ফাবিহা বিনতে হক

রমজান মাসের মাঝমাঝি সময়ে চারদিকে যেন বেজে ওঠে ঈদের আগমনী বার্তা। দোকানে দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় জানান দেয় ঈদ আসলো বলে। কিন্তু এই চাকচিক্য আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ভিড়ে সমাজের একটি শ্রেণি যেন কিছুটা নীরব হয়েই ঘুরে বেড়ায়। এই নীরবতার সঙ্গে যোগ হয় অনিশ্চয়তাও। পারবো তো এবারের ঈদে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে?
ঈদ আসলে এমন অনিশ্চিত অবস্থার ভেতর পড়তে হয় বাংলাদেশের অনেক পরিবারকেই। আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় বন্ধুবান্ধবদের প্রায় সবাই রোজার শুরুতেই ঈদের কেনাকাটা করে ফেলত। শুধু পোশাক নয়, ঈদের জুতা, সাজসজ্জার সরঞ্জাম সবই কেনা শেষ। কিন্তু ঈদে আমি কোনো জামা কিনব, শখের জুতোটা কিনতে পারবো কি-না তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করতো মনে। তবে একটু দেরিতে হলেও ঈদের জামা-জুতো সবই পেতাম। বড় হওয়ার পরে বুঝতে পারি, ঈদে নতুন জামা কবে পাবো তা নিয়ে আমি যতটা না দুশ্চিন্তায় ছিলাম, তার চেয়েও বেশি চিন্তিত ছিলেন আমার সীমিত আয়ের চাকরি করা বাবা-মা।

সমাজের উচ্চবিত্তরা যখন রমজানের শুরুতেই দামি ব্র্যান্ডের পোশাক কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন, মধ্যবিত্ত তখন হিসাব মেলাতে বসেন মাসের খরচের। বেসরকারি হাইস্কুলের শিক্ষিকা কোহিনুরের গল্পটা ঠিক এমনই। চারপাশের মানুষ যখন কোথায় শপিং করবে, কাকে কী উপহার দেবে, তা নিয়ে চিন্তা করছেন, শিক্ষিকা কোহিনুর তখনও অপেক্ষায় আছেন ঈদ বোনাসের।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘ঈদের বোনাস হাতে পাওয়া ছাড়া শপিং শুরু করার কোনো উপায়ই নেই। সারা বছর তো আর সেভাবে সুযোগ হয় না, ঈদেই পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে কিছু দেওয়ার সুযোগ আসে। তাই বাজেটে টানাপোড়েন থাকলেও সবাইকে ঈদে উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করার নামই তো ঈদ।’

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দায়িত্ব হয়তো কমে, কিন্তু উৎসবের দিনে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের দিকেই সবাই তাকিয়ে থাকে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কামাল চৌধুরির কাছে ঈদের সময়টা তাই মিশ্র অনুভূতির। একদিকে নাতি-নাতনিদের কোলাহল, অন্যদিকে সীমিত আয়ে মাস চালানোর দুশ্চিন্তা। জিনিসপত্রের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে মাসের নির্দিষ্ট অবসরভাতার টাকা দিয়ে নিত্যদিনের খরচ চালাতেই তাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
এ বিষয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘অবসরভাতা দিয়ে নিজেরই চলতে ভীষণ কষ্ট হয়, সেখানে শপিং করার বিষয়টি কিছুটা চাপের তো বটেই। ঈদ তো আনন্দের উৎসব, তাই সব হিসাব-নিকাশ একপাশে সরিয়ে রেখে সবার সঙ্গে আনন্দে থাকারই চেষ্টা করি।’
একটি নামকরা ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি মিজানও এই কঠিন বাস্তবতার বাইরে নন। পেশাগত কারণে সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা। শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় চোখ এড়ায় না তাঁর। কিন্তু দিন শেষে যখন নিজের সংসারের হিসাব করতে বসেন, তখন বাস্তবতার তেতো রূপটি তার সামনে ধরা দেয়।
মিজান বলেন, ‘যেহেতু খুব স্বাচ্ছন্দ্য করার মতো উপার্জন আমার নেই, তাই পরিবারের সবাইকে পুরোপুরি খুশি করার জায়গাটায় কিছুটা ঘাটতি থেকেই যায়। তাই চেষ্টা করি, সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ অর্জন করার।’
অর্থাৎ, যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এক নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যান এই পরিবারের কর্তারা।
ঈদ মানেই আসলেই কার জামা কত দামি হবে, ঈদে কয়টি জামা কেনা হয়েছে তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় সোশাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে ঈদের পরে একেকদিন একেক পোশাক পরে ঈদ ডে-১, ঈদ ডে-২ ক্যাপশন দিয়ে ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে ছবি আপলোড করার চল শুরু হয়েছে কিছুদিন হলো।
এ বিষয়ে কিছুটা বিরক্ত গৃহিনী আনোয়ারা বেগম। চল্লিশোর্ধ আনোয়ারা বেগম ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও ঈদের সময় বাচ্চাদের একটা করে নতুন পোশাক দিতাম। বড়জোর দুটো। কিন্তু আজকাল বাচ্চারা কিছুতেই একটি পোশাকে খুশি নয়। তাদের নাকি একেকদিন একেক পোশাক পরে ফটোসেশন করতে হবে। এমন অবস্থা কিছুদিন আগেও ছিল না।’
তাঁর মতে, এই প্রতিযোগিতা মধ্যবিত্তের জীবনকে একপ্রকার দুর্বিষহ করে তোলে। সন্তানের কাছে বাবার, স্ত্রীর কাছে স্বামীর কিংবা ছোট ভাইবোনের কাছে বড়দের একটা দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। ঈদের দিন সকালে কার পোশাক কত দামি, কে কোন ব্র্যান্ডের জুতো—এসব প্রশ্নের আড়ালে ঈদের নির্মল আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। এই সামাজিক চাপ মধ্যবিত্তের আনন্দকে অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছে। রোজার ঈদ যেন সামাজিক স্ট্যাটাস প্রদর্শনের হাতিয়ার না হয়।

রমজান মাসের মাঝমাঝি সময়ে চারদিকে যেন বেজে ওঠে ঈদের আগমনী বার্তা। দোকানে দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় জানান দেয় ঈদ আসলো বলে। কিন্তু এই চাকচিক্য আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ভিড়ে সমাজের একটি শ্রেণি যেন কিছুটা নীরব হয়েই ঘুরে বেড়ায়। এই নীরবতার সঙ্গে যোগ হয় অনিশ্চয়তাও। পারবো তো এবারের ঈদে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে?
ঈদ আসলে এমন অনিশ্চিত অবস্থার ভেতর পড়তে হয় বাংলাদেশের অনেক পরিবারকেই। আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় বন্ধুবান্ধবদের প্রায় সবাই রোজার শুরুতেই ঈদের কেনাকাটা করে ফেলত। শুধু পোশাক নয়, ঈদের জুতা, সাজসজ্জার সরঞ্জাম সবই কেনা শেষ। কিন্তু ঈদে আমি কোনো জামা কিনব, শখের জুতোটা কিনতে পারবো কি-না তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করতো মনে। তবে একটু দেরিতে হলেও ঈদের জামা-জুতো সবই পেতাম। বড় হওয়ার পরে বুঝতে পারি, ঈদে নতুন জামা কবে পাবো তা নিয়ে আমি যতটা না দুশ্চিন্তায় ছিলাম, তার চেয়েও বেশি চিন্তিত ছিলেন আমার সীমিত আয়ের চাকরি করা বাবা-মা।

সমাজের উচ্চবিত্তরা যখন রমজানের শুরুতেই দামি ব্র্যান্ডের পোশাক কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন, মধ্যবিত্ত তখন হিসাব মেলাতে বসেন মাসের খরচের। বেসরকারি হাইস্কুলের শিক্ষিকা কোহিনুরের গল্পটা ঠিক এমনই। চারপাশের মানুষ যখন কোথায় শপিং করবে, কাকে কী উপহার দেবে, তা নিয়ে চিন্তা করছেন, শিক্ষিকা কোহিনুর তখনও অপেক্ষায় আছেন ঈদ বোনাসের।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘ঈদের বোনাস হাতে পাওয়া ছাড়া শপিং শুরু করার কোনো উপায়ই নেই। সারা বছর তো আর সেভাবে সুযোগ হয় না, ঈদেই পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে কিছু দেওয়ার সুযোগ আসে। তাই বাজেটে টানাপোড়েন থাকলেও সবাইকে ঈদে উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করার নামই তো ঈদ।’

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দায়িত্ব হয়তো কমে, কিন্তু উৎসবের দিনে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের দিকেই সবাই তাকিয়ে থাকে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কামাল চৌধুরির কাছে ঈদের সময়টা তাই মিশ্র অনুভূতির। একদিকে নাতি-নাতনিদের কোলাহল, অন্যদিকে সীমিত আয়ে মাস চালানোর দুশ্চিন্তা। জিনিসপত্রের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে মাসের নির্দিষ্ট অবসরভাতার টাকা দিয়ে নিত্যদিনের খরচ চালাতেই তাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
এ বিষয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘অবসরভাতা দিয়ে নিজেরই চলতে ভীষণ কষ্ট হয়, সেখানে শপিং করার বিষয়টি কিছুটা চাপের তো বটেই। ঈদ তো আনন্দের উৎসব, তাই সব হিসাব-নিকাশ একপাশে সরিয়ে রেখে সবার সঙ্গে আনন্দে থাকারই চেষ্টা করি।’
একটি নামকরা ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি মিজানও এই কঠিন বাস্তবতার বাইরে নন। পেশাগত কারণে সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা। শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় চোখ এড়ায় না তাঁর। কিন্তু দিন শেষে যখন নিজের সংসারের হিসাব করতে বসেন, তখন বাস্তবতার তেতো রূপটি তার সামনে ধরা দেয়।
মিজান বলেন, ‘যেহেতু খুব স্বাচ্ছন্দ্য করার মতো উপার্জন আমার নেই, তাই পরিবারের সবাইকে পুরোপুরি খুশি করার জায়গাটায় কিছুটা ঘাটতি থেকেই যায়। তাই চেষ্টা করি, সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ অর্জন করার।’
অর্থাৎ, যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এক নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যান এই পরিবারের কর্তারা।
ঈদ মানেই আসলেই কার জামা কত দামি হবে, ঈদে কয়টি জামা কেনা হয়েছে তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় সোশাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে ঈদের পরে একেকদিন একেক পোশাক পরে ঈদ ডে-১, ঈদ ডে-২ ক্যাপশন দিয়ে ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে ছবি আপলোড করার চল শুরু হয়েছে কিছুদিন হলো।
এ বিষয়ে কিছুটা বিরক্ত গৃহিনী আনোয়ারা বেগম। চল্লিশোর্ধ আনোয়ারা বেগম ঢাকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও ঈদের সময় বাচ্চাদের একটা করে নতুন পোশাক দিতাম। বড়জোর দুটো। কিন্তু আজকাল বাচ্চারা কিছুতেই একটি পোশাকে খুশি নয়। তাদের নাকি একেকদিন একেক পোশাক পরে ফটোসেশন করতে হবে। এমন অবস্থা কিছুদিন আগেও ছিল না।’
তাঁর মতে, এই প্রতিযোগিতা মধ্যবিত্তের জীবনকে একপ্রকার দুর্বিষহ করে তোলে। সন্তানের কাছে বাবার, স্ত্রীর কাছে স্বামীর কিংবা ছোট ভাইবোনের কাছে বড়দের একটা দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। ঈদের দিন সকালে কার পোশাক কত দামি, কে কোন ব্র্যান্ডের জুতো—এসব প্রশ্নের আড়ালে ঈদের নির্মল আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। এই সামাজিক চাপ মধ্যবিত্তের আনন্দকে অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছে। রোজার ঈদ যেন সামাজিক স্ট্যাটাস প্রদর্শনের হাতিয়ার না হয়।

সাহিত্য সমালোচকদের মতে, ফররুখ আহমদ কাব্যের মাধ্যমে ইসলামি ভাবধারাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি রাষ্ট্রের কোনো আনুকূল্য পাননি। বরং তাঁকে শিকার হতে হয়েছে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিহিংসার। তবুও ক্ষুরধার কলম থেমে থাকেনি।
১২ ঘণ্টা আগে
বরফভাঙা জাহাজে টানা আট দিনের এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় তাঁরা ৮২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ অতিক্রম করেন। উত্তাল সমুদ্র আর কনকনে ঠান্ডার মাঝে ‘বরফের জঙ্গল’ পেরিয়ে তাঁরা বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
আজ ৯ জুন, আন্তর্জাতিক আর্কাইভস দিবস। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারকগুলো সংরক্ষণের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। মূলত প্রাচীন নথি, দলিলাদি এবং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের মানুষের কাছে রাজনীতি অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়। রাষ্ট্রের বিন্যাস আর গঠনকাঠামো বুঝতে চাওয়া পাঠকের সংখ্যা প্রচুর। এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়। তবে বিগত কয়েক দশকে রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই বিশেষ বিষয়কেন্দ্রিক বই প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক স
২ দিন আগে