মো. মাসুম বিল্লাহ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) ১১ জানুয়ারির সভায় নতুন করে এই প্রস্তাব দেয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তিতে ২৬ হাজার ১৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব থেকে ৫৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাদ দিয়ে সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাবনার রূপপুরে প্রায় ৯ বছর ধরে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ শেষেও লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে খোদ পরিকল্পনা কমিশন প্রশ্ন তুলেছে। এত বড় ব্যয়ের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন রাজনৈতিক সরকার দিলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে মনে করে কমিশন।
রূপপুরের মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নেওয়া হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুসারে এটি ২০২৮ সালের জুনে শেষ হবে। মূল ডিপিপিতে ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটি ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যে খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা রাশিয়ার ঋণ সহায়তা; বাকিটা সংস্থান করবে সরকার। মূল ডিপিপিতে ২২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল সরকারের; রাশিয়ার ঋণ সহায়তা ছিল ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ডিপিপি সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কার্যপরিধিতে পরিবর্তন এসেছে। আর প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে এতে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৪০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ সময়ে অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
কেন বাড়ছে ব্যয়
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকালীন বিভিন্ন নতুন বিষয় সামনে এসেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কাজ চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে একটি সেবা চুক্তি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির আলোচনাও চলছে।
নতুন এই খরচের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থের প্রয়োজন হবে। এছাড়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তির শর্তানুসারে রাশিয়ার ঠিকাদারের বিদেশি জনবলের আবাসনের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিননসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত কয়েকটি ভবনসহ নতুনভাবে অধিগ্রহণ করে ৬.০৬ একর জমিতে কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে প্রতি ১ মার্কিন ডলারের দাম ৮০ টাকা হিসেবে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরমধ্যে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। এছাড়া চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ, কাস্টমস ডিউটি (সিডি), ভ্যাটসহ অনুমোদিত ডিপিপির কয়েকটি খাতে বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে।
প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ডিপিপি প্রস্তাবনায় অনুমোদিত ডিপিপির মোট ৩৮টি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প হওয়ায় অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা ছিল। যে কারণে মূল ডিপিপির বেশিরভাগ কাজ, সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) থেকে প্রাপ্ত কারিগরি, পরামর্শমূলক বা তদারকি-সংক্রান্ত সেবা, বিক্রেতা (ভেন্ডর) ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহসহ বিভিন্ন নতুন বিষয় সামনে এসেছে, যে কারণে অনুমোদিত বরাদ্দে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে মোট ১০টি নতুন অঙ্গে বরাদ্দের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব খাতে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জেএসসি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। এতে দুই দেশের যৌথ সমন্বয় কমিটির (জেসিসি) সভায় করোনা মহামারির প্রভাব, রুশ-ইউক্রেনের যুদ্ধের মতো পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি বিবেচনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ ও ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ৩০ নভেম্বর পিইসি সভায় আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঋণচুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জেসিসি কমিটির সভায় ঋণচুক্তির সঙ্গে মিল রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়াতে জেনারেল কন্ট্রাক্টের অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রাথমিক হস্তান্তর সময়সীমা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত ডিপিপিতে নতুন করে নির্ধারণ করা প্রাথমিক হস্তান্তরের তারিখের ভিত্তিতে জেনারেল কন্ট্রাক্টের নির্ধারিত কার্যাবলী এবং প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে নির্মাণব্যয়ের অর্থ পরিশোধ করতে সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে নানাভাবে অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল প্রকল্পটির বিরুদ্ধে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় বালিশকাণ্ড একটি আলোচিত বিষয়। অস্বাভাবিক মূল্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে। নানা সময়ে প্রকল্পটির দুর্নীতির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে।
বালিশকাণ্ডে অভিযোগ ছিল, একটি বালিশ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, খাটে তোলার মজুরি ৭৬০ টাকা, কমফোর্টার ১৬,৮০০ টাকা আর বিদেশি চাদর প্রায় ৬,০০০ টাকায় কেনা হয়েছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক দাম দৃশ্যপটে আসায় দুদক প্রায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগে দুই ঠিকাদার ও গণপূর্তের ১১ প্রকৌশলীসহ ১৩ জনকে আসামি করে চারটি মামলা করেছিল। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও সেই তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এরইমধ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় । এ ব্যয় বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।
যদিও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে জানিয়েছেন।
কমিশনে কোনো প্রস্তাব এলে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সেটি যাচাই-বাছাই করে ছাড়পত্র দেয়। এরপর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সেটি তোলা। সাধারণত একটি পিইসি সভায় কোনো প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রণয়নের কাজ হয়। কিন্তু বড় প্রকল্প এবং অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকায় দফায় দফায় পিইসি সভা করেও সমাধানে আসতে পারছে না কমিশন।
প্রথম দফায় গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্পটি একনেকে পাঠানোর বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানানো হয়, প্রকল্পটিতে উচ্চ সুদের বিদেশি ঋণ রয়েছে। তাই তাড়াহুড়া করে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে তবেই এটির অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। প্রায় চার ঘণ্টা সভা করেও শেষে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে আরও একাধিক পিইসি সভা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের ওই সভার পর প্রকল্পটির ব্যয় যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নেয় বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়। তারা পর্যালোচনা করে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় কমিয়ে নতুন করে পিইসি সভার প্রস্তাব পাঠায় পরিকল্পনা কমিশনে। ওই প্রস্তাবের ওপর ১১ জানুয়ারি ফের পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এখনও প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে নানা অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। যার মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধির কথা বলে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব, সংশোধনী প্রস্তাবে আর্থিক ও অর্থনৈতিক হিসাব সঠিকভাবে তুলে না ধরা এবং অবকাঠামো নির্মাণে প্রাক্কলন ব্যয় সেটি সরকারের বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া। যে কারণে প্রকল্পটি একনেকে পাঠানোর আগে অধিকতর যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। সে জন্য আরও পিইসি সভা করার প্রস্তাব রেখে সভা শেষ করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও তাড়াহুড়া করে অনুমোদন করিয়ে নিতে চাইছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একনেক সভা ও প্রকল্প অনুমোদনের সংখ্যা কমানো হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তফসিল ঘোষণার পরই নতুন প্রকল্প অনুমোদন এবং প্রকল্প সংশোধনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়া কমিশন মনে করে, এত বড় ব্যয়ের সংশোধনী প্রস্তাব রাজনৈতিক সরকার অনুমোদন দিলে বেশি যুক্তিযুক্ত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘খরচ বাড়ছে না বরং কমেছে। ২২ হাজার কোটি টাকা ছিল সরকারের তরফ থেকে, সেটা আরও ১৬০ বা ১৭০ কোটি টাকা কমেছে।’
ডলারের দাম বাড়ায় টাকার অঙ্ক কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে এই সচিব বলেন, প্রকল্পের শুরুতে ডলারের মূল্য ছিল ৮০ টাকা, এখন ১২৪ টাকা। আর যখন ডিপিপির প্রথম সংশোধনীতে যাচ্ছি, তখন ডলারের মূল্য বেড়েছে। আর কিছু না।
দেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে ঋণের ফাঁদে পড়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ খাত একধরনের ঋণ ফাঁদে পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়া কষ্টকর। এই বাড়তি অর্থ চাহিদা, যৌক্তিকতার কারিগরি পর্যালোচনা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগের সরকারের সময় যখন প্রকল্প শুরু হয়েছিল, তখন এর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সে ব্যয় কয়েক ধাপে সেই সরকারের সময়ই বাড়ানো হয়েছিল। ’
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সরকারের উচিত এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ খাতের জন্য আগামী পাঁচ বছরের আর্থিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া। খাতটিকে কীভাবে টেকসই করা যাবে এবং ঋণের বোঝা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে—সেদিকে নজর দেওয়া। নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে অগ্রাধিকার না দেওয়া।’
এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ রেটেরও একটি প্রক্ষেপণ থাকে। দুর্ভাগ্য যে আমাদের ক্ষেত্রে টাকার দ্রুত অবমূল্যায়ন হয়েছে, যার চাপ এখন বহন করতে হচ্ছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রূপপুর নিয়ে এখন একটা জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এটি নির্মাণের সময় থেকে আমাদের প্রতিদিনই ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটা আমাদের ওপর বাড়তি একটা চাপ। বিলম্বের কারণেই ২৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচের কথা বলা হচ্ছে। তিন বছর আগে বাস্তবায়ন হলে খরচটা হয়তো অর্ধেকে নামত।’
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এটার অর্থনৈতিক চুক্তিতে কী আছে, কেন অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে—এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করতে হবে। যদি দ্রুতই এটির সমাধান করতে না পারি, তাহলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) ১১ জানুয়ারির সভায় নতুন করে এই প্রস্তাব দেয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তিতে ২৬ হাজার ১৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব থেকে ৫৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাদ দিয়ে সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাবনার রূপপুরে প্রায় ৯ বছর ধরে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ শেষেও লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে খোদ পরিকল্পনা কমিশন প্রশ্ন তুলেছে। এত বড় ব্যয়ের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন রাজনৈতিক সরকার দিলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে মনে করে কমিশন।
রূপপুরের মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নেওয়া হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুসারে এটি ২০২৮ সালের জুনে শেষ হবে। মূল ডিপিপিতে ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটি ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যে খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা রাশিয়ার ঋণ সহায়তা; বাকিটা সংস্থান করবে সরকার। মূল ডিপিপিতে ২২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল সরকারের; রাশিয়ার ঋণ সহায়তা ছিল ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ডিপিপি সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কার্যপরিধিতে পরিবর্তন এসেছে। আর প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে এতে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৪০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ সময়ে অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
কেন বাড়ছে ব্যয়
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকালীন বিভিন্ন নতুন বিষয় সামনে এসেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কাজ চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে একটি সেবা চুক্তি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির আলোচনাও চলছে।
নতুন এই খরচের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থের প্রয়োজন হবে। এছাড়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তির শর্তানুসারে রাশিয়ার ঠিকাদারের বিদেশি জনবলের আবাসনের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিননসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত কয়েকটি ভবনসহ নতুনভাবে অধিগ্রহণ করে ৬.০৬ একর জমিতে কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে প্রতি ১ মার্কিন ডলারের দাম ৮০ টাকা হিসেবে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল। এরমধ্যে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। এছাড়া চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ, কাস্টমস ডিউটি (সিডি), ভ্যাটসহ অনুমোদিত ডিপিপির কয়েকটি খাতে বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে।
প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ডিপিপি প্রস্তাবনায় অনুমোদিত ডিপিপির মোট ৩৮টি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প হওয়ায় অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা ছিল। যে কারণে মূল ডিপিপির বেশিরভাগ কাজ, সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) থেকে প্রাপ্ত কারিগরি, পরামর্শমূলক বা তদারকি-সংক্রান্ত সেবা, বিক্রেতা (ভেন্ডর) ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহসহ বিভিন্ন নতুন বিষয় সামনে এসেছে, যে কারণে অনুমোদিত বরাদ্দে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে মোট ১০টি নতুন অঙ্গে বরাদ্দের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব খাতে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জেএসসি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। এতে দুই দেশের যৌথ সমন্বয় কমিটির (জেসিসি) সভায় করোনা মহামারির প্রভাব, রুশ-ইউক্রেনের যুদ্ধের মতো পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি বিবেচনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ ও ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ৩০ নভেম্বর পিইসি সভায় আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঋণচুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জেসিসি কমিটির সভায় ঋণচুক্তির সঙ্গে মিল রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়াতে জেনারেল কন্ট্রাক্টের অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রাথমিক হস্তান্তর সময়সীমা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত ডিপিপিতে নতুন করে নির্ধারণ করা প্রাথমিক হস্তান্তরের তারিখের ভিত্তিতে জেনারেল কন্ট্রাক্টের নির্ধারিত কার্যাবলী এবং প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে নির্মাণব্যয়ের অর্থ পরিশোধ করতে সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্প মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে নানাভাবে অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল প্রকল্পটির বিরুদ্ধে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় বালিশকাণ্ড একটি আলোচিত বিষয়। অস্বাভাবিক মূল্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে। নানা সময়ে প্রকল্পটির দুর্নীতির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে।
বালিশকাণ্ডে অভিযোগ ছিল, একটি বালিশ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, খাটে তোলার মজুরি ৭৬০ টাকা, কমফোর্টার ১৬,৮০০ টাকা আর বিদেশি চাদর প্রায় ৬,০০০ টাকায় কেনা হয়েছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক দাম দৃশ্যপটে আসায় দুদক প্রায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগে দুই ঠিকাদার ও গণপূর্তের ১১ প্রকৌশলীসহ ১৩ জনকে আসামি করে চারটি মামলা করেছিল। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও সেই তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এরইমধ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় । এ ব্যয় বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।
যদিও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে জানিয়েছেন।
কমিশনে কোনো প্রস্তাব এলে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সেটি যাচাই-বাছাই করে ছাড়পত্র দেয়। এরপর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সেটি তোলা। সাধারণত একটি পিইসি সভায় কোনো প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রণয়নের কাজ হয়। কিন্তু বড় প্রকল্প এবং অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকায় দফায় দফায় পিইসি সভা করেও সমাধানে আসতে পারছে না কমিশন।
প্রথম দফায় গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্পটি একনেকে পাঠানোর বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানানো হয়, প্রকল্পটিতে উচ্চ সুদের বিদেশি ঋণ রয়েছে। তাই তাড়াহুড়া করে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে তবেই এটির অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। প্রায় চার ঘণ্টা সভা করেও শেষে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে আরও একাধিক পিইসি সভা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের ওই সভার পর প্রকল্পটির ব্যয় যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নেয় বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়। তারা পর্যালোচনা করে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় কমিয়ে নতুন করে পিইসি সভার প্রস্তাব পাঠায় পরিকল্পনা কমিশনে। ওই প্রস্তাবের ওপর ১১ জানুয়ারি ফের পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এখনও প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে নানা অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। যার মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধির কথা বলে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব, সংশোধনী প্রস্তাবে আর্থিক ও অর্থনৈতিক হিসাব সঠিকভাবে তুলে না ধরা এবং অবকাঠামো নির্মাণে প্রাক্কলন ব্যয় সেটি সরকারের বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া। যে কারণে প্রকল্পটি একনেকে পাঠানোর আগে অধিকতর যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। সে জন্য আরও পিইসি সভা করার প্রস্তাব রেখে সভা শেষ করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও তাড়াহুড়া করে অনুমোদন করিয়ে নিতে চাইছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একনেক সভা ও প্রকল্প অনুমোদনের সংখ্যা কমানো হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তফসিল ঘোষণার পরই নতুন প্রকল্প অনুমোদন এবং প্রকল্প সংশোধনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়া কমিশন মনে করে, এত বড় ব্যয়ের সংশোধনী প্রস্তাব রাজনৈতিক সরকার অনুমোদন দিলে বেশি যুক্তিযুক্ত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘খরচ বাড়ছে না বরং কমেছে। ২২ হাজার কোটি টাকা ছিল সরকারের তরফ থেকে, সেটা আরও ১৬০ বা ১৭০ কোটি টাকা কমেছে।’
ডলারের দাম বাড়ায় টাকার অঙ্ক কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে এই সচিব বলেন, প্রকল্পের শুরুতে ডলারের মূল্য ছিল ৮০ টাকা, এখন ১২৪ টাকা। আর যখন ডিপিপির প্রথম সংশোধনীতে যাচ্ছি, তখন ডলারের মূল্য বেড়েছে। আর কিছু না।
দেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে ঋণের ফাঁদে পড়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ খাত একধরনের ঋণ ফাঁদে পড়েছে, যেখান থেকে বের হওয়া কষ্টকর। এই বাড়তি অর্থ চাহিদা, যৌক্তিকতার কারিগরি পর্যালোচনা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগের সরকারের সময় যখন প্রকল্প শুরু হয়েছিল, তখন এর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সে ব্যয় কয়েক ধাপে সেই সরকারের সময়ই বাড়ানো হয়েছিল। ’
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সরকারের উচিত এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ খাতের জন্য আগামী পাঁচ বছরের আর্থিক পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া। খাতটিকে কীভাবে টেকসই করা যাবে এবং ঋণের বোঝা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে—সেদিকে নজর দেওয়া। নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে অগ্রাধিকার না দেওয়া।’
এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ রেটেরও একটি প্রক্ষেপণ থাকে। দুর্ভাগ্য যে আমাদের ক্ষেত্রে টাকার দ্রুত অবমূল্যায়ন হয়েছে, যার চাপ এখন বহন করতে হচ্ছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রূপপুর নিয়ে এখন একটা জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এটি নির্মাণের সময় থেকে আমাদের প্রতিদিনই ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটা আমাদের ওপর বাড়তি একটা চাপ। বিলম্বের কারণেই ২৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচের কথা বলা হচ্ছে। তিন বছর আগে বাস্তবায়ন হলে খরচটা হয়তো অর্ধেকে নামত।’
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এটার অর্থনৈতিক চুক্তিতে কী আছে, কেন অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে—এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করতে হবে। যদি দ্রুতই এটির সমাধান করতে না পারি, তাহলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

ময়মনসিংহে একটি স্টিলের ল্যাম্পপোস্ট কেটে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেছে দুই যুবকের। তারা হলেন নগরীর মাদ্রাসা কোয়ার্টার এলাকার হৃদয় মিয়া (২৭) ও আকুয়া এলাকার মো. রাকিব মিয়া (৩২)।
২৩ মিনিট আগে
খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর প্রভাবাধীন ভোটব্যাংক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দেখে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।
৩৪ মিনিট আগে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সঙ্গে পৃথক পৃথক সময় বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯টি দেশের ১১ কূটনীতিক। বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে খুনি হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা এখন একটি নতুন সময়ে উপস্থিত হয়েছি, যেখানে ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই হারানো চলবে না।
১ ঘণ্টা আগে