। অর্থাৎ, যুক্তি, বুদ্ধি ও প্রমাণের মাধ্যমে সত্যের অনুসন্ধান ও গ্রহণই সমাজের উন্নতির মূল চাবিকাঠি। রেনেসাঁসের মাধ্যমে বাঙালি মধ্যযুগীয় মনোভাব থেকে আধুনিক চিন্তাশীল, যুক্তিবাদী ও সামাজিক সচেতন নাগরিকে রূপান্তরিত হয়। এটি একটি সামগ্রিক জাগরণের সূচনা করেছিল।
কিন্তু নবজাগরণ পূর্ণাঙ্গভাবে বাঙালি সমাজের সকল অংশে বিস্তার লাভ করতে পারেনি। মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মুসলিম সমাজে এই জাগরণ দেরিতে প্রবেশ করেছিল। হিন্দু বাঙালি সমাজে চিন্তাশীলতা ও তর্কবিতর্কের সূচনা ঘটে উনিশ শতকের প্রাথমিক দশকে, কিন্তু মুসলিম সমাজে তা দ্বিতীয়ার্ধে প্রবেশ করে। এভাবে সামাজিক ও সাহিত্যিক চেতনায় মুসলিম বাঙালির আত্মউন্মোচন ও জিজ্ঞাসার প্রথম ধাপ স্থাপিত হয় ১৮৭০-১৯২০ সালের মধ্যে।
বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এই প্রাথমিক জাগরণ চূড়ান্ত বিকাশে পৌঁছায়। কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। পশ্চিমবঙ্গে কলকাতাকে কেন্দ্র করে এবং পূর্ববঙ্গে ঢাকাকে কেন্দ্র করে এই সাহিত্যচর্চা প্রসার লাভ করে। কলকাতার মুখপত্র ‘সওগাত’ এবং ঢাকার মুখপত্র ‘শিখা’ সেই সময়ের প্রধান সাহিত্যমাধ্যম হিসেবে উদ্ভূত হয়। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার প্রভাব বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়। যেমন—প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৮), রাশিয়ার বিপ্লব (১৯১৭), ভারতীয় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন, তুরস্কে মুস্তাফা কামালের প্রভাব, কমিউনিজমের বিস্তার ইত্যাদি। এই ঘটনাগুলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থিতিশীলতাকে অচিরেই ভেঙে দিয়ে বাঙালি-মুসলমান সমাজে নতুন চিন্তাধারার প্রবাহ সৃষ্টি করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯২১) প্রতিষ্ঠা পূর্ববঙ্গের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক উত্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। ১৯২৩ সালে কলকাতা থেকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মুখপত্র ‘কল্লোল’ এবং ১৯২৭ সালে ঢাকার ‘প্রগতি’ প্রকাশিত হয়। এই যুগে ঢাকা ক্রমশ জাগ্রত হতে থাকে এবং ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। সমাজের মুখপত্র ‘শিখা’ সেই সময় প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য, ১৯২৭ সালে একই সময়ে ঢাকা থেকে ‘প্রগতি’ ও ‘শিখা’ প্রকাশিত হয়। ‘প্রগতি’ রবীন্দ্র-উত্তর আধুনিক সাহিত্যের প্রতিফলন ঘটায়; ‘শিখা’ নবজাগ্রত বাঙালি-মুসলমানের ভাবনা ও বেদনার বহুমাত্রিক বিকাশ প্রকাশ করে। দুটি মাধ্যমই বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর কার্যক্রম ১৯২৬-১৯৩৬ সালের মধ্যে চলেছে। সমাজের প্রধান প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ কাসেম, আবদুল মজিদ, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম সভাপতিত্ব করেছিলেন। কবি নজরুল ইসলাম প্রথম দুটি বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গান ও কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, স্যার এ.এফ. রহমান প্রমুখ বার্ষিক সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছিলেন।
‘শিখা’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশকের নিবেদনে লেখা হয়েছিল, পত্রিকার লক্ষ্য হলো মুসলিম সমাজের জীবন ও চিন্তাধারার গতির পরিবর্তন। পত্রিকায় বারবার জোর দেওয়া হয়েছিল, ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’। মুসলিম সাহিত্য সমাজের ষষ্ঠ বার্ষিক অধিবেশনে আবুল হুসেন বলেছিলেন, সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজকে গতিশীল ও চিন্তাশীল করা সম্ভব। কাজী আবদুল ওদুদ উল্লেখ করেছেন, নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ১৯২৬ সালে ঢাকায় একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠীর উদয় ঘটায়, যার মূল মন্ত্র ছিল ‘বুদ্ধির মুক্তি’।
মুসলিম সাহিত্য সমাজের কার্যক্রমের লক্ষ্য ছিল সংকীর্ণতামুক্ত, প্রগতিশীল চিন্তাচর্চা। তাদের সাহিত্যিক কর্মসূচি শুধু সাহিত্যসৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো সমাজে চিন্তাশীলতা ও মানসিক উদারতার বিস্তার ঘটিয়েছিল। তাদের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘শিখা’ পত্রিকা ১৯২৭-৩১ সালের মধ্যে পাঁচ বছর ধরে প্রকাশিত হয়, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সাহিত্য ইতিহাসে অতি মূল্যবান হয়ে ওঠে। অন্যান্য সমসাময়িক পত্রিকা যেমন ‘সওগাত’, ‘জাগরণ’, ‘জয়তী’ তে তাদের প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়।
এ সমাজ ও পত্রিকার মাধ্যমে মুসলিম বাঙালি নতুন মানসিক ও সামাজিক সচেতনতা অর্জন করে। এঁরা রাজনৈতিক ব্যাপারে নীরব থাকলেও, তাদের সাহিত্যচর্চা ও চিন্তাধারায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত ছিল। তাদের কাজের মাধ্যমে বাঙালি-মুসলিম সমাজে অপ্রত্যক্ষ সাফল্য অর্জিত হয়, যা পরবর্তীতে সাহিত্যিক ও সামাজিক প্রগতির পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।
সংকলন ‘নির্বাচিত শিখা’—মৌলিক পত্রিকা ও প্রবন্ধাবলির আধুনিক সংস্কার ও সংকলন। এতে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হয়েছে। প্রকাশকের সম্পাদকীয় নোট ও সংকলনকারীর প্রচেষ্টা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনঃপ্রকাশ করেছে। ৭৫ বছর পরে এই সংকলন প্রকাশিত হওয়ায় তা আমাদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। বিশেষভাবে, মহান ভাষা আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তির সময় প্রকাশ হওয়ায় এটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে।
বাংলার আধুনিকতার যাত্রা নবজাগরণ থেকে মুসলিম সাহিত্য সমাজের ‘শিখা’ পর্যন্ত বিস্তৃত। ইসলামিক চিন্তাশীলতা, সামাজিক উদারতা ও সাহিত্যচর্চার সংমিশ্রণ বাংলার মুসলিম সমাজকে আধুনিকীকরণের পথে নিয়ে যায়। ঢাকা ও কলকাতার সাহিত্যকেন্দ্রিকতা, প্রগতি ও সৃজনশীল উদ্যোগ, নজরুল ইসলামের আবির্ভাব, বেগম রোকেয়ার অবদান—সব মিলিয়ে বাংলার আধুনিক সাহিত্যে সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল ধারা গড়ে ওঠে। ‘শিখা’ গোষ্ঠীর কর্মসূচি ও প্রকাশনা সেই ধারার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, যা আজও বাংলার সাহিত্য ও সামাজিক চিন্তাধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছিল জটিল, বহুমাত্রিক ও ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়ায়। ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দী এই আধুনিকতার বিস্তার ও বিকাশের মূল ধাপ হিসেবে পরিচিত। আধুনিক বাঙালির মনন ও সামাজিক চেতনার ভিত্তি স্থাপন করে বাংলার নবজাগরণ বা রেনেসাঁস। এই নবজাগরণের মূলমন্ত্র ছিল ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। অর্থাৎ, যুক্তি, বুদ্ধি ও প্রমাণের মাধ্যমে সত্যের অনুসন্ধান ও গ্রহণই সমাজের উন্নতির মূল চাবিকাঠি। রেনেসাঁসের মাধ্যমে বাঙালি মধ্যযুগীয় মনোভাব থেকে আধুনিক চিন্তাশীল, যুক্তিবাদী ও সামাজিক সচেতন নাগরিকে রূপান্তরিত হয়। এটি একটি সামগ্রিক জাগরণের সূচনা করেছিল।
কিন্তু নবজাগরণ পূর্ণাঙ্গভাবে বাঙালি সমাজের সকল অংশে বিস্তার লাভ করতে পারেনি। মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মুসলিম সমাজে এই জাগরণ দেরিতে প্রবেশ করেছিল। হিন্দু বাঙালি সমাজে চিন্তাশীলতা ও তর্কবিতর্কের সূচনা ঘটে উনিশ শতকের প্রাথমিক দশকে, কিন্তু মুসলিম সমাজে তা দ্বিতীয়ার্ধে প্রবেশ করে। এভাবে সামাজিক ও সাহিত্যিক চেতনায় মুসলিম বাঙালির আত্মউন্মোচন ও জিজ্ঞাসার প্রথম ধাপ স্থাপিত হয় ১৮৭০-১৯২০ সালের মধ্যে।
বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এই প্রাথমিক জাগরণ চূড়ান্ত বিকাশে পৌঁছায়। কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। পশ্চিমবঙ্গে কলকাতাকে কেন্দ্র করে এবং পূর্ববঙ্গে ঢাকাকে কেন্দ্র করে এই সাহিত্যচর্চা প্রসার লাভ করে। কলকাতার মুখপত্র ‘সওগাত’ এবং ঢাকার মুখপত্র ‘শিখা’ সেই সময়ের প্রধান সাহিত্যমাধ্যম হিসেবে উদ্ভূত হয়। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার প্রভাব বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়। যেমন—প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৮), রাশিয়ার বিপ্লব (১৯১৭), ভারতীয় অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন, তুরস্কে মুস্তাফা কামালের প্রভাব, কমিউনিজমের বিস্তার ইত্যাদি। এই ঘটনাগুলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থিতিশীলতাকে অচিরেই ভেঙে দিয়ে বাঙালি-মুসলমান সমাজে নতুন চিন্তাধারার প্রবাহ সৃষ্টি করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯২১) প্রতিষ্ঠা পূর্ববঙ্গের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক উত্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। ১৯২৩ সালে কলকাতা থেকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মুখপত্র ‘কল্লোল’ এবং ১৯২৭ সালে ঢাকার ‘প্রগতি’ প্রকাশিত হয়। এই যুগে ঢাকা ক্রমশ জাগ্রত হতে থাকে এবং ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। সমাজের মুখপত্র ‘শিখা’ সেই সময় প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য, ১৯২৭ সালে একই সময়ে ঢাকা থেকে ‘প্রগতি’ ও ‘শিখা’ প্রকাশিত হয়। ‘প্রগতি’ রবীন্দ্র-উত্তর আধুনিক সাহিত্যের প্রতিফলন ঘটায়; ‘শিখা’ নবজাগ্রত বাঙালি-মুসলমানের ভাবনা ও বেদনার বহুমাত্রিক বিকাশ প্রকাশ করে। দুটি মাধ্যমই বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর কার্যক্রম ১৯২৬-১৯৩৬ সালের মধ্যে চলেছে। সমাজের প্রধান প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ কাসেম, আবদুল মজিদ, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম সভাপতিত্ব করেছিলেন। কবি নজরুল ইসলাম প্রথম দুটি বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গান ও কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, স্যার এ.এফ. রহমান প্রমুখ বার্ষিক সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছিলেন।
‘শিখা’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশকের নিবেদনে লেখা হয়েছিল, পত্রিকার লক্ষ্য হলো মুসলিম সমাজের জীবন ও চিন্তাধারার গতির পরিবর্তন। পত্রিকায় বারবার জোর দেওয়া হয়েছিল, ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’। মুসলিম সাহিত্য সমাজের ষষ্ঠ বার্ষিক অধিবেশনে আবুল হুসেন বলেছিলেন, সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজকে গতিশীল ও চিন্তাশীল করা সম্ভব। কাজী আবদুল ওদুদ উল্লেখ করেছেন, নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ১৯২৬ সালে ঢাকায় একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠীর উদয় ঘটায়, যার মূল মন্ত্র ছিল ‘বুদ্ধির মুক্তি’।
মুসলিম সাহিত্য সমাজের কার্যক্রমের লক্ষ্য ছিল সংকীর্ণতামুক্ত, প্রগতিশীল চিন্তাচর্চা। তাদের সাহিত্যিক কর্মসূচি শুধু সাহিত্যসৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো সমাজে চিন্তাশীলতা ও মানসিক উদারতার বিস্তার ঘটিয়েছিল। তাদের উদ্যোগে প্রকাশিত ‘শিখা’ পত্রিকা ১৯২৭-৩১ সালের মধ্যে পাঁচ বছর ধরে প্রকাশিত হয়, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সাহিত্য ইতিহাসে অতি মূল্যবান হয়ে ওঠে। অন্যান্য সমসাময়িক পত্রিকা যেমন ‘সওগাত’, ‘জাগরণ’, ‘জয়তী’ তে তাদের প্রবন্ধও প্রকাশিত হয়।
এ সমাজ ও পত্রিকার মাধ্যমে মুসলিম বাঙালি নতুন মানসিক ও সামাজিক সচেতনতা অর্জন করে। এঁরা রাজনৈতিক ব্যাপারে নীরব থাকলেও, তাদের সাহিত্যচর্চা ও চিন্তাধারায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত ছিল। তাদের কাজের মাধ্যমে বাঙালি-মুসলিম সমাজে অপ্রত্যক্ষ সাফল্য অর্জিত হয়, যা পরবর্তীতে সাহিত্যিক ও সামাজিক প্রগতির পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।
সংকলন ‘নির্বাচিত শিখা’—মৌলিক পত্রিকা ও প্রবন্ধাবলির আধুনিক সংস্কার ও সংকলন। এতে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হয়েছে। প্রকাশকের সম্পাদকীয় নোট ও সংকলনকারীর প্রচেষ্টা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনঃপ্রকাশ করেছে। ৭৫ বছর পরে এই সংকলন প্রকাশিত হওয়ায় তা আমাদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে। বিশেষভাবে, মহান ভাষা আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তির সময় প্রকাশ হওয়ায় এটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে।
বাংলার আধুনিকতার যাত্রা নবজাগরণ থেকে মুসলিম সাহিত্য সমাজের ‘শিখা’ পর্যন্ত বিস্তৃত। ইসলামিক চিন্তাশীলতা, সামাজিক উদারতা ও সাহিত্যচর্চার সংমিশ্রণ বাংলার মুসলিম সমাজকে আধুনিকীকরণের পথে নিয়ে যায়। ঢাকা ও কলকাতার সাহিত্যকেন্দ্রিকতা, প্রগতি ও সৃজনশীল উদ্যোগ, নজরুল ইসলামের আবির্ভাব, বেগম রোকেয়ার অবদান—সব মিলিয়ে বাংলার আধুনিক সাহিত্যে সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল ধারা গড়ে ওঠে। ‘শিখা’ গোষ্ঠীর কর্মসূচি ও প্রকাশনা সেই ধারার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, যা আজও বাংলার সাহিত্য ও সামাজিক চিন্তাধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, শুধু ভুভুজেলা নয়, যেকোনো ধরনের বাঁশি, এয়ার হর্ন বা অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে এমন ডিভাইস স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
আজ রকসম্রাট আজম খানের মৃত্যুদিন। বাংলা গানের প্রথা ভাঙা বিপ্লবী আজম খান কেন বেছে নিয়েছিলেন রকের রুক্ষ পথ? সুরের জগতের সেই ‘ঝাঁকি’ আর ‘দোলা’ কি কেবল বিনোদন ছিল, নাকি যুদ্ধফেরত তরুণদের অস্তিত্ব রক্ষার আর্তনাদ?
২০ ঘণ্টা আগে
মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলের ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু প্রশংসিত গ্রন্থের লেখক। এক দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। এই নিবন্ধটি ২০২১ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত বই ‘আইডেন্টিটি অব আ মুসলিম ফ্যা
১ দিন আগে
কবি নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’ প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে ৩৩৪টি সংক্ষিপ্ত অথচ ভাবগভীর কবিতা, যেগুলোকে কবি নাম দিয়েছেন ‘ঝিনুককবিতা’।
২ দিন আগে