জ্বলে না মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের অনেক বাতি, চলাচলে আতঙ্ক

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ৫৯
জ্বলে না মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের অনেক বাতি

রাজধানীর মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারে সন্ধ্যা হলেই নামে ভুতুড়ে অন্ধকার। দীর্ঘদিন ধরেই ফ্লাইওভারটির বেশ কিছু সড়কবাতি অকেজো। ফ্লাইওভারের শুরু ও শেষের দিকের বাতিগুলো ঠিকঠাক জ্বললেও মাঝপথে এমন অন্ধকার থাকায় চলাচলে আতঙ্কিত যাত্রী ও চালকরা। আবার এই ফ্লাইওভারে দিনেও কিছু বাতি জ্বলে থাকে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নিয়মিত যাত্রী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলামোটর থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন পর্যন্ত ফ্লাইওভারের অর্ধশতাধিক বাতি জ্বলে না। আবার আবুল হোটেল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত ফ্লাইওভারে অকেজো প্রায় ৩০টি বাতি। আবার সাতরাস্তা মোড় থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস পর্যন্ত পথেও জ্বলে না অধিকাংশ সড়ক বাতি। এসব বাতি না জ্বলাতে পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায় না ফ্লাইওভারে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় চালক ও যাত্রীদের।

আশপাশের বাড়ি কিংবা গাড়ির আলোতেই ভরসা করতে হয় যাত্রী ও চালকদের
আশপাশের বাড়ি কিংবা গাড়ির আলোতেই ভরসা করতে হয় যাত্রী ও চালকদের

ফ্লাইওভার ব্যবহার করা যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আলো না থাকায় প্রায় বিপাকে পড়তে হয় তাঁদের। আলো না থাকায় অনেক সময় ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

এই ফ্লাইওভারে নিয়মিত যাতায়াত করেন রেজাউর রহমান নামে এক চাকরিজীবী। খিলগাঁওয়ের এই বাসিন্দা স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি বাংলামোটর থেকে রাজারবাগ এসে নামি। কিন্তু অনেক দিন ধরেই দেখছি, ফ্লাইওভারের ওপরে অনেকগুলো বাতি নষ্ট। অনেক দিন হয়ে গেলেও বাতিগুলো ঠিক করা হচ্ছে না। কোনো উদ্যোগ নিতেও দেখছি না।’

রেজাউর রহমান আরও বলেন, ‘সবচে অদ্ভূত বিষয় হলো—লাইটগুলো রাতে জ্বলে না। কিন্তু অনেকগুলো আবার দিনেও জ্বলে থাকে’।

আলো না থাকায় অনেক সময় ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা
আলো না থাকায় অনেক সময় ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা

সিনএনজি চালক মোহাম্মদ হাবীব স্ট্রিমকে বলেন, ‘ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা দেখা দেয়। আমরা যারা গাড়ি চালাই, প্রতিদিন এসব দেখতে হয়। গত কয়েকদিন ধরে দেখতেছি, ফ্লাইওভারের লাইটগুলো জ্বলে না। রাস্তা অন্ধকার হয়ে থাকে। ফ্লাইওভারে ওঠার পরে আমাদের একমাত্র ভরসা গাড়ির লাইট। অন্য রাস্তা থেকে হঠাৎ করে অন্ধকার ফ্লাইওভারে উঠলে অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।’

বাসচালক মোজাম্মেল হক স্ট্রিমকে বলেন, ‘আবুল হোটেল থেকে যে ফ্লাইওভারটা কাকরাইলে শেষ হয়, এটা কিন্তু ওয়ানওয়ে। অনেক উঁচা এবং ওপরে একটা মোচড় আছে। এই উঁচুতে দুর্ঘটনার পর কেউ যদি নিচে পড়ে, দুর্ঘটনায় কোনো ক্ষতি না হলেও নিচে পড়ে সে মারাও যেতে পারে। এমন একটা ফ্লাইওভারে লাইট নাই। এটা আমাদের জন্য এবং যে কোনো নাগরিকের জন্য আতঙ্কের।’

আতঙ্কে থাকেন যাত্রী ও চালকরা
আতঙ্কে থাকেন যাত্রী ও চালকরা

দীর্ঘদিন ধরে বাতিগুলো অকেজো থাকলেও এ ব্যাপারে কিছুই জানে না সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘এটা আমাদের নজরে আসেনি। আপনি বললেন, এখন আমরা খোঁজ নিবো। কেন লাইটগুলো নষ্ট হয়েছে, কীভাবে ঠিক করা যাবে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করবো।’

এতদিনেও সিটি করপোরেশনের নজরে কেন আসেনি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়া আমরা সবাই নগরবাসী। কারো নজরে এসব পড়লে আমাদের জানালেই আমরা কাজ শুরু করি। আপনাকে ধন্যবাদ, আমাদের জানানোর জন্য।’

সম্পর্কিত