ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা: দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 

ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শুরু হয়নি। মামলার ২৮ আসামির মধ্যে দুই কারাগারে, নয় জামিনে ও বাকি ১৭ জন পলাতক।

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ জানিয়ে নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার বলেন, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শুরু হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে বিচার শেষ হতে আরও কত সময় লাগবে বুঝতে পারছি না। আমরা দ্রুত ন্যায়বিচার চাই।’

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে কয়েক দফা পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। ২৫ সেপ্টেম্বর নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার মুসলিম হলের প্রভোস্ট শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার আবেদন করেন। পরে আদালত দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রথম তদন্ত শেষে শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে ২১ শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। তদন্তে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ঢাবি প্রশাসন অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম আদালতে নতুন অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আগের ২১ এর সঙ্গে আরও সাতজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়।

পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে হলের মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করেন তোফাজ্জল। তিন মিনিটের কিছু বেশি সময় পর তিনি হলের মাঠে যান। সেখানে বসার ৫৭ সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে চোর সন্দেহে মারধর শুরু করেন।

পরে তাকে হলের মূল ভবনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধর করা হয়। পরে তাকে হলের ক্যান্টিনে খাবার দেওয়া হয়। খাওয়া শেষে আবার তাকে মারধর করা হয়। শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তোফাজ্জলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রেদোয়ানুর রহমান, রাশেদ কামাল, আবু রায়হান, মনিরুজ্জামান, আহসান উল্লাহ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন, ওয়াজিবুল আলম ও শেখ রমজান আলী রকি—এই ৯ জন জামিনে আছেন। জালাল মিয়া ও সুমন মিয়া কারাগারে আছেন। বাকি ১৭ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম জানান, পলাতক ১৭ আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি হলে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হবে। এরপর দ্রুত সাক্ষীদের হাজির করে মামলাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। ভুক্তভোগীর পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

মামলার প্রথম বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিটি হাজিরার দিন আদালতে গিয়ে মামলার অগ্রগতির খোঁজ নেওয়া হয়। আমরা দ্রুত বিচার শেষ করে প্রকৃত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত