ট্রেনে কেটে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত পাঁচ

‘হামার সব শেষ হয়ে গেলে, হামি এখন ক্যামনে বাঁচমো’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ২১: ১০
গাইবান্ধায় একই পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে হামিদুজ্জামানের আহাজারি। স্ট্রিম ছবি

কিছুদিন আগেই ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরেছিলেন দোলা বেগম (৩৫) ও নার্গিস বেগম (৩৫)। ঈদের দুদিন আগে নিজেদের ছেলে-মেয়ে মধ্যে বিয়ে দিয়েছেন। ঈদের আমেজ দ্বিগুণ ছিল দুই পরিবারে। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেয়াইন সঙ্গে ছোট ছেলেসহ কর্মস্থলে ফিরছিলেন নার্গিস। পথে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন তাঁরা। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে অ্যাম্বুলেন্সে তাঁদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক অবস্থা তৈরি হয়। দুই পরিবারে সদস্যদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে আশপাশ।

‘হামার সব শেষ হয়ে গেলে, হামি এখন ক্যামনে বাঁচমো! হামাক তোরা থুয়ে গেলু ক্যা? হামাকো নিয়ে গেলু না ক্যা? হায়রে হামার উপর এমন পরীক্ষা কীসের জন্যি?’ এক সঙ্গে স্ত্রী নার্গিস বেগম, ছেলে নিরব ও ছেলের শাশুড়ি দোলা বেগমকে হারিয়ে এভাবে বিলাপ করছিলেন হামিদুজ্জামান হাম্বু।

গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেন কাটা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের সবার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর নিজপাড়া গ্রামে। রাজধানীর তৈরি পোশাক কারখানায় তাঁরা কাজ করতেন বলে জানান স্থানীয়রা।

দোলা বেগমের একমাত্র মেয়ে নববধূ জুই আক্তার পরিবারের তিন সদস্যের হারিয়ে পাগল প্রায়। মায়ের নিথর মুখ দেখে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। হাত ধরে মাকে বিদায় দিয়েছিলেন। তাঁকে এভাবে আবার বিদায় দিতে হবে বলে মানতে পারছিলেন না। বিলাপের মধ্যে সেই কথাই বলছিলেন তিনি।

প্রতিবেশী হাশেম আলী বলেন, ‘এই বাড়িতে এত আনন্দ ছিল কয়েকদিন আগে এখন দেখেন, শুধু কান্না। আল্লাহ এমন পরীক্ষা আর কাউরে না দিক।’

নার্গিসের খালা লাইলী বেগম বলেন, ‘গাড়ির তেল শেষ না হলে, হামার ময়নারা মরল না হেনে। এই শোক ক্যামনে হামরা শৈববো।’

শুক্রবার দুর্ঘটনায় নিহত এক পরিবারের তিনজন ছাড়া অন্য দুজন হলেন সুলতান মাহমুদ, তাঁর চাচাতো বোন রিফা রেসা (২৪)। পাড়া-প্রতিবেশীরা বলছেন, এর আগে কখনও এত মানুষের এক সঙ্গে মৃত্যু দেখেন নাই তাঁরা। তাই লাশ আনার খবর শুনে ছুটে এসেছেন এক নজর দেখার জন্য।

স্থানীয় ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি) সদস্য মো. শাহাদত হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত মৃত্যুর সাক্ষী আমাদের গ্রাম কখনো হয়নি। তাই আমরা সবাই এ ঘটনায় শোকার্ত।’শনিবার বিকেলে সবার জানান শেষে নিজ এলাকার সামাজিক গোরস্তানে দাফন করা হয়। ইউপি সদস্য শাহাদত জানান, লাশ হস্তান্তরের সময় নিহত প্রত্যেকজনের বাবদ ২৫ হাজার করে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে। লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে আসা প্রশাসনের লোকজনই তা হস্তান্তর করে গেছেন।

সম্পর্কিত