বিরোধে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ আটকে দিল ইসি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ১১
মমতা ব্যানার্জী। ছবি: আনন্দবাজার
মমতা ব্যানার্জী। ছবি: আনন্দবাজার

প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর এবার জোড়াফুল প্রতীক ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে ভোটে লড়তে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্থগিতাদেশ দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন।

এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জীর হাতে আপাতত থাকছে না দলের প্রতীক জোড়াফুল। মমতার দাবি, প্রায় তিন দশক আগে তিনি নিজে এ প্রতীকের নকশা করেছিলেন।

রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জীর অনুসারীরা।

কমিশন জানায়, তৃণমূলের প্রকৃত নেতৃত্ব কার হাতে, কোন পক্ষকে আসল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে— এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে। দুই পক্ষই ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী কোনো পক্ষের প্রার্থীরাই এখনো জানেন না, তারা কোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

ভাঙনের পর বিরোধ

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দেয়। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন প্রার্থী জয়ী হন। ফল ঘোষণার পরপর দলের অন্যতম নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।

দলের নির্বাচিত ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ঋতব্রতের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের সমর্থন নিয়ে বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা।

এরপর থেকেই তৃণমূলে মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী দুই শিবিরের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে আসছে।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন জানায়, আপাতত কোনো পক্ষকেই আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও কোনো পক্ষ ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে নিজেদের জন্য আলাদা নাম বেছে নিতে হবে। তবে চাইলে সেই নামের সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা যাবে।

একইভাবে জোড়াফুল প্রতীকও কোনো পক্ষ ব্যবহার করতে পারবে না। উপনির্বাচনে দুই পক্ষকে কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে।

তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, এটি তৃণমূলের দলীয় নিয়ন্ত্রণ বা প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

মমতার আঁকা প্রতীক

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ছেড়ে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন মমতা ব্যানার্জী। নতুন দলের পরিচয়ের জন্য তিনি নিজেই একটি প্রতীকের নকশা তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করেন। পরে সেটি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয়।

প্রতীকটিতে সবুজ ঘাসের মধ্যে দুটি ফুল ফুটে থাকতে দেখা যায়। ‘তৃণমূল’ নামের সঙ্গে মিল রেখে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং মাটির কাছাকাছি থাকার রাজনীতির প্রতীক হিসেবে এই নকশা বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে মমতার পক্ষ থেকে বলা হয়।

দল প্রতিষ্ঠার পর প্রায় তিন দশক ধরে জোড়াফুল তৃণমূলের রাজনৈতিক আন্দোলন ও প্রচারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। মমতার জনপ্রিয় স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সঙ্গেও এই প্রতীককে যুক্ত করা হয়। সাধারণ ভোটারের কাছে তৃণমূলের পরিচিতি তৈরিতেও জোড়াফুল প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র: আনন্দবাজার

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত